নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় স্বার্থে বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে হবে

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনীতির হৃদপিণ্ড উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ বলেছেন, স্টেক হোল্ডারদের নিজস্ব ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে হবে।

 

সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, করোনা থেকে বাঁচার মহৌষধ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। এটি মেনে বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে সমন্বিত প্রস্তাবনা পাঠাতে হবে। বন্দরের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে বন্দরের জট কমবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শেখ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বন্দর বন্ধ হলে দেশ বন্ধ হয়ে যাবে। কনটেইনার ডেলিভারি হচ্ছে না। আমরা সমস্যা চিহ্নিত করতে পেরেছি। সবার সহযোগিতা পেলে চার দিনের মধ্যে ম্যানেজ করতে পারবো।

কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, রফতানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বিলাসবহুল বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি ছাড়ে কিছুটা বিধিনিষেধ আছে। কিন্তু নিত্যপণ্য, ফল, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, কৃষি উপকরণ ছাড় হচ্ছে। এখন প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি ডকুমেন্ট সাবমিট হচ্ছে। বন্ডের পণ্য খালাস করে সুবিধামতো জায়গায় বড় ঝুঁকি দেখি না।

তিনি বিলেন, আমার দফতর সার্বক্ষণিক খোলা। ব্যাংক বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত খোলা রাখলে আমদানিকারকদের সুবিধা হবে। বন্দরের জট কমাতে আমদানিকারককে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, আমদানি রফতানির জন্য ব্যাংক ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে। আমাদের পে অর্ডার নিতে হয়। আমদানি ডেলিভারি বাড়াতে হবে। রেফার কনটেইনার দ্রুত ডেলিভারি নিতে হবে। বন্দরকে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যায় না।

বন্দরের পরিচালক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম বলেন, করোনা ভাইরাসের মতো বিশ্ব দুর্যোগের বিষয়ে আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো না। ৯৮ শতাংশ কনটেইনার ট্রেড ও ৯২ শতাংশ কার্গো হ্যান্ডেল করে চট্টগ্রাম বন্দর। শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টম, রেলওয়ে, অফডকসহ ২০-২৫ ধরনের স্টেক হোল্ডার রয়েছে বন্দরের। বন্দরে দিনে ৪ হাজার কাভার্ড ডেলিভারির জন্য ঢুকে। এখন করোনা পরিস্থিতিতে ডেলিভারি কমে গেছে।

তিনি বলেন, কমলাপুর, পানগাঁও থেকে ডেলিভারি বাড়লে সেখানে বন্দর থেকে কনটেইনার পাঠানো যাবে। এসএপিএলের কনটেইনার ফাঁকা আছে, কাস্টম অ্যালাউ করলে সেখানে কনটেইনার পাঠানো যাবে। বন্দর সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের ২৪ ঘণ্টা বা পূর্ণ দিবস খোলা রাখতে হবে।

বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মজুরিসহ স্থির খরচ ঠিক থাকলেও কনটেইনার ডেলিভারি কমে যাওয়ায় জাহাজ থেকে পর্যাপ্ত কনটেইনার তুলতে বা নামাতে পারছি না। যেকোনো মূল্যে বন্দরের ডেলিভারি স্বাভাবিক করতে হবে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর সম্পাদক লিয়াকত আলী হাওলাদার বলেন, সরকারি কর্মকর্তা যদি বন্দরে যাওয়া রিস্কি মনে করেন তাহলে ডেলিভারি কীভাবে হবে? ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট বেশি সময় খোলা রাখতে হবে।

বন্দরের স্টোর রেন্টের মতো শিপিং এজেন্টের ডেমারেজ চার্জ মওকুফ, বেসরকারি আইসিডি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবি জানান বিজিএমইএর পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ।

বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ১৯টি অফডকে ৩৭ ধরনের পণ্য হ্যান্ডেল হয়। রফতানি ২০ শতাংশে নেমেছে। সরকারের অনুমোদন পেলে আইসিডিতে নতুন পণ্যের ১৫ হাজার কনটেইনার রাখা যাবে।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) এসএম মোস্তাক আহমদ বলেন, বন্দরের কাজে নিয়োজিতদের চলাচলে সহযোগিতা করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেকোনো সমস্যায় পড়লে আমাদের কনট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে পারেন।

সভায় বক্তব্য দেন বন্দরের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর শফিউল বারী, বিকেএমইএর শওকত ওসমান, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বাফার পরিচালক খায়রুল আলম সুজন, পরমাণু শক্তি কমিশনের ড. শাহাদাত হোসেন, উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ পরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল, বিএসটিআই পরিচালক মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রামের নির্বাহী পরিচালক একেএম মহিউদ্দিন আজাদ প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, বি. জেনারেল কবীর আহমদ, কোস্ট গার্ডের স্টাফ অফিসার লে. কমান্ডার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।