সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। সত্তরের কোঠায় থাকা মেঘনাথ বিশ্বাসের একটাই আকুতি, ছেলে হত্যার বিচার যেন দেখে যেতে পারেন তিনি।
আগামীকাল মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সুদীপ্ত বিশ্বাসের জন্মদিন। এ উপলক্ষে তার বাবা সিপ্লাসকে মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়েছেন আবেগ ভরা আকুতি।
ম্যাসেজে তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘আগামীকাল আমার ছেলের জন্মদিন। চার্জশীট দেবেন বলে বলে এখনো দেওয়া হয়নি। আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনই খুব অসুস্থ। এ দেশে বিচার পেতে গেলে ক্ষমতাবান অথবা অঢেল টাকার মালিক হতে হয়। আপনারা সাংবাদিকেরা ছাড়া আমার দুটোর একটাও নাই। আপনারা দয়া করে লেখালেখির মাধ্যমে জীবিতাবস্থায় ছেলে হত্যার বিচার দেখে মরার সুযোগটা করে দেন না। স্রষ্টা আপনাদের মঙ্গল করবেন।’’
মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। সহসাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
হত্যার ‘হুকুমদাতা’ ও আসামিদের কাউকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অনেকের মাঝে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে।
সুদীপ্তর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস বাদি হয়ে সদরঘাট থানায় অজ্ঞাত সাত-আটজনকে আসামি করে যে হত্যা মামলা করেছিলেন, এক বছর পর তারই আবেদনে আদালত এর তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়।
এক ‘বড় ভাই’ হুকুমদাতা ছিলেন বলে গ্রেপ্তারকৃত কারো কারো জবানবন্দির ভাষ্য।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, “রাজনৈতিক মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিতে চায় না। আমরা তদন্তের সময় ঘটনাস্থল এবং আশেপাশের এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু কেউ সে বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।”
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, লালখান বাজার এলাকা থেকে আটটি অটোরিকশা করে দক্ষিণ নালাপাড়া গিয়েছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা। পিবিআই মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর সাতটি অটোরিকশা জব্দ করে। জব্দ করা হয়েছে একটি মটরসাইকেলও।
এসব অটোরিকশা চালকদের মধ্যে তিন জন সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
পরিদর্শক সন্তোষ বলেন, “যেহেতু প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিচ্ছেন না। তাই এই মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণের জন্য আমরা তথ্যপ্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছি।
“ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, জড়িতদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও, কথোপকথনের অডিও এবং বিভিন্ন ফরেনসিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগপত্র তৈরি করা হচ্ছে।”
সুদীপ্ত বিশ্বাসের বাবা বলেন, “বরগুনার রিফাত হত্যার বিচার এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বুয়েটের আবরার হত্যা মামলার বিচার কাজও শেষ দিকে। কিন্তু তিন বছরে আমার ছেলে হত্যার অভিযোগপত্রও জমা হয়নি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক তার জীবদ্দশায় ছেলে হত্যার বিচার দেখে যাওয়ার আশায় বসে আছেন।
তাই অভিযুক্তরা প্রভাবশালী বলে তারা আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে কোনভাবে বেরিয়ে যেতে না পারে এ ব্যাপারে সরকারসহ প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।








