নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর বারেক বিল্ডিং গোসাইলডাঙ্গা শান্তি পুকুর পাড় বি. নাগ লেইন এলাকায় ৮২০ বর্গফুট জায়গায় তিনতলা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
অথচ ওই জায়গায় যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা নেই। অন্য বাড়ির ছাদের নিচ হয়ে যেতে হয় ওই জায়গায়।
এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। এসব না মেনেই অবিশ্বাস্য দ্রুততায় প্ল্যান দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের পরও আইনগত পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করছে সিডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা যায়, নগরীর আগ্রাবাদের বারিক বিল্ডিং এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ৮২০ বর্গফুট জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। কাজ করা হচ্ছে রাত দিন। স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে সিডিএ থেকে কাজ বন্ধ রেখে নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য লিখিত নোটিশ দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। সিডিএ থেকেও নেওয়া হচ্ছে না আইনগত পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ। যেনো নোটিশ দিয়েই লোক দেখানো দায়িত্ব শেষ করেছে সিডিএ। ফলে দিন রাত সমানে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত ভবন মালিক।
আজ শনিবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সিডিএ’র পরিদর্শক মো. তাহের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে বাড়ির কাউকে না পেয়ে চলে আসার সময় বাড়ির মালিক কৃষ্ণ পদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মিহির, সুনিলসহ একটি দল চড়াও হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আসার কারণ নিয়ে অপদস্ত করে পরিদর্শককে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এ সময় নানা ধরনের ভয়-হুমকি প্রদর্শন করা হয়।
সিডিএ’র পরিদর্শক মো. তাহের এ প্রসঙ্গে সিপ্লাসকে জানান, অপদস্তের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলকে জানিয়ে আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ২ কাঠা বা এর নিচের পরিমাণ জমিতে বাড়ি বা আবাসিক হোটেল নির্মাণে জমি ছাড়তে হয় ৩০ ভাগ। আর বাকি ৭০ ভাগে ভবন নির্মাণ করা যাবে। সেই হিসেবে ২৪৬ বর্গফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখার নিয়ম। এছাড়া সিডিএর অনুমোদিত প্ল্যানে ৪৫০ বর্গফুট জায়গায় বাড়ি নির্মানের অনুমতি দিলেও সেই নিয়ম মানা হয়নি। অবশিষ্ট রাখা হয়নি এক ফুট জায়গাও। কোনো ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে চলাচলের রাস্তা থাকার বিষয়টি বাধ্যতামূলক। কারণ জরুরি মূহুর্তে মরদেহ পরিবহন ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচল যেনো করতে পারে। এসব নিয়মের কোনোকিছুই মানা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ সভাপতি স্থপতি জেরিন হোসেন বলেন, আমরা এসব বিষয়গুলো নিয়ে বারবার তাগাদা দিলেও সিডিএর কর্তাব্যক্তিরা কর্ণপাত করেন না। সব অনিয়ম এখন তাদের কাছে নিয়মে পরিণত হয়েছে। চলাচলের রাস্তা নেই এমন একটি ছোট্ট জায়গায় তিনতলা ভবনের প্ল্যান অনুমোদন সেই কথাই প্রমাণ করে।
নোটিশ দেওয়ার কথা স্বীকার করে সিডিএর অথরাইজেশন কর্মকর্তা মো. হাসান বলেন, জায়গার মালিক নিশ্চয় তথ্য গোপন করে প্ল্যান অনুমোদন নিয়েছেন। তাই আমরা নোটিশ দিয়ে কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। বলেছি অনুমোদিত প্ল্যান ও স্বপক্ষে কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু তিনি আসেননি। তাই আমরা আইনগত কঠোর পদক্ষেপ নেবো। প্রয়োজনে প্ল্যান বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন অথরাইজেশন কর্মকর্তা।
তবে অভিযুক্ত কৃষ্ণ পদ চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার জায়গায় ঘর করছি সিডিএর অনুমোদন নিয়ে। এখন কারো প্ররোচনায় সিডিএর কাজ বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া বেআইনী। তারা প্ল্যান দেওয়ার সময় কেনো এসব কাগজপত্র যাচাই করেনি। এসব আমাকে হয়রানি ছাড়া কিছুই নয়।









