নিউজটি শেয়ার করুন

ছুটি কমে যাচ্ছে শিক্ষকদের

সিপ্লাস ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে সাড়ে পাঁচ মাস ধরে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আসছে রিকভারি প্ল্যান-২০২০।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কারিকুলাম শাখা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করছেন।

জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে- সেটা ধরে নিয়ে এ পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ছুটি কমিয়ে দুই মাস টানা ক্লাস নিয়ে ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান না খোলা গেলে আগামী বছরের অন্তত দুই মাস বর্তমান শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে যুক্ত করে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ শেষ করা হবে। সে ক্ষেত্রে স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে নেওয়া হবে। আর ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মেয়াদ হবে ১০ মাসের।

সংশ্নিষ্টরা জানান, এ বছর প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি-জেডিসিসহ সব পরীক্ষাই বহাল থাকছে। সিলেবাস কমিয়ে শিক্ষার্থীদের অন্তত টানা দুই মাস পাঠদান করিয়ে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে সময় কমিয়ে আনতে পরীক্ষার বিষয় কাটছাঁট এবং কিছু বিষয়ে পরীক্ষা না নিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হতে পারে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, একাধিক বিকল্প চিন্তা আমাদের রয়েছে। সবকিছুই নির্ভর করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে, তার ওপর। করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছুটিতে থাকছে। যদি এ ছুটি করোনার কারণে আরো বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা আগামী বছরের দু-এক মাস সময় নিয়ে এই শিক্ষাবর্ষ শেষ করার চেষ্টা করব। করোনার প্রকোপ কমলে এবং খোলার উপযোগী হলে তবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে।

জানা গেছে, করোনার কারণে দীর্ঘ ছুটির এই পরিস্থিতি বিবেচনায় গত মে মাসে এক বৈঠকে শিক্ষাবর্ষ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল এনসিটিবি। দীর্ঘ ছুটিতে থাকা সাড়ে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওই প্রস্তাব করা হয়। ওই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক মৌলিক সক্ষমতা (কোর কম্পিটেন্ট) অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, বিশেষজ্ঞরা সিলেবাস না কমিয়ে শিক্ষাবর্ষ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর মৌখিক প্রস্তাব করেছিলেন ওই বৈঠকে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষ করা হলে মার্চ থেকে ২০২১ সেশন যদি শুরু করা হয় এবং ছুটি কমানো হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কোনো ক্ষতি হবে না।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারিতে গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা সাড়ে পাঁচ মাস দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে ছুটি। ১২ মাস মেয়াদি শিক্ষাবর্ষের প্রায় অর্ধেক সময় এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।