বাংলাদেশে সন্দেহভাজন জঙ্গি গোষ্ঠী ‘আল্লার দল’এর সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বলে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “সরকারের কাছে এ মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, ‘আল্লাহর দল’ নামক জঙ্গি দল/সংগঠনটির ঘোষিত কার্যক্রম দেশের শান্তি শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ইতোমধ্যে দল/সংগঠনটির কার্যক্রম জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হওয়ায় বাংলাদেশে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।”
সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে কথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা এ সংগঠন যে নিষিদ্ধ হচ্ছে, সে ইংগিত এ মাসের শুরুতেই দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
আরও সাতটি সংগঠনের তথ্য গোয়েন্দো পুলিশের হাতে রয়েছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের পর এসব সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গত ৩ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন তিনি।

এ নিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা ও উগ্র ইসলামি সংগঠন হিসাবে সাতটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হল।
অন্য সাতটি সংগঠন হল- জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি), শাহাদাৎ-ই আল-হিকমা, হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং আনসার আল ইসলাম।
এর মধ্যে জেএমবিসহ চারটি সংগঠন নিষিদ্ধ হয় ২০০৫ সালে। বোমা হামলা চালিয়ে বিচারক হত্যার দায়ে জেএমবির শীর্ষনেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।
উগ্রপন্থা প্রচারের জন্য ২০০৯ সালে নিষিদ্ধ করা হয় হিযবুত তাহরীরকে।
সংগঠনটির আমির মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী ওই মামলার রায়ে দোষি সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করছেন। তার দুই অনুসারীর মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন এবং আরও চারজনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজার রায় এসেছে।
২০১৫ সালের মে মাসে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধ হওয়ার পর এর সদস্যরাই সেনাবাহিনীতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পরিকল্পনাকারী বরখাস্ত মেজর জিয়াউল হকের নেতৃত্বে আনসার আল ইসলাম নামে তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। ২০১৭ সালের মার্চে আনসার আল ইসলামকেও সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।








