নিউজটি শেয়ার করুন

নগরীতে জায়গা জমির বিরোধের জেরে প্রতিবেশীকে খুন: দুইজনের মৃত্যুদন্ডাদেশ

জমিজমা নিয়ে বিরোধে হত্যার অপরাধে দুইজনের মৃত্যুদন্ডাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

মোঃ নেজাম উদ্দীন: বাংলাদেশের আদালতে চলমান মামলার অধিকাংশই জায়গাজমি সংক্রান্ত অর্থ্যাৎ সিভিল মামলা হিসেবে পরিচিত। ভূমিদস্যুদের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে সাধারণত নিরিহ সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় নেয়। কিন্তু আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা এসব ‘সিভিল’ মামলার সংখ্যা কয়েক লাখ। অর্থ্যাৎ দেশের সাধারণ মানুষ নিজ ভিটেমাটি রক্ষায় আদালতের দ্বারস্ত হওয়ার পর কেটে যায় যুগের পর যুগ। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি হয় না সহজে। জায়গাজমি সংক্রান্ত মামলা সাধারণত সিভিল মামলা হিসেবে গণ্য হলেও জায়গাজমির সমস্যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নানা রকমের ফৌজদারি অপরাধের জন্ম দেয়। আপনজন খুন করে বসে একে অপরকে।  উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয় স্ব স্ব থানায় বা আদালতে। এরপর চলতে থাকে আদালতে চক্কর কাটা।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর)অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে এরকমই এক মামলায় দুই আসামীকে মৃত্যুদন্ডাদেশের আদেশ দেন বিচারক আমিরুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গার কাঠগড় এলাকায় জায়গা জমির বিরোধে জেরে ঐ এলাকার আব্দুল নবীকে পুর্বপরিকল্পীতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে একজনকে হত্যার দায়ে দুই আসামীকে মৃত্যুদন্ডাদেশ, দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ, চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিরুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

আর আগে ২০০৫ সালের পতেঙ্গার কাঠগড় এলাকায় জায়গা জমির বিরোধের জেরে একই এলাকার আব্দুল নবীকে পূর্বপরিকল্পীতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই মো: জাহেদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর মামলা চলমান থেকে সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে আজকে আদালত এই আদেশ দেন।

মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, বাদশা মিয়া, মহিউদ্দিন। যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামীরা হলেন- আবদুল বারেক ও হুমায়ুন কবির। আর বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড প্রাপ্ত চারজন হলেন- সাইদুল হক, খাইরুল আলম, জেসমিন আক্তার ও লিপি আক্তার।

মামলার রাস্ট্র পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডিশনাল পিপি এড. সিরাজুল মোস্তাফা মাহমুদ। বাদী পক্ষে ছিলেন, এড. চন্দন দাশ, এড. মো: সেলিম আনছার রানা, এড. মো: মোশারফ হোসাইন, এড. নিখিল কুমার সিনহা, এড. শহিদুল আলম ও এড. রাজীব মল্লিক। আসামীপক্ষে ছিলেন- এড. স্বভু প্রসাদ বিশ্বাস, এড. জালাল উদ্দিন, এড. এম এ ফয়েজ সহ আরও অনেকে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট চন্দন দাশ সিপ্লাসকে বলেন, পতেঙ্গা এলাকায় কথিত জায়গা জবর দখল করতে এসে মামলার ভিকটিমকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন আসামীরা। দীর্ঘ পনের বছর পরে আজ মামলার রায় হয়েছে। আমাদের বিরামহীন প্রচেষ্টা ও মামলার বাদীর ধৈর্য্যশীলতায় আজ নির্মমভাবে হত্যার সঠিক বিচার পেতে সক্ষম হয়েছেন বাদী পক্ষ। মামলার সাক্ষী আদালতে হাজির করানো অনেক ঝামেলার কাজ, কিন্তু মামলার বাদী তার ধৈর্য্যশীলতা কাজে লাগিয়ে সাক্ষীদের আদালতে হাজি করাতে সক্ষম হইয়েছেন বলেই আজ এই মামলার আশানুরুপ রায় পেয়েছে বাদীপক্ষ।

অন্যদিকে বাদীকে বিভিন্ন সময় আসামীরা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য অর্থ লোভ দেখিয়েছেন তারপরও বাদী কোনভাবে মামলা প্রত্যহারে রাজী হন নাই বিধায় আজ সঠিক বিচার পেয়েছেন। মামলার বাদী পক্ষের আনীত অভিযোগ যাবতীয় প্রমানাদি বিবেচনা করে আজ একটি যুগউপযোগী রায় দিয়েছেন আদালত, তাতে আমরা সন্তুষ্ঠ, এমন রায়ের জন্য অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানাই।

আজকে এই রায়ের মর্মার্থে দেশবাসীর সচেতন হওয়ার বিষয়ও রয়েছে। কেননা জায়গা জমির বিরোধ নিয়ে নিজ প্রতিবেশীকে, আপনজনকে হত্যা করতে অনেকে কোন দ্বিধা করে না। কাউকে হত্যা করে কেউ কোন দিন ছাড় পান  নাই, হত্যাকারী একদিন না একদিন  বিচারের আওতায় আসবে, তার প্রমাণ আজকের এই রায়। এই হত্যা মামলাটি ২০০৫ সালে দায়ের করা হয়েছিল।  আজ দীর্ঘ ১৫ বছর পর মামলার যথাযথ রায় হয়েছে। এই স্বাক্ষী ভিকটিম/নিহতের মা এই মামলার সাক্ষী ছিলেন, মামলায় সাক্ষী দিয়েছেন কিন্তু তার ছেলে হত্যা মামলার রায় শুনতে পারেন নাই, মামলার রায় হওয়ার আগেই মারা গেছে নিহতে মা।

মামলার বাদী মো: জাহেদুল ইসলাম সিপ্লাসকে বলেন, আমার ভাইকে জায়গা জমির বিরোধ নিয়ে হত্যা করেছে আসামীরা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ আমার ভাইকে নির্মমভাকে হত্যার বিচার পেয়েছি,আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ঠ।

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here