সিপ্লাস প্রতিবেদক: নবনিযুক্ত প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কিভাবে পরিচালনা করবেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একাই চালাবেন? নাকি প্রশাসক প্যানেল গঠন করবেন? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলে।
প্যানেল গঠিত হলে সেখানে কে কে সদস্য হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তা নিয়েও ঢাকায় দৌড় ঝাপের কমতি নেই। চলছে বিভিন্ন মন্ত্রী এমপির দুয়ারে জোর তদবির।
এ ব্যাপারে খোরশেদ আলম সুজন গণমাধ্যমে বলেন, ‘শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে দেখা করবো। সেখানে নানা বিষয়ের পাশাপাশি প্রশাসক প্যানেল নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো প্যানেল গঠন বা সদস্যভূক্তির বিষয়ে কোন নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি।’
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমে জানান, প্যানেল গঠনের বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল। প্রশাসক যদি মনে করেন তাঁর একটি প্যানেল প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করলে অনুমোদন দেয়া হবে মাত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চসিকের প্রশাসক প্যানেল ১৫ অথবা ২০ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে মহিলা সদস্য থাকতে পারেন ৩ জন। প্রত্যেক সদস্য ৩ অথবা ২টি করে ওয়ার্ড পরিচালনা করবেন। প্যানেলটি পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা দৌড় ঝাপ শুরু করলেও স্থগিত নির্বাচনের কোন প্রার্থী প্যানেলে অন্তর্ভূক্ত হতে পারবেন না। তবে সাবেক জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ বা সামাজিক ব্যক্তিকে প্যানেলে রাখা যাবে।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের মতামত জানতে চাইলে তাঁরা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেউ কেউ বলেছেন, প্যানেলে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার জন্য আগ্রহী অনেকে আছেন। ইতিমধ্যে তারা নানা ভাবে তদবিরও চালিয়ে যাচ্ছেন। সবকিছু নির্ভর করবে দলের উচ্ছ পর্যায়ের নির্দেশনা ও মতামতের উপর।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর সংসদ সদস্যরা প্যানেলে অন্তর্ভূক্তির জন্য নাম সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে নামও জমা দিয়েছেন।
কয়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, তাদেরকে একজন সংসদ সদস্য নাম জমা দিতে বলেছেন। যার নাম জমা দেয়া হবে তিনি বর্তমান চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র কেউ একজন হতে হবে। একজনের বেশি নাম জমা দেয়া যাবে না।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একাই চালাবেন, নাকি প্রশাসক প্যানেল গঠন করবেন তা আগামীকাল রোববার সুজনের সাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে আঁচ করা যাবে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের নেতারা কিছুই জানেন না বলে জানা গেছে। সভাপতি-সম্পাদকের মতামত জানার জন্যে একাধিকবার চেষ্টা করার পরও তাঁরা ফোন ধরেননি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কথা বলে জেনেছি প্যানেল গঠনের বিষয়টি প্রশাসকের ইচ্ছার উপর নির্ভর। আমি মনে করি এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম মহানগরীর সাথে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের মতামত থাকা উচিত। দলীয় নীতি নির্ধারকদের সাথেও আলোচনা দরকার। তবে আমার সাথে কেউ এ ব্যাপারে এখনো আলোচনা করেননি।’








