জামানত হারিয়েও কী ‘টিনু’ কাউন্সিলর হতে পারবেন?

যে কোন প্রার্থী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে শপথ গ্রহন

নুর মোস্তফা টিনু
ছবি: সিপ্লাসবিডি.নেট

সিপ্লাস প্রতিবেদক: নির্বাচনী বিধি অনুসারে যে কোন পর্যায়ের নির্বাচনে কোন প্রার্থী আট ভাগের একভাগ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত ও জরিমানাও করা হয়। এই বিধি অনুযায়ী সদ্য হয়ে যাওয়া চকবাজারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর উপ-নির্বাচন বড়ো গ্যাঁড়াকলে পড়েছে। ভোটার গণনা তালিকা সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, উপ-নির্বাচনে মোট ভোট গ্রহণ হয়েছে ৬৯৩২ টি। জামানত বাজেয়াপ্ত না হওয়ার জন্য প্রত্যেক প্রার্থীকে এই ভোটের ৮ ভাগের একভাগ ভোট পেতে হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক প্রার্থীকে ন্যূনতম ৮৬৬ ভোট পেতে হতো। কিন্তু সে জায়গায় বেসরকারীভাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া নুর মোস্তফা টিনু পেয়েছেন ৭৮৯ ভোট। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জামানত বাজেয়াপ্ত কোন প্রতিনিধিকে কি নির্বাচিত বলে ঘোষনা করা যাবে?

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর বহুল আলোচিত ১৬নং চকবাজারের কাউন্সিলর পদে উপনির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোট ২১ প্রার্থীর মধ্যে কারাগারে থেকেও নগরের নানাভাবে পরিচিত স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু ৭৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।  তবে অন্যান্য প্রার্থীদের মতো সংগৃহীত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় বিজয়ী প্রার্থী টিনুও জামানত হারাচ্ছেন।ফলে ভোটারদের বিরক্ত করার কারণে জরিমানা অবধারিত। অথচ এই এলাকায় মোট ভোটার ৩২ হাজার ৪১ জন । ভোটারের মধ্যে ১৬ হাজার ২১৬ জন পুরুষ ভোটার।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রিটার্নিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নিজ কার্যালয়ে ঘোষণা দেন, বেসরকারীভাবে নুর মোস্তফা টিনু কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।  তিনি আরো জানান, মোট ভোট গ্রহণ হয়েছে ৬৯৩২টি। শতকরা হারে যা ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় শেষ হয়। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলো ২১ জন। এদের মধ্যে ২০ জন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আর একজন বিএনপির। এই উপ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩২ হাজার ৪১ জন । ভোটারের মধ্যে ১৬ হাজার ২১৬ জন পুরুষ ভোটার।

বিজয়ী প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার নজির বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম বলে জানান, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম।

জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে কেউ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এরকম নজির আর আছে বলে আমার জানা নেই। এইটা একটা অকল্পনীয় আর অভাবনীয় ঘটনা ঘটে গেছে চট্টগ্রামে। যেহেতু এইটা অকল্পনীয় ঘটনাই সেহেতু আমাদের সংবিধানেও এইটা নিয়ে কোন দিক নির্দেশনা নেই। কারণ জামানত হারিয়েও কেউ ভোটে জিততে পারে এইটা কারো ভাবনায় ছিল বলে মনে হয় না। যেহেতু চকবাজার ওয়ার্ডের বিজয়ী প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সেহেতু অন্য প্রার্থীরা চাইলে ‘নির্বাচিত প্রার্থীর’ বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্ত হতে পারেন। আদালত যৌক্তিক সিদ্ধান্তই জানাবেন।

এই ব্যাপারে কোন আইনি বিধিনিষেধ আছে কিনা জানতে চাইলে রিটার্নিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সিপ্লাসকে বলেন, নির্বাচনী আইনে এরকম কোন নিষেধ নাই। তাই চকবাজার ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে বিজয়ী নুর মোস্তফা টিনুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হতে আইনী কোন বাধা দেখছেন না তিনি। তবে কেউ আদালতের দ্বারস্থ হলে সেটি আলাদা বিষয় ।

প্রসঙ্গত, টিনু ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নগরীর কাপাসগোলা এলাকার বাসা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সে মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়। পরে জামিনে বের হলেও চলতি বছরের জুন মাসে আদালতের আদেশে তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগার থেকেই সে নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, টিনুর বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। নগরীর কয়েকটি থানায় তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here