নিউজটি শেয়ার করুন

চুরির ৫ মাস পর শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

নগরে এক নারী ভিক্ষুকের কাছ থেকে চুরির পাঁচমাস পর এক শিশুকে উদ্ধার করেছে কেতোয়ালি থানা পুলিশ। একই সঙ্গে শিশু চোর চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার ভোররাত পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা এবং নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের গাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে আফসার ওরফে জাফর সাদেক (৩৫), লোহাগাড়া থানাধীন সেনেরহাট সামসু মাস্টারের বাড়ির এবং বর্তমানে নগরের অক্সিজেন এলাকার সৈয়দ নগরের করিম সওদাগরের বাড়ির বাসিন্দা পারভীন আকতার, নগরের মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতাল ও সিগমা ল্যাব‘র  টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত সুজিত কুমার নাথ। তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার ধলঘাট পশ্চিম গৈড়ালা এলাকায়। বাবার নাম অনন্ত মোহন নাথ।

শিশুটি উদ্ধারের পর রোববার বিকালে কোতোয়ালি থানা চত্বরে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির এ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, গত ২৬ মে বিকালে সাড়ে পাঁচটায় কাজীর দেউড়ি এলাকায় শেফালী বেগম নামে এক ভিক্ষুক এবং তার দুই মাস বয়সি শিশুকে কাপড় কিনে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে চলে যান অজ্ঞাত এক যুবক। পরের দিন বিকাল চারটায় ওই যুবক কাজীর দেউড়ি মোড়ে এসে শেফালি এবং শিশু সন্তান মো. আলীকে কাপড় কিনে দেয়ার কথা বললে শিশু সন্তান নিয়ে রিকশাযোগে তিনপুলের মাথায় যান। আরেকটি রিকশা নিয়ে ওই যুবকও তিনপুলের মাথা এলাকায় যান।

চৈতন্যগলি এলাকায় পৌঁছে একটি খাবার হোটেলে অজ্ঞাত যুবকটিসহ নাস্তা করেন শেফালি। এরপর আমতলার দিকে যাওয়ার পথে শেফালি তার কাছে থাকা ১০০ টাকা দিয়ে সন্তানের জন্য একটি শার্ট  কিনেন। বিকাল সাড়ে চারটায় আমতল হোটেল সাফিনার সামনে দিয়ে হেঁটে যাবার সময় শেফালি বমি করলে তাকে পানির একটি বোতল দেন ওই যুবক। পানি পানের পর শিশু সন্তান মো. আলীকে নিজের হেফাজতে রেখে ভিক্ষুক শেফালিকে হোটেল সফিনা মার্কেটের দোতলার টয়লেটে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে আসতে বলেন ওই যুবক।  কিছুক্ষণ পর টয়লেট থেকে ফিরে এসে শেফালি দেখেন তার সন্তানকে নিয়ে পালিয়েছে ওই যুবক।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন শেফালি। এরপর শিশু চোর চক্রকে ধরতে অভিযানে নামেন ওসি মহসীনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।

ইতিপূর্বে ইপিজেড থানা এলাকা থেকে শিশু চুরির আরেকটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইকবাল হোসেন নামে এক যুবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে এ যুবক আদালতে জবানবন্দিও দেন। তার জবানবন্দিতে উঠে আসে শিশু চোর চক্রের মূলহোতা হিসেবে আফসার ওরফে জাফর সাদেকের নাম।

গোপন সংবাদ পেয়ে গত ২ নভেম্বর বিকালে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে জাফর সাদেককে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জাফর সাদেক শিশু চুরির ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক চুরি করা শিশুটি বিক্রি করা পর্যন্ত লালনপালন করা পারভীন আকতার (৩০) নামে এক নারীকে  গত ২ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে নগরের অক্সিজেন সৈয়দপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। চুরি করা শিশু বিক্রির মধ্যস্থতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুজিত কুমার নাথ (৪৫) কে  গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে নগরের মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চুরি যাওয়া শিশু মো. আলীকে গতকাল রোববার ভোররাতে নগরের দামপাড়া পল্টন রোড এলাকার জনৈক পবন কান্তি নাথ (৪২) এর বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর নগর ও জেলা এলাকা থেকে শিশু চুরি করে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে মোটা অংকের টাকায় বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন জাফর সাদেক।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি মো. মহসীন জানান, গ্রেফতার আফসার ওরফে জাফর সাদেক ১০-১২ বছর আগে নগরের বেসিক ল্যাবে চাকুরি করতেন। এক সময় বেসিক ল্যাবে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন হাসপাতালের আয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন জাফর সাদেক। কারণ শিশু দত্তক নিতে আগ্রহী অনেক নিঃসন্তান দম্পতি হাসপাতালের আয়া অথবা বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ক্লিনিকের নিম্ন পদে কাজ করা লোকদের কাছে শরনাপন্ন হন।

নগরে এক নারী ভিক্ষুকের কাছ থেকে চুরির পাঁচমাস পর এক শিশুকে উদ্ধার করেছে কেতোয়ালি থানা পুলিশ। একই সঙ্গে শিশু চোর চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার ভোররাত পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা এবং নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের গাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে আফসার ওরফে জাফর সাদেক (৩৫), লোহাগাড়া থানাধীন সেনেরহাট সামসু মাস্টারের বাড়ির এবং বর্তমানে নগরের অক্সিজেন এলাকার সৈয়দ নগরের করিম সওদাগরের বাড়ির বাসিন্দা পারভীন আকতার, নগরের মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতাল ও সিগমা ল্যাব‘র  টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত সুজিত কুমার নাথ। তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার ধলঘাট পশ্চিম গৈড়ালা এলাকায়। বাবার নাম অনন্ত মোহন নাথ।

শিশুটি উদ্ধারের পর রোববার বিকালে কোতোয়ালি থানা চত্বরে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির এ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, গত ২৬ মে বিকালে সাড়ে পাঁচটায় কাজীর দেউড়ি এলাকায় শেফালী বেগম নামে এক ভিক্ষুক এবং তার দুই মাস বয়সি শিশুকে কাপড় কিনে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে চলে যান অজ্ঞাত এক যুবক। পরের দিন বিকাল চারটায় ওই যুবক কাজীর দেউড়ি মোড়ে এসে শেফালি এবং শিশু সন্তান মো. আলীকে কাপড় কিনে দেয়ার কথা বললে শিশু সন্তান নিয়ে রিকশাযোগে তিনপুলের মাথায় যান। আরেকটি রিকশা নিয়ে ওই যুবকও তিনপুলের মাথা এলাকায় যান।

চৈতন্যগলি এলাকায় পৌঁছে একটি খাবার হোটেলে অজ্ঞাত যুবকটিসহ নাস্তা করেন শেফালি। এরপর আমতলার দিকে যাওয়ার পথে শেফালি তার কাছে থাকা ১০০ টাকা দিয়ে সন্তানের জন্য একটি শার্ট  কিনেন। বিকাল সাড়ে চারটায় আমতল হোটেল সাফিনার সামনে দিয়ে হেঁটে যাবার সময় শেফালি বমি করলে তাকে পানির একটি বোতল দেন ওই যুবক। পানি পানের পর শিশু সন্তান মো. আলীকে নিজের হেফাজতে রেখে ভিক্ষুক শেফালিকে হোটেল সফিনা মার্কেটের দোতলার টয়লেটে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে আসতে বলেন ওই যুবক।  কিছুক্ষণ পর টয়লেট থেকে ফিরে এসে শেফালি দেখেন তার সন্তানকে নিয়ে পালিয়েছে ওই যুবক।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন শেফালি। এরপর শিশু চোর চক্রকে ধরতে অভিযানে নামেন ওসি মহসীনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।

ইতিপূর্বে ইপিজেড থানা এলাকা থেকে শিশু চুরির আরেকটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইকবাল হোসেন নামে এক যুবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে এ যুবক আদালতে জবানবন্দিও দেন। তার জবানবন্দিতে উঠে আসে শিশু চোর চক্রের মূলহোতা হিসেবে আফসার ওরফে জাফর সাদেকের নাম।

গোপন সংবাদ পেয়ে গত ২ নভেম্বর বিকালে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে জাফর সাদেককে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জাফর সাদেক শিশু চুরির ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক চুরি করা শিশুটি বিক্রি করা পর্যন্ত লালনপালন করা পারভীন আকতার (৩০) নামে এক নারীকে  গত ২ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে নগরের অক্সিজেন সৈয়দপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। চুরি করা শিশু বিক্রির মধ্যস্থতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুজিত কুমার নাথ (৪৫) কে  গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে নগরের মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চুরি যাওয়া শিশু মো. আলীকে গতকাল রোববার ভোররাতে নগরের দামপাড়া পল্টন রোড এলাকার জনৈক পবন কান্তি নাথ (৪২) এর বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর নগর ও জেলা এলাকা থেকে শিশু চুরি করে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে মোটা অংকের টাকায় বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন জাফর সাদেক।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি মো. মহসীন জানান, গ্রেফতার আফসার ওরফে জাফর সাদেক ১০-১২ বছর আগে নগরের বেসিক ল্যাবে চাকুরি করতেন। এক সময় বেসিক ল্যাবে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন হাসপাতালের আয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন জাফর সাদেক। কারণ শিশু দত্তক নিতে আগ্রহী অনেক নিঃসন্তান দম্পতি হাসপাতালের আয়া অথবা বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ক্লিনিকের নিম্ন পদে কাজ করা লোকদের কাছে শরনাপন্ন হন।