জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যারয়ের আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ পেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় ছাত্রলীগের কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনন্সিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে নওফেল বলেন, “কেউ যদি মনে করে কোনো পক্ষ দোষ করেছে, কোনো অনিয়ম হয়েছে, সেই দোষ বা অনিয়মের প্রমাণাদিসহ আপনারা আমাদের কাছে আসুন। আমরা ইতোমধ্যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
“কিন্তু সেই ধরনের অভিযোগ আনার আগেই যদি আমরা এমন অচলাবস্থার তৈরি করে ফেলি যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং এই মুহূর্তে আমাদের তদন্ত করতে বেগ পাওয়ার কথা নয়। যারা শিক্ষকমণ্ডলী আছেন, তারা তো এই মুহূর্তে শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত নেই।”
অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাস অচল করে রাখার পর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনে নামা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাড়ি ঘেরাও করে।
মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু এখনও কিছু শিক্ষার্থী হলে রয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনে পুলিশ দিয়ে তাদেরকে বের করে দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আন্দোলনকালীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, “ছাত্রলীগ নামধারী বা পদবিধারী কোনো নেতা-কর্মী যদি সেখানে থেকে থাকে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধুমাত্র সরকারি দলের সাথে সম্পৃক্ত বলেই আপনি অপরাধ করে পার পেয়ে যাবেন এই ধরনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সহিংসতাই কাম্য নয়। এখন যেটা হয়, পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি হওয়ার পরে সেই দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। সেই বাদানুবাদের মধ্যে যখন উত্তেজনা সীমা অতিক্রম করে তখন সেখানে যদি সহিংস আচরণ একে অপরের ওপর করে তখন সেইটা আমরা কখনও কাম্য করি না। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই কিছু কঠিন ব্যবস্থা নিতে হয় এবং সেই কঠিন ব্যবস্থাটিই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয় আপাত বন্ধ থাকবে।
“কারণ এই পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য ষড়যন্ত্র করে হানাহানি সহিংসতা করতে পারে। এখন সেটা থেকে সবাইকে বিরত থাকার জন্য কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় আপাতত বন্ধ ঘোষণা করেছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই বন্ধ হওয়া ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সঠিক রাখা এবং সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব।”
“বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের যে প্র্যাক্টিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তই আমরা সাধারণত বাস্তবায়ন করে থাকি,” বলেন নওফেল।
জাহাঙ্গীরনগরের সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “সকলের কাছে আমরা আহ্বান জানাব যে, এই আন্দোলন বা অচলাবস্থা যাই বলি না কেন, এর ফলে আমাদের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আজকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেখানে যে উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে সেটাও স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে কিন্তু আমাদের সন্তানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপাচার্যের বাসভবন অবরোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেহেতু একজন শিক্ষক তার নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছেন সেহেতু সেখানে নিরাপত্তাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে সেটাই হচ্ছে স্বাভাবিক। তবে এখানে বল প্রয়োগের কোনো বিষয় নেই।
“আমাদের অনেক দাবি দাওয়া থাকতে পারে কিন্তু এই দাবি দাওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা যদি একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বাড়ি ঘেরাও করি সেটা তো অমানবিক এবং স্বাভাবিকভাবেই সেটা নৈতিকতার পর্যায়ে পরে না। তিনি কি বলেছেন বা বলেন নাই সেটা একটা বিষয়। কিন্তু তাকে যদি আমি শারীরিকভাবে নিগৃহিত করি বা মানসিকভাবে চাপে ফেলি তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে একটি মানবিক প্রশ্নের উদয় হয়। তো সেই মানবিক বিষয়টিও আমাদের ভেবে দেখতে হবে।”

