মোঃ নেজাম উদ্দীন,আদালত প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা আদালতের বিচারাধীন মামলার নথি থেকে ২৮ কোটি টাকার চেক চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত জোবায়ের মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব নামে এক আইনজীবীর সমিতির লিন নং লক, সমিতির সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি আসন্ন সাধারণ সভায় উত্থাপন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল রেজিষ্ট্রেশন বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন।
অভিযুক্ত আইনজীবী জোবায়ের মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। তার বিরুদ্ধে আনীত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা আদালতের বিচারাধীন মামলার নথি থেকে ২৮ কোটি টাকার চেক চুরির অভিযোগটির সত্যতা পাওয়ায় তার লিন নাম্বার স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। তার লিন ব্যবহার করে আদালতে কোন রকমের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন সিপ্লাসকে বলেন, গতকাল( ২২ সেপ্টেম্বর) আইনজীবী সমতির কার্যকরী কমিটির বৈঠকে আমরা উক্ত আইনজীবী কর্তৃক চেক চুরির ঘটনার সত্যতা পাই । তাই আমরা সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্ত আইনজীবির লিন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেই। আগামী জেনারেল মিটিংয়ে আমরা ঐ আইনজীবীর সমিতির সদস্যপদ স্থগিতের জন্য প্রস্তাব পেশ করব। যদি প্রস্তাবনা পাশ হয় তবে ঐ আইনজীবীর বার কাউন্সিলের সদস্যপদ বাতিলের জন্য আমরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে প্রস্তাব পাঠাব।
মুলত: এর আগে ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলম এবং তার স্ত্রী ইয়াসমিন আলমের বিরুদ্ধে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৫ম এর আদালতে একটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা। পরবর্তীতে ২৭,৯৭,৮৮,০৭২ টাকার চেক রিটার্নের ক্ষেত্রে এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
মহানগর দায়রা জজকে পাঠানো অভিযোগ অনুযায়ী, জোবায়ের মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব নামে এক আইনজীবী গত বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৫ম আদালতের অফিস সহকারীকে মামলার নথি দেখতে বলেন। অফিস সহকারী ঐ ফাইলের ভেতর থাকা সমস্ত নথি যাচাই করে এবং পুরো নথি দেখার জন্য অ্যাডভোকেট জোবায়েরকে দেয়। কিছুক্ষণ পরেই মামলার নথিটি ঐ আইনজীবী অফিস সহকারীকে ফেরত দেন, কিন্তু নথির ভেতরে থাকা চেকটি পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অফিস সহকারী এবং বেঞ্চ সহকারী ঐ আইনজীবীকে খোঁজাখুজি শুরু করেও তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
উক্ত আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঐদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে চেকটি হারানোর বিষয়টি যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ জহির উদ্দিনকে অবহিত করেন। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়াউদ্দিনকেও এ ব্যাপারে জানানো হয়। পরে বেঞ্চ সহকারী মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে ঐ আইনজীবীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং রাত ১০টায় হোটেল আগ্রাবাদ থেকে চুরি হয়ে যাওয়া চেকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
পরে এই ঘটনায় চট্টগ্রামের যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত) জহির উদ্দিন ঐ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর পর গত সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কাছে পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলে আইনজীবী সমিতি সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টম্বর) ঐ আইনজীবীকে সমিতির পক্ষ থেকে শোকজ করে তার বরাবরে ৭ দিনের নোটিশ জারী করেন আইনজীবী সমিতি। নোটিশ জারীর পর বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সমিতির কার্যালয়ে হাজির হলে ঐ আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টির যথাযথ সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যায়। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর ) সমিতির লিন নং লক করে দেয়া,বাংলাদেশ বার কাউন্সিল রেজিষ্ট্রেশন বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।








