আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। সেই বৈঠকে দলের মনোনীত একক প্রার্থীর বাহিরে অন্য সকল বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন৷ তবে সেই আহবান অনেকটা প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার বিষয়ে এখনো অনঢ় বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর থিয়েটার ইনিস্টিটিউটে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভা সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানের শুরুতে সভার সঞ্চালক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন এক এক করে প্রতিটি ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন প্রাপ্ত ও বিদ্রোহীদের পরিচয় জানতে চান।
এরপর সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন।
তিনি সকল বিদ্রোহী প্রার্থীকে দলের স্বিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুগত্য দেখিয়ে দলীয় মনোনীতদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার আহবান জানান। এসময় তিনি গণভবনে সকলের কাছ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কাগজে সাক্ষর নেয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আপনারা নেত্রীকে কথা দিয়েছিলেন তাঁর স্বিদ্ধান্ত মেনে নিবেন। সুতরাং দলের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত ঐক্যবদ্ধ ভাবে আসন্ন নির্বাচনে নামবে, তাদের পরাজিত করতে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে৷
তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলের প্রার্থীকে জয়ী করার আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা আপনাদের এখন অনুরোধ করছি, এই অনুরোধ যদি আপনারা না মানেন তাহলে আমরা কিন্তু কঠোর ও কঠিন স্বিদ্ধান্ত নেবো। আর তখন আমাদের কাছে এসেও কোন কাজ হবে না৷
মোশারফ হোসেনের বক্তব্য শেষ হতেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা একজোগে মঞ্চের সামনে এসে নানান লিখিত অভিযোগ ও ডকুমেন্ট দেখাতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগ নেতারা তা গ্রহণ করেন৷
এসময় একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন উম্মুক্ত করে দেয়ার দাবী জানিয়ে বলতে থাকেন, এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কাউন্সিলর পদে দলের প্রতিক নাই। তাই আমাদের ভোটে থাকার সুযোগ দিন। এলাকাবাসি কাকে ভোট দেয় সেটা প্রমানের সুযোগ চান বিদ্রোহীরা।
এসময় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির তাদের শান্ত করেন।
পরে জানানো হয় আগামী ৮ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের উপস্থিতিতে মহানগর কমিটি ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে সকল এমপি, মন্ত্রীদের পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সেদিন বিদ্রোহীদের লিখিত অভিযোগ উনাকে জানানো হবে উনি যদি কারো বিষয়ে স্বিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তাহলে সেটা কেন্দ্রের ব্যাপার।
তবে ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ বলেন, আজ যা বলা হচ্ছে সেটাই কেন্দ্রের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত।
বৈঠক শেষে বিদ্রোহী প্রার্থীরা জামায়াত ও বিএনপি মুক্ত আওয়ামী লীগের শ্লোগান দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
বেশীর ভাগ বিদ্রোহী প্রার্থী তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় সিপ্লাসকে বলেন, আমরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবো না৷ তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন শেষ পর্যন্ত সবাই দলের সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবে।
বৈঠকে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন, আলতাফ হোসেন বাচ্চু, খোরশেদ আলম সুজন, আব্দুচ সালাম, বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন, এম এ লতিফ এমপি সহ নগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।








