গত ২২ ডিসেম্বর ডাকসু গেট বন্ধ করে ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের ওপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলার ঘটনা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাস যখন উত্তাল, তখন ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কর্মী সালেহউদ্দিন সিফাতের কয়েকটি ছবি।
সালেহউদ্দিন সিফাতের ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স।
তিনি লিখেছেন, মুখোশ উন্মোচন। এই হলো নুরুর চেলা সিফাত, ছাত্রশিবির, অর্থসম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। সংযুক্ত ছবিগুলোতে লক্ষ করুন– চাপাতি হাতে, দেশীয় অস্ত্র হাতে, ছুরি হাতে কেমন বর্বর পৌশাচিক আক্রমণ চালাচ্ছে। একবার ভাবুন তো এই সন্ত্রাসীরা ক্ষমতা পেলে কি করতে পারে?
মোতাহার হোসেন প্রিন্সের সমর্থনে এসব ছবি ও একই রকম বক্তব্য দিয়ে আরও অনেক ছাত্রলীগকর্মী স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন।
এদিকে ছুরি হাতে সিফাতের ছবি পোস্ট করে এমন স্ট্যাটাস দেয়ায় সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে রসিকতাও করেছেন কেউ কেউ।
তার সেই পোস্টে মেহেদি হাসান নামে একজন লিখেছেন, আপনাদের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে নুরের ষড়যন্ত্রে USA, NATO, EU, WB, IMF, Illuminate society, Zionist group, রথচাইল্ড ফ্যামিলি, লকহিড মার্টিন, জেনারেল ডাইনামিক্স, বোয়িং, রেইথন, ডেসাল্ট অ্যাভিয়েশন, শেল, শেভরন, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম প্রভৃতি যুদ্ধবাজ জায়ান্ট কোম্পানিসহ CIA, মোসাদ, আমান, FBI, MI6, KGB এবং সেরা কমান্ডো বাহিনী নেভি সীল এসব বহিরাগতডাকসু ভবন দখলের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে। তবে ফেসবুকে ভাইরাল ছবিগুলো নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কর্মী সালেহউদ্দিন সিফাত।
তার দাবি, তাকে নিয়ে গুজবে মেতেছে ছাত্রলীগের কিছু কিছু নেতাকর্মী। এসব ছবি একটি ফানি ভিডিওর স্ক্রিনশট।
এ বিষয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন সিফাত।
সিফাত বলেছেন, ‘ছবির ওই ছুরিটা একটা চপিং নাইফ। আমরা রমজানে একটা ইফতার পার্টি করেছিলাম। রান্নার দায়িত্ব আমাদের কয়েকজনের ওপর ছিল। তখন মজা করে এই ভিডিওটি বানানো হয়েছিল। আর এরা আমাকে কি বানিয়ে দিল?’
তিনি বলেন, ‘চন্দ্রনাথ পাহাড়ে লাঠি হাতে উঠছিলাম। ওঠার সময় ২০ টাকা দিয়ে এই লাঠি কিনেছিলাম। সবাই গ্রুপ ফটো তুলছিলাম। আর সেই লাঠির ছবি পোস্ট করে ছাত্রলীগের কর্মীরা আমাকে লাঠিয়াল বানিয়ে দিল।’
কী কারণে তাকে নিয়ে এমন মিথ্যা রটানো হয়েছে এমন প্রশ্নে সিফাতের দাবি, ইস্যু ঘুরিয়ে আসল ব্যাপারটি ঢাকতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে। ২২ ডিসেম্বর ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দায় যখন দেশবাসী সোচ্চার, তখন বিষয়টি অন্যদিকে প্রবাহ করতে তারা এতটা নিচে নেমেছে।’








