চামড়াজাত পণ্য ও জুতা রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা আরো অন্তত পাঁচ বছর অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠোনে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প থেকে কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আর্থিক প্রণোদনা আরো অন্তত পাঁচ বছর বহাল থাকবে।
চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সকল রপ্তানি খাতের জন্য সমান সুযোগ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। যে সব বৈষম্যমূলক প্রতিবন্ধকতা আছে তাও আমরা দূর করে দেব।”
পণ্য উৎপাদন ও নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টিতে সহায়তায় সরকার সব সময় সক্রিয় রয়েছে মন্তব্য করে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের কাছ থেকে আপনারা সব সহযোগিতা পাবেন- এ আশ্বাস আমরা দিতে পারি।”
জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিকারকদের মধ্যে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে যাদের কারখানা, তাদের জন্য সরকার রপ্তানিমূল্যের বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দিচ্ছে। তার সঙ্গে এই খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য করভার কমিয়ে দশমিক ৬ শতাংশ হারে উৎসে কর ধরা হয়েছে।
এর বাইরে চলতি বছর চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকার যে নীতিমালা অনুমোদন করেছে তাতে এই শিল্পের নানা ধরণের প্রণোদনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
দেশের চামড়াজাত পণ্য ও জুতা রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বিশ্বের আমদানিকারকদের সংযোগ স্থাপনে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এর ফলে গত এক দশকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির আয়কে ছাড়িয়ে চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প খাত দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের খাতে পরিণত হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে প্রায় ১০২ কোটি ডলার আয় হয়েছে।
“আমাদের ক্রমবর্ধমান কাঁচা চামড়া সরবরাহের পুরোটা দিয়ে ‘ফিনিশড প্রোডাক্ট’ তৈরি করে রপ্তানি করতে পারলে আমরা অনায়াসে ২০২২ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন (৫০০ কোটি) ডলার রপ্তানি আয় করতে সক্ষম হব।”
২০২১ সালের মধ্যে ‘মধ্যম আয়ের’ ও ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার ‘উন্নত সমৃদ্ধ’ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চামড়া খাতের সঙ্গে জড়িত সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তার কন্যা।
“স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তিনটি রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভর করে যাত্রা করেছিলেন। তিনি আশাবাদী ছিলেন, আমাদের কৃষিজাত পণ্য চা, পাট এবং চামড়া শিল্পকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বাণিজ্যের শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে; একইসঙ্গে শক্তিশালী হবে কৃষিখাত।”
অন্য দেশের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে উপস্থিত বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
“আমরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিচ্ছি যা অনেক দেশ দিতে পারবে না। তাছাড়া আমাদের রয়েছে অপেক্ষাকৃত সস্তা শ্রমিক। আমাদের শ্রমিকদের আমরা ট্রেনিংও দিচ্ছি।
“বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্প খাতে বিশেষ করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের শিল্পে (আপনারা) বিনিয়োগ করবেন। যে কোনো দেশের চাইতে এখানে বিনিয়োগ করলে আপনারা বেশি লাভবান হবেন- এটুকু আমি বলতে পারি।’
‘বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদারগুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

