সিপ্লাস ডেস্ক: লকডাউন শিথিলের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার মানুষের প্রাণ বাঁচানোর চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বুধবার নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি।
এই আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার এই মহামারীকালেও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করছে।
ফখরুল বলেন, “আজকে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জোর করে নিয়েছেন, তারা জনগণকে কোনো মূল্য দেন না, তাদের কাছে অনেক বেশি মূল্য হচ্ছে ব্যবসার, তাদের কাছে অনেক বেশি মূল্য হচ্ছে তাদের সো-কলড প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর।”
সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এমনকি প্রধানমন্ত্রীর যিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ সাহেব তিনিও বলেছেন যে, এটা খুব ভুল সিদ্ধান্ত হচ্ছে, এটা একটা সুইসাইডাল সিদ্ধান্ত।
“আমরা কার কাছে কী বলব? কোথায় যাবেন আপনারা? এদেশের মানুষ কার কাছে যাবে? এদেশের প্রতিটি মানুষ আজকে আতঙ্কে আছে।”
মান্না বলেন, “এই সরকার আমাদের সরকার নয়, এরা পুরো ব্যবসায়ীদের সরকার। যে ডাক্তার চিকিৎসা করছেন এত বিপদের মধ্যেও ওদেরকে পিপিই দিতে পারে না, অথচ এই পিপিই এক্সপোর্ট করে বেক্সিমকো যাতে লাভ করতে পারে, তার জন্য কিন্তু গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সরকার ডাক্তারদের জন্য না, পুলিশদের জন্য না, মালদার যারা, তাদের জন্য।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে মান্না বলেন, “বলছেন ১৫ দিন দেখব, তার পর কঠোর হবে।
“আপনারা কী দেখবেন? প্রতিদিনই তো সংক্রমণ বাড়ছে, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। চরে খাও, বাঁচলে বাঁচো, মরলে মরো- এই হচ্ছে সরকারের ।”
দেশ এখন রসাতলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল।
তিনি বলেন, “আমরা মনে পড়ছে অনেক আগের কথা। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সাহেব সমিতির প্রথম অধিবেশনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সামনে বসিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ তীব্র গতিতে রসাতলে যাচ্ছে। আজকেও বাংলাদেশ রসাতলের দিকে যাচ্ছে।”
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, “ডাক্তারদের তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য যেসমস্ত কিটস, ইকুপমেন্ট দরকার, সেই সমস্ত ইকুপমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি। এগুলো নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়ে্ছে।”
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, “ভীত না হয়ে আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করা্র চেষ্টা করতে হবে।”
সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, “করোনার এই ভয়াবহ দুর্দিনে আরও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে বিদ্যমান শাসন কাঠামো পরিবর্তন করে সকলকে নাগরিক ঐক্য পালন করতে হবে।”
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের সরকারি অনুমোদন না দেওয়ার সমালোচনাও করেন মান্না।
নাগরিক ঐক্যের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই আলোচনা সভা হয়।
দলটির সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় এই সভায় গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিও ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন।
সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আকবর খান ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান।








