আনোয়ারা প্রতিনিধি: স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক বার গিয়েও ভুল জন্মতারিখ সংশোধন করা যায়নি, হলোনা জেএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন। ক্ষোভে আর অপমানে আনোয়ারা কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র দুর্জয় দাশের আত্মহত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে উপজেলার কৈনপুরা স্কুলের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন নিহত ছাত্রের আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীরা৷
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সবুজ দাশের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কৈনপুরা সচেতন সংঘের সহসভাপতি সুরজিত দত্ত সৈকত, স্কুল প্রতিষ্ঠাতার নাতি ভাস্কর দত্ত, রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সভাপতি কাজল দাশ, প্রাণতোষ দত্ত, সুশান্ত দত্ত, নন্দন ঘোষ, দেবাশীষ দাশ, বরুণ দাশ ও আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিউদ্দিন।
এসময় বক্তারা বলেন, দুর্জয় দাশ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার জন্মনিবন্ধন সনদে বয়স ভুল থাকায় জেএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন করতে বাঁধা পড়ে। বয়স সংশোধন করতে স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক বার গিয়ে হয়রানির শিকার হয়। তবুও সংশোধন করতে পারেনি জন্ম তারিখ, হলোনা জেএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন। ক্ষোভে আর অপমানে গত সোমবার নিজ বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।
অভিযোগ করে আরও বলেন, জন্ম তারিখ সংশোধন করে জেএসসি পরীক্ষার নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও বিদ্যালয় থেকে তাকে সহযোগিতা করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক চাইলে তাকে সহযোগিতা করে নিবন্ধনের সুযোগ করে দিতে পারত। কিন্তু তিনি তা করেননি। তার অবহেলায় সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তাই যারা দুর্জয়ের সঙ্গে অপরাধমূলক আচরণ করে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে তাদের বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টানত্মমূলক শাস্তি দাবি করছি।
নিহত দুর্জয় দাশের মা-বাবা কান্নাজড়িত কন্ঠে ছেলের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার দাবী করেন।
আগামী রোববার প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের পরিচালনা সংসদ জরুরি সভা ডেকেছে বলেও জানা গেছে।








