সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে ৫৫জন কে।
তাদের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ১১৬জন প্রার্থী।এর মধ্যে আছেন সাবেক ১২ কাউন্সিলর।
বিএনপির সমর্থনপুষ্ট আছে ৫৫জন। বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছে আরও ২জন।
আওয়ামী লীগের সমর্থন পেলেও ৫৫ জনের এক তৃতীয়াংশ প্রার্থী চাপে আছে। ভোটের মাঠে নিজ দলীয় হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় তাদের দূশ্চিন্তা বেড়েই চলছে।
এদিক থেকে নির্ভার বিএনপি। তাদের প্রায় সকল ওয়ার্ডেই একক প্রার্থী।
১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ শফিউল আজিম কে সমর্থন করলেও এই ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে নির্বাচন করছেন সাবেক কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরী।
২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এই ওয়ার্ডেও নির্বাচন করছেন সাবেক কাউন্সিলর মো: সাহেদ ইকবাল (বাবু) ।
৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবীদ নুরুল আবছার মিয়া‘কে। এখানেও প্রতিদ্বন্ধী সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ জহুরুল আলম জসিম।
১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: ইসমাইল। এই ওয়ার্ডে প্রার্থীও সাবেক কাউন্সিলর মোর্শেদ আকতার চৌধুরী।
১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডেও একই চিত্র আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো: নুরুল আমিন’কে।কিন্তু প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন সাবেক কাউন্সিলর মো: সাবের আহম্মেদ ।
১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবুল হাসনাত মো. বেলাল। এই ওয়ার্ডেও প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমেদ।
২৪ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর নাজমুল হককে কিন্তু এখানে ভোটের মাঠে আছে আওয়ামী লীগের আরও তিন প্রার্থী।
২৫ নং রামপুরা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন। এই ওয়ার্ডে হেভিওয়েট প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সদ্য সাবেক কাউন্সিলর এস এম এরশাদ উল্লাহ।
২৭ নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী’কে।এখানেও প্রার্থী হয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর এইচ.এম. সোহেল।
২৮ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাহাদুর। এ ওয়ার্ডেও বিষফোঁড়া সদ্য সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবদুল কাদের।
৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ চৌধুরী। এই ওয়ার্ডে প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর চৌধুরী জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।
৩৩নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে।কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে আছে যুবলীগের চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব।
৩১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম ইন্তেকাল করায় এ ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এসব প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে নগরীর ভোটারদের অভিমত।
ইতোমধ্যে প্রার্থীরা একে অপরকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দোষারোপ করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও করছেন।
অপরদিকে চসিক নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ফুরফুরে মেজাজে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জয়ের বিষয়ে তারা সাংবাদিকদের বলেন, সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় তাদের ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে। নগরীতে অনেক ভাসমান ভোটার তারা আওয়ামী লীগের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখে বিএনপি সমর্থিতদের ভোট দিবে বলে মনস্থ করেছেন।
সদ্য সাবেক কাউন্সিলরদের রয়েছে এলাকায় আলাদা প্রভাব, রয়েছে কর্মীবাহিনী।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৫৫টি (সাধারণ ও সংরক্ষিত) ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যাদেরকে সমর্থন দিয়েছে, তাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশই এবার প্রথম নির্বাচনে অংশ নেবেন। ভোট গ্রহনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীরা তাদের বাহুর বল দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে।
বিভিন্ন ওয়ার্ডে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। চসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতায় খুন হয়েছে ৩জন।
রদবদল হয়েছে সিএমপির ৫ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভোটার আছে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন । এর মধ্যে নারী ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন ও পুরুষ ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন।








