জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়াঃ একজন সংগ্রামী অপ্রতিরোধ্য নারীর প্রতীকী নাম জয়িতা। যারা দারিদ্রতাকে পেছনে ফেলে একাগ্রতা ও পরিশ্রমে সফলতা অর্জন করেন। এরকম হার না মানা দৃঢ়তায় সফলতা পেয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার পাঁচজন নারী। সমাজের নানা বঞ্চনা, অবহেলা, নির্যাতন প্রতিহত করে তাঁরা এখন এলাকায় অনুকরণীয়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি এই ৫ সফল নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। সম্মাননা পাওয়া সংগ্রামী এই ৫ নারীর জীবন কাহিনী একেক জনের আলাদা আলাদা। কেবল নিজের অদম্য ইচ্ছাকে সম্বল করে চরম প্রতিকূলতাকে জয় করে জীবনযুদ্ধে সফল হয়েছেন।
অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী পারভিন আকতার :
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ ইছামতি গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে পারভিন আক্তার। তিনি একজন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী। ১৯৭৯ সালে রাঙ্গুনিয়ার গোয়াচ পাড়ায় তার জন্ম। ৬ বছর বয়সে পোলিও তে আক্রান্ত হয়ে তার পা দুটি বেঁকে যায়। তার পিতা একজন হত দরিদ্র কৃষক ছিলেন। তারপরও মেয়েকে সুস্থ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
তার বিয়ে হয় রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছামতি এলাকার মো. সেলিমের সাথে। বিয়ের ৪ (চার) বছরের পর তার স্বামী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও সন্তানদের নিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েন পারভিন। খুব অভাব অনটনে সংসার চলতো। সংসারের এরকম দুরাবস্থায় কি করবেন তিনি বুঝতে পারছিলেন না।
তারপরও কোন রকম হতাশ না হয়ে সন্তানের দিকে তাকিয়ে তাদের মুখে আহার জোটাতে খোড়া পায়ে ঘর ছেড়ে সংগ্রামের পথে নামেন শারীরিক প্রতিবন্ধি পারভিন আকতার । তিনি একটি এনজিও সংস্থা হতে সেলাই কাজ ও হাতের কাজ শিখেন । এরপর তিনি কাঁথা বানানো, বেঁতের মোড়া বানানোসহ সেলাই কাজ করে সংসারের অভাব অনটন দূর করে আস্তে আস্তে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন। তার ১ মেয়ে তানজু ৭ম শ্রেণীতে ও ১ ছেলে ফাহিম ১ম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট খাট অভাব অভিযোগ থাকলেও পারভিন আকতার জানায় সে এখন সুখী। পারভিন আকতারের স্বপ্ন তার ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে সুশিক্ষিত করে আত্ননির্ভরশীল করে গড়ে তোলা।
পারভিন জানায়, তার শৈশব ও যৌবন কেটেছে অবহেলা আর লোক দেখানো সহমর্মিতায়। হত-দরিদ্র কৃষক বাবার সংসারে সে ছিলো অপাংতেয়। দূর্বিসহ জীবনে মেহেদীর রং লাগলেও তা বেশি দিন টিকেনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার দিন কেটেছে অর্ধাহারে-অনাহারে। এমনও দিন কেটেছে যে তার অবুঝ শিশুর মুখে আহার দিতে পারেননি। এখন তার বর্তমান অবস্থা অনেক ভাল। সমাজের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে তিনি নিজে আত্ননির্ভরশীল হয়েছেন এবং তার উৎপাদনমূখী কাজে সমাজের অন্যান্য মহিলাদেরকে আত্ন- কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করছেন। বর্তমানে তিনি আর্থিকভাবে সফল এবং সমাজে একজন সংগ্রামী নারী হিসেবে পরিচিত। নারী উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী পারভিন আকতার প্রতিবেশীদের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ।
শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী পারমিতা বড়ুয়া :
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক ৪নম্বর ওয়ার্ড এলাকার রনজিৎ কুমার বড়ুয়ার স্ত্রী পারমিতা বড়ুয়া। ১৯৬৭ সালের ৩১ অক্টোবর রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঘাটচেক গ্রামে তার জন্ম। তিনি বাবা মার সর্বকনিষ্টা মেয়ে । তিন বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর তার বড় ভাই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন। ছোটবেলা থেকে পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি নাচ ও খেলাধুলায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি এইচএসসি তে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তার মায়ের ইচ্ছে ছিল তিনি ডাক্তার হবেন।
কিন্ত সামাজিক কারণে তিনি এইচএসসি পাশ করার পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা বিভাগের অধ্যাপক ড. রনজিৎ কুমার বড়ুয়ার সাথে। শুরু হয় তার সংসার গঠনের যুদ্ধ। যে যুদ্ধে তাকে তার মা সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন। অনেক অনিশ্চয়তা ও শংকার মাঝে তিনি অনার্সে ভর্তি হন। এরই মধ্যে তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
অনেক বাধা বিপত্তি পেড়িয়ে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করে রাঙ্গুনিয়া হাসিনা জামাল ডিগ্রী কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। চাকুরি ও সংসার জীবন একসাথে সামলাতে গিয়ে অসীম ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমফিল করার জন্য ভর্তি হন। কিন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম ফিল শেষ হওয়ার পর ফলাফল এর পূর্ব মুহুর্তে তার স্বামী দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের হসপিটালগুলোতে ১০ মাসের যথাসাধ্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা করার পরও তিনি মৃত্যবরণ করেন।
এমতাবস্থায় তার চার সন্তানকে নিয়ে তিনি অনেক কষ্টের মধ্যে পড়ে যান। চার সন্তানের লেখাপড়া, বড় মেয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে, মেঝোটা পড়ছে বায়োকেমিষ্ট্রিতে, ছোট মেয়ে এইচ,এস,সি, পরীক্ষা দিবে ও ছেলেটা এস,এস,সি, পরীক্ষা দিবে এমন পরিস্থিতে সংসারের খরচ চালানো তার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তিনি অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে ষ্কুল-কলেজে ও টিউশনি করতে যেতেন ।পারিবারিক আর্থিক অস্বচ্ছলতা আনয়নের পাশাপাশি সন্তানদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে গিয়ে লোকনিন্দার সম্মুখীন হয়েছেন। তারপরও তিনি সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন। বড় মেয়েকে পাত্রস্থ করার পর সে বর্তমানে আমেরিকাতে চাকুরিরত আছে, মেঝো মেয়ে ২য় স্থান অর্জন করে বায়োকেমিষ্ট্রিতে মাষ্টার্স শেষ করেছে, ছোট মেয়ে ভেটেরিনারী মেডিকেল থেকে ডাক্তারি পাশ করে আমেরিকান ট্রাষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনিশীপরত আছে এবং ছোট ছেলেট ট্রিপলীতে অনার্স পড়ছে।
পেশাজীবনে সাহসী, বলিষ্টা , নির্লোভ ও নিষ্টাবান হিসেবে সুনাম অর্জন করায় বর্তমানে তিনি রাঙ্গুনিয়া হাসিনা জামাল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। জীবনের কষ্টগুলোকে পেছনে ফেলে কঠোর শ্রম, মেধা ও ইচ্ছেশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সফল জননী নারী দিলু আরা বেগম :
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নের রফিক আহমদের স্ত্রী দিলু আরা বেগম। তিনি একজন দিলু আরা বেগম একজন সফল জননী। ১৯৮০ সালে তার সাথে বিয়ে রফিক আহমদের। তাদের তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তিন কন্যা সন্তান হওয়া সত্বেও তিনি কখনো দুঃখবোধ করেননি। কারণ তিনি কখনো পুত্র ও কন্যার মধ্যে পার্থক্য করেননি। তিনি স্বপ্ন দেখতেন এই তিন কন্যা সন্তানকে সুশিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
এক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ থেকে বিভিন্ন বাধা আসলেও তিনি কখনো পিছপা হননি। শ্বশুর বাড়ির আত্নীয়রা তিন মেয়ে বলে তাহাকে কটুক্তি শোনাত। সবসময় মেয়েদেরকে পড়াশোনা না করিয়ে বাল্যবিবাহ দিতে পরামর্শ দিত। কিন্ত তিনি তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। এমনকি তার সংগ্রামীর তিন মেয়ে বলে অসুখী ছিলেন। তিনি তার মেয়েদের পড়াশোনার পাশাপাশি গান ও সেলাই কাজে পারদর্শী করে গড়ে তুলেন। বর্তমানে তাহার বড় মেয়ে রাশেদা বেগম রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স মাষ্টার্স ও বি,এড করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ’’আমার বাড়ি আমার খামার’’ অফিসে উপজেলা সমন্বয়কারী এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। মেজ মেয়ে রাজিয়া সুলতানা প্রাণিবিদ্যায় অনার্স মাষ্টার্স করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আধুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। আর ছোট মেয়ে রেহেনা আকতার ইংরেজিতে অনার্স মাষ্টার্স করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ছৈয়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মোটকথা জীবনের এই পরিক্রমায় তার সবচেয়ে বড় পাওয়া ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষিত করে গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের কাছে তিনি সফল জননী হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন শাহাজান বেগমঃ
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ছৈয়দুরখীল এলাকার সরুফ আলীর মেয়ে তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। এতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েই থমকে যায় তার শিক্ষা জীবন। তিনি পরিবারের বড় মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর ছোট ৩ বোন, ৩ ভাই ও মাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন।
তবে তিনি নিজে আত্ননির্ভরশীল হওয়ার চিন্তা করেন। কিভাবে আত্ননির্ভরশীল হওয়া যায় সেই চিন্তার এক পর্যায়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় হতে ২০০২ সালে সেলাই ও এমব্রয়ডারী কাজের প্রশিক্ষন গ্রহণ করে।
প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই কাজ করেই দূর হয় তার পরিবারের অভাব অনটন। সেলাই কাজে তার নিজ বাড়িতে চারজন কর্মচারী নিয়োগ করে তার কার্যক্রম বৃদ্ধি করেন। সে বাহির হতে অর্ডার নিয়ে আয় উন্নতি করতে থাকে। ২০ বছর বয়সে শাহাজান বেগম এর বিয়ে হয়।
কিন্ত দূর্ভাগ্য শাহাজান বেগম বিয়ের পর হতে স্বামীর সংসারে যৌতুকের জন্য মারধর ও নির্যাতনের শিকার হন। বিয়ের ৩ বছর পর তার ১ মেয়ে (৩ বছর) ও ১ ছেলে (১ মাস) সন্তান রেখে তার স্বামী পালিয়ে যায় এবং এখনও নিরুদ্দেশ।
বাবা হারা স্বামী হারা শাহাজান বেগম সংগ্রামী জীবন যুদ্ধে থেমে থাকেনি। আবারও সেলাই কাজের পাশাপাশি ব্র্যাক ওয়াশ অফিসে অফিস সহায়ক এর কাজ নেয়। বর্তমানে তার সংসারের খরচ মিটিয়ে ভাই বোনের আত্ননির্ভরশীল করে তোলার জন্য চেষ্টা করছেন । এছাড়া তিনি নিজের ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। তার মেয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে ও ছেলে ৫ম শ্রেণীতে পড়ে ।
গ্রামের অনেক মহিলাকে সেলাই কাজ শিখিয়ে আত্ননির্ভরশীল করে তোলেন। এখন দুই সন্তানকে নিয়ে শাহাজান বেগম জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়ে খুব সুখী। নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি হতাশাগ্রস্থ না হয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতার সাথে সাথে পরিবারেও শান্তি ফিরে এসেছে। তিনি নির্যাতনের বিভীষিকা অতিক্রম করে আত্ননির্ভশীল হিসেবে সমাজে দৃষ্টান্ত রেখেছেন।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন শামীমা আকতারঃ
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ড আদর্শগ্রাম ছমদ উদ্দিন শাহ বাড়ির মৃত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী শামীমা আক্তার। তিনি তার পিতা-মাতার ৭ সন্তানের (৩ বোন ও ৪ ভাই) মধ্যে বড় সন্তান। তার জন্মস্থান মরিয়মনগর ইউনিয়নের আমিরিয়া পাড়া গ্রামে।
তার বিয়ে হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম এলাকায় । বর্তমানে তিনি শ্বশুর বাড়িতে আছেন । তিনি শ্বশুর বাড়ী এলাকার আশে পাশের লোকদের বিভিন্ন সমস্যায় রাত ১২টা/ ১টা যে কোনো সময় এগিয়ে আসেন বলে এলাকার লোকজন তাকে ভাল জানেন এবং এলাকাবাসীর ভালোবাসায় তিনি চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ড হতে মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
মহিলা মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে ও পরে তিনি এলাকার মহিলাদের পারিবারিক বিবাদ মিটানো সহ নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছেন।
এছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকাল, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রাপ্তিতে এলাকার দরিদ্র, অসহায় জনগণকে সহযোগিতা করেন। এলাকার মহিলাদেরকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য তিনি তাদেরকে উৎপাদনমুখী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষন গ্রহণে পরামর্শ দান ও ঋণ গ্রহণে সহযোগিতা করছেন।
এছাড়াও তিনি একা নিজে উদ্যোগী হয়ে স্যানিটেশন সচেতনতা সৃষ্টি সহ অনেকগুলো বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, বহুবিবাহ রোধ ও যৌতুক সহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন। দুঃস্থ ও অসহায় নারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সোনিয়া সফি জানান, জয়িতারা বাংলাদেশের বাতিঘর। জয়িতাদের দেখে অন্য নারীরা অনুপ্রাণিত হলে ঘরে ঘরে জয়িতা সৃষ্টি হবে। আর তা হলেই বাংলাদেশ তার গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।








