প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চীন ভ্রমণে মার্কিনিদের জন্য সর্বোচ্চ-পর্যায়ের সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সর্বোচ্চ ৪ মাত্রার সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে,“চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটায় চীন ভ্রমণ করবেন না।” তাছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও করোনাভাইরাসকে জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর।
ইরাক এবং আফগানিস্তানের মতো একই মাত্রায় জারি করা এই এলার্টে আরো বলা হয়েছে, “স্বল্প সময়ের নোটিশে বা আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই ভ্রমণে কড়াকড়ির ব্যাপারে ভ্রমণকারীরা যেনো প্রস্তুত থাকেন। চীন থেকে আসা এবং চীনে যাওয়ার বাণিজ্যিক অনেক ফ্লাইট কমানো হয়েছে এবং কিছু কিছু ফ্লাইট বন্ধও করা হয়েছে।” বর্তমানে যেসব মার্কিন নাগরিক চীনে আছেন ফিরে আসতে বলা হয়েছে তাদেরকেও।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন বৃহস্পতিবার ইলিনয়ে এক নারীর স্বামীর দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানানোর পর মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর নাগরিকদের জন্য চীন ভ্রমণে এই এলার্ট জারি করল। যুক্তরাষ্ট্রে ইলিনয়ের ওই ব্যক্তিই করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী হিসাবে সনাক্ত হয়েছেন।
চীনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বৃহস্পতিবারের ১৭০ থেকে একদিনেই বেড়ে শুক্রবার ২১৩ জন হয়েছে। নতুন করে দুই হাজার মানুষের দেহে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, কেবল চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশন।
চীনের বাইরে আরো ২০ টি দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১শ’ রও বেশি। এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। ভারত, ফিলিপিন্সে এ ভাইরাস আক্রান্ত রোগী এরই মধ্যে সনাক্ত হয়েছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে চীনে ভ্রমণ ব্যাপকহারে কমিয়ে আনার দিকে নজর দিয়েছে। সেইসঙ্গে ধাপে ধাপে বাড়িয়েছে সতর্কতার মাত্রা। গত সোমবার তারা সতর্কতার মাত্রা ২ থেকে বাড়িয়ে ৩ মাত্রা করেছে এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার চীনের হুবেই প্রদেশ ভ্রমণে সতর্কতা ৪ মাত্রায় উন্নীত করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করার পর চীন বলেছে, তারা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় পূর্ণদ্যমে সবসরকম চেষ্টাই করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে চীন কোনো মন্তব্য করেনি।
“চীন এ ভাইরাস জয় করার ব্যাপারে পুরোপুরি আস্থাশীল এবং সক্ষম” বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

