মো: মহিন উদ্দীন: কোরবানির বাকি আর মাত্র ৬ দিন। এখনও জমে উঠেনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এর স্থায়ী ও অস্থায়ী ৬টি পশুরহাট। তবে অনলাইনের দিকে ঝুকছেন অনেক ক্রেতা আর বিক্রেতা এমন চিত্র দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সরেজমিনে বিবিরহাট স্থায়ী পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়, নেই ক্রেতা, আবার তেমন গরু ও ছাগল নেই চোখে পড়ারমত। কিছু ব্যাপারীরা গরু ও ছাগল নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। এসময় কয়েকজন ব্যাপারীর সাথে কথা হয় সিপ্লাসের প্রতিবেদকের।
তারা জানান, করোনার কঠোর লকডাউনের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবার তেমন গরু আনা যায়নি। তারপরও বাড়তি গাড়ি ভাড়া দিয়ে অনেক গরু কিনেছি। তা আসার পথে। কিন্তু এর মধ্যে আবার অনেকেই নাকি অনলাইনে গরু বিক্রি শুরু করেছে এমন কথা শুনছি। কিভাবে করতে হয় তা তো আমরা জানি না। যার কারণে ধনীরা এখন করোনার মাঝে বাজারে ভিড় করছে না। তারা অনলাইন থেকে কিনে নিচ্ছে।
লোকসানের শঙ্কা নিয়ে গরু ব্যাপারীরা সিপ্লাসকে বলেন,অনলাইনে পশু বেচাকেনার কারণে এবার ধনীরা বাজারে ভিড় করে পশু কিনতে আসার সম্ভাবনা কমে যাবে। কারণ তারা মরণকে ভয় পায়। যদিও করোনার প্রার্দুভাব এখন বেড়ে গেছে। তার জন্য ধনীরা এবার বাজারে আসে কিনা তার শঙ্কা এখনও কাটছে না। কঠোর লকডাউনের কারণে এবার একটু বেশি দামে গরু কিনেছি। তার মধ্যে বাড়তি গাড়ি ভাড়াও লেগেছে। এরপরও যদি গরু বিক্রি করতে পারি তাহলে লোকসানের ক্ষতিটা কিছুটা লাগব হবে। তারমধ্যে এবার অনেক প্রবাসী আর ব্যবসায়ীরা কোরবানি করতে পারে কিনা সন্দেহ। কারণ তাদের অবস্থাও ভাল না।
ব্যাপারীদের সাথে কথা বলতেই দেখা মিলে কয়েকজন ক্রেতার। এসময় কথা হয় ক্রেতা পারভেজ ও আলম চৌধুরী নামে দুই ব্যক্তির সাথে। তারা এসেছেন গরু কিনতে। অনেক ঘুরাঘুরি শেষে একটি ষাড় কিনেছেন তারা। দাম কেমন জানতে চাইলে তারা বলেন খুবই চড়া দাম। গত বছর এই সাইজের গরু কিনেছি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিন্তু এবার সে গরুর দাম হল ৭০ হাজার টাকা। তারপরও গরুটি পছন্দ হয়েছে সে জন্য দাম বেশি হলেও কিনেছি। দেশের কথা কি বলব? সারা বিশ্বেই করোনার যে তান্ডব তার প্রভাব পড়েছে প্রতিটি সেক্টরে। মানুষের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয় পর্যায়ে এসে পড়েছে। কেবল সরকারী চাকুরীজীবি ও আমলারাই ভাল অবস্থানে আছেন।
তরণ উদ্যোক্তা মির্জা শাওন ইমতিয়াজ,প্রবাসী আলাউদ্দীন আরিফ ও মান্নান, ব্যবসায়ী কুতুব উদ্দীন ও নারায়ণ গোস্বামী, তরুণ ব্যাংকার নুরুল করিম তারেক ও আব্দুল আউয়াল রোকন এবং ঠিকাদার নকিব হোসাইন চৌধুরী সিপ্লাসকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে গোটা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ হারিয়েছেন। অনেকে নতুন করে হয়েছেন কর্মহীন। অনেকে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় বেকারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
তারা আরও বলেন, করোনার প্রভাব পড়েছে শিল্প ও রপ্তানি খাতে। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে ছোট-বড় অনেক কারখানার। মহামারির প্রভাব যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে দেশের ছোট-বড় শিল্পমালিকরা আরও বড় বিপাকে পড়তে পারেন। যার ফলে এবার কোরবানি গত বছরের তুলনায় এবার অনেকাংশ কমে যাবে। কারণ প্রবাসী, মধ্যবিত্ত আর ব্যবসায়ীরা অনেকেই কোরবানি দিতে পারবে না। শুধুমাত্র সরকারী চাকুরীজীবি ও আমলারাই এবং ধনীরা এবার কোরবানি করতে পারে। আবার অনেকেই বেশি অংশীদারিত্ব নিয়েই কোনমতে ছেলে মেয়েদের মন জয় করতে আর কেউ ঐতিহ্য ধরে রাখতে অংশীদার নিয়ে করবে কোরবানি।
বিবিরহাট গরু বাজারের ইজারাদার বলেন, বেচাকেনা শুরু হলেও এখনও বাজার জমে ওঠেনি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা তেমন গরু নিয়ে আসছে না বাজারে। আমরা তাদেরকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা আর নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি প্রশাসনও আমাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। বাজারে এখন ক্রেতা অনেক কম। আশা করছি শুক্রবার থেকে বেচাকেনা শুরু হবে।’ পর্যাপ্ত গরুর আমদানি থাকলেও বন্যা আর করোনা ভাইরাসের কারণে দেখা মিলছে না পাইকারী কিম্বা সাধারন ক্রেতাদের।
এতে, একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আর খামারিরা, তেমনি লোকসানের শংকা হাটের ইজারাদারদের। কোরবানীর ঈদে করোনার প্রভাব এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সিমিত হবার কারনে লালন-পালন করা গবাদি পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরেছে খামারিরা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মো.রেয়াজুল হক জানান এবারের সম্ভাব্য চাহিদা ৮ লক্ষ ৯ হাজার যার মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়েছে ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩৪ টি। ঘাটতি পুরণ করবে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশু।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, করোনা সংক্রমণের এই সময়ে কোরবানীর হাটে পশু কিনতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১ জনের বেশী ক্রেতা না আসতে অনুরোধ করা হয়।
প্রসঙ্গত: কোরাবানীর ঈদকে সামনে রেখে ১৫ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে সরকার

