সিপ্লাস প্রতিবেদক: কোতোয়ালী থানাধীন কদমতলী আটমার্চিং মোড়স্থ ফোর স্টার সিএনজি পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে চোরাইকৃত ২০টি মোটরসাইকেলসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) দুপুর বারটা ১৫ মিনিটের সময় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন, পিপিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোঃ মনজুরুল আলম ভূঁঞা সঙ্গীয় ফোর্সসহ কোতোয়ালী থানাধীন কদমতলী আটমার্চিং মোড়স্থ ফোরস্টার সিএনজি পেট্রোল পাম্পের সামনে মিল্টন সরকার (৪৪) ও মেহেদী হাসান (১৯) নামে দুইজন লোককে নাম্বার প্লেট বিহীন একটি Hunk মোটরসাইকেল দেখে জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ির মালিকানার বিষয়ে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারে নাই।
এসময় মোটরসাইকেলসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী হাসান (১৯) জানায় যে, কাগজপত্র বিহীন আরো একটি Hunk মোটরসাইকেল ডবলমুরিং থানাধীন কদমতলী মোড়স্থ সিয়াম বাইক সার্ভিসের সামনে থেকে ১টি লাল রংয়ের Hero Honda কোম্পানীর ১৫০ সিসির Hunk মোটরসাইকেল যাহার রেজিঃ নং-কক্সবাজার-ল-১১-২৩৪১। এরপর ১টি Hunk মোটরসাইকেল সীতাকুন্ডের আনোয়ার থেকে, ৭টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বড় দারোগা হাটের ওবায়দুল কাদেরের থেকে, ২টি ডিসকভার মোটরসাইকেল নাঙ্গলকোর্ট এলাকার মাহমুদুল হাসানের কাছ থেকে, ১টি FZ মোটরসাইকেল রামগড় এলাকার রুবেল হোসেনের কাছ থেকে।
অপরদিকে এসআই মোঃ মোমিনুল হাসান সঙ্গীয় ফোর্সসহ সীতাকুন্ড থানাধীন বড় দারোগারহাট বাজার টার্ন রোড এর পশ্চিম দিক ওবায়দুল কাদের (৪২) এর গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে আনোয়ারুল ইসলাম (৩৭) এর হেফাজত থেকে ১টি Glamour মোটরসাইকেল, ওবায়দুল কাদের (৪২) এর হেফাজত থেকে ৩টি Glamour, ২টি Discove, ১টি Yamaha মোটরসাইকেল, ১টি Pulsar মোটরসাইকেল সহ সর্বমোট ০৮টি মোটরসাইকেল।
একইদিনে পৃথক অভিযানে এসআই সুকান্ত চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্সসহ চট্টগ্রাম জেলার ভুজপুর থানাধীন হেয়াকো পশ্চিম বাজার ট্রাক সমিতি অফিস সংলগ্ন কাদেরী অটো মোবাইলস নামক সিএনজি মোটর পার্টস দোকানের সামনে থেকে মোঃ শাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ রুবেল হোসেন (২৫) এর হেফাজত থেকে ১টি লাল কালো রংয়ের Yamaha FZ ১৫০ সিসি, যাহার ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর ঘষামাজা ও অস্পষ্ট, নম্বরপ্লেটে চট্টমেট্রো-ল-১৪-৬২৬৬ লেখা আছে।
আবারও এসআই মোঃ মনজুরুল আলম ভূঁঞা কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোর্ট থানাধীন শরীফপুর গ্রামস্থ বায়তুস সুজুদ জামে মসজিদ অভিযান চালিয়ে মাহমুদুল হাসান (২৪) এর হেফাজত থেকে ১টি কালো রংয়ের ১০০ সিসি Discover মোটরসাইকেল, যাহার নাম্বারপ্লেটে অনটেস্ট লেখা, ১টি নাম্বারপ্লেট বিহীন কালো রংয়ের ১০০ সিসি Discover মোটরসাইকেল,
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মোঃ ওবায়দুল কাদের (৪২) জানায় যে তার নিকট হতে উদ্ধারকৃত গাড়িগুলো বিক্রয় করার জন্য আনোয়ারুল ইসলাম (৩৭) তাকে সরবরাহ করেছে। আনোয়ারুল ইসলাম (৩৭) কে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় মিল্টন সরকার (৪৪) এবং রফিকুল ইসলাম রিপন (৩৮) বিভিন্ন স্থান হইতে চোরাই গাড়ি সংগ্রহ করে তার নিকট বিক্রয় করে।
মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে তারা সকলেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকে। সিডিএমএস সফটওয়্যার যাচাই করে মিল্টন সরকার এবং রফিকুল ইসলাম রিপন দ্বয় ইতিপূর্বে মোটরসাইকেল চুরির মামলায় জেল হাজতে ছিল মর্মে জানা যায়।
ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মিল্টন সরকার এবং রফিকুল ইসলাম রিপন চট্টগ্রাম মহানগর সহ দেশের বিভিন্ন জেলা হইতে হতে লক করা মোটরসাইকেল বিশেষ কায়দায় তৈরী মাষ্টার কবু ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে লক খুলে চুরি করে নিয়ে যায়। চোরাই মোটরসাইকেলগুলো হতে মিল্টন সরকার কিছু মোটরসাইকেল কদমতলী বুলুর গ্যারেজে মেহেদী হাসান এর মাধ্যমে বিক্রয়ের জন্য জমা রাখে। আনোয়ারুল ইসলাম চোরাই মোটরসাইকেল মিল্টন সরকার এবং রফিকুল ইসলাম রিপন নিকট হইতে ক্রয় করে মোঃ ওবায়দুল কাদের এর গ্যারেজে রেখে মোঃ ওবায়দুল কাদের সহ মোঃ শাখাওয়াত হোসেন প্রঃ রুবেল হোসেন, মাহমুদুল হাসান, শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, রাশেদুল ইসলাম মজুমদার, শাহিন উদ্দিন, মনির প্রকাশ বড় মনির, মনির প্রকাশ পিচ্ছি মনির গণের নিকট ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন।
ওসি আরও জানান, ধৃত আসামী রফিক ও মিল্টন একে অপরের সহিত জেলখানায় পরিচয় হয়। জেলখানায় পরিচয়ের সুবাদে তারা একটি নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা করে। সে মোতাবেক তারা চুরি করে চোরাইকৃত মোটরসাইকেল আনোয়ার এর কাছে বিক্রয় করে।
আনোয়ারা উক্ত মোটরসাইকেল ওবায়দুল কাদের এর গ্যারেজে রেখে ওবায়দুল কাদের সহ শাখাওয়াত হোসেন প্রঃ রুবেল হোসেন, মনির প্রকাশ বড় মনির, পিচ্ছি মনির, শাহিন উদ্দিন, রাশেদুল ইসলাম মজুমদার দের নিকট বিক্রয়ে করে বলে স্বীকার করে। আসামীরা সকলেই পেশাদার চোরাই মোটরসাইকেল চুরি এবং চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় চক্রের মূলহোতা।
উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলো হল,৮টি ইঞ্জিন লক (গেডিলক), Glamour গাড়ির সিটলক ১৯টি, অন্যান্য কোম্পানীর সিটলক ৭টি, অয়েল ট্যাংক লক ৪টি, ১টি হাইড্রোলিক লক এবং ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের তালার ৪৫টি চাবি উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি।








