Site icon CPLUSBD.COM

চসিক নির্বাচন: কাউন্সিলর মনোনয়নের ব্যাপারে শেখ হাসিনার মতি গতি বোঝা ভার!

চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন পাচ্ছেন কারা- তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

যারা চসিক নির্বাচনের কাউন্সিলর পদের মনোয়ন পত্র পুরণ করে জমা দিয়েছেন তাদের অনেকেই এখন ঢাকায়। বিভিন্ন নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিলেও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত হতে পারছেন না।

এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশ কয়েকজনকে ফোন করা হলে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেয়া ছাড়া কোন উপায় নাই বলে সিপ্লাসকে জানান। বর্তমান জামাল খান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন জানান তিনি চট্টগ্রামে চলে এসেছেন, অতীতে রাজনৈতিক এবং এলাকার কাজের মূল্যায়ন করা গেলে আমি মনোনয়ন পাবো।

১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের  মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ নেতা আবুল হাসনাত বেলাল সিপ্লাসকে বলেন,  সবকিছু নির্ভর করবে নেত্রীর উপর। তিনি যাকে ভাল মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দেবেন। আমরা সবাই তাঁর সিদ্ধান্তে একমত থাকবো। বেলাল এখনো ঢাকায় আছেন জানিয়ে বলেন, চসিক নির্বাচনে অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী  ঢাকাই রয়েছেন। মনোনয়নের জন্য  সবাই নেত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন।

শনিবার মেয়র পদে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়ার পর আরো জটিল অবস্থায় পড়েছেন কাউন্সিলর পদের প্রত্যাশীরা। তাদের সবারই এক কথা দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মতিগতি বোঝা ভার। তিনি যা ভালো মনে করবেন তা-ই হবে। অবশ্য তাঁর উপর পূর্ণ আস্থা আছে বলে উল্লেখ করেছেন সবাই।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার/পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বোর্ড (২০১৯-২১)এর ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে আছেন শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, কাজী জাফর উল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ওবায়দুল কাদের, মো. রশিদুল আলম, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ।

কিন্তু যতক্ষন শেখ হাসিনা গ্রীন সিগন্যাল না দেন, ততক্ষণ কমিটির অন্য সদস্যরা নানা যুক্তি দিতে থাকেন।তবে নেত্রীর কথাই তাদের শেষ কথা।

মনোননয় বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের মানুষকেই বাছাই করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে মাদক ও দূর্নীতির অভিযোগ আছে তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না-এটা নিশ্চিত। মূলতঃ দলীয় রাজনীতির জন্য ত্যাগী, সৎ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেনেএক্ষেত্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

কাউন্সিলর মনোনয়নের ব্যাপারে এবার কারো প্রভাব খাটবেনা। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় সাংসদদের মতামত চাওয়া হতে পারে। মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে কোন লিষ্ট দেয়া হয়নি বলে জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

 

 

উল্লেখ্য গত ১৬ফেব্রুয়ারী চসিক নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৯মার্চ অনুষ্ঠিত হবে চসিক নির্বাচন।