সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের হালিশহরস্থ করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা সাজ্জাত হোসেন কিছুটা সুস্থ হয়ে জেলারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে তাদের আইসোলেশন সেন্টারে ফিরে গেছেন।
তার শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে গত ২৬জুলাই করোনা চিকিৎসায় সরকারিভাবে নির্ধারিত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯দিন চিকিৎসা নেয়ার পর তার শারিরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি সোমবার(৩আগষ্ট) নিজেদের আইসোলেশন সেন্টারে গিয়ে আইসোলেশনে আছেন বলে জানান আইসোলেশন সেন্টারটির প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান।

ডা. মিনহাজ সিপ্লাস কে জানান, হালিশহর আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা সাজ্জাতের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই সাজ্জাতের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে নমুনা পরীক্ষায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।এক্সরে করার পর সাজ্জাতের ফুসফুস গুরুতর ভাবে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পরে। তার অক্সিজেন সিচারুশেনও অনেক নিচে নেমে যায়। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ অনিরুদ্ধ ঘোষের পরামর্শে তাকে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে বিভিন্ন রকমের এন্টি ভাইরাল ইঞ্জেকশন দেয়া হয়। এছাড়া উপুর হয়ে শোয়াসহ বিভিন্ন ধরনের শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়ামের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আইসোলেশন সেন্টারে নিয়মিত রোগীদের সংস্পর্শে যেতেন সাজ্জাত। তাদের কাছ থেকে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছি- বলেন ডা. মিনহাজ।
ডা. মিনহাজ আরো বলেন, সাজ্জাত এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। তবে নিয়মিত ঔষধ সেবন করলে এবং ব্যায়ামগুলো করলে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
সাজ্জাত সিপ্লাসবিডিডটনেটকে বলেন, এখন পাঁচ লিটার করে অক্সিজেন নিয়ে চলছি। আইসিইউতে থাকাকালীন প্রতিদিন তিন চারজন করে আইসিইউতে রোগী মারা গিয়েছিলো। ভয় পেলেও মনের জোরে আমি আইসিইউ থেকে মুক্ত হওয়ায় শোকরিয়া করছি।
এদিকে সাজ্জাত সোমবার(৩আগষ্ট) বিকালে তার ফেইসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেন-আল্লাহ তায়ালার অশেষ কৃপায় ৯দিন পর আইসিইউ থেকে আইসোলেশনে ফিরলাম।এ যাত্রায় শুধুমাত্র মনের জোরে বেঁচে গেলাম!
২৬ জুলাই তিনি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় লিখেছিলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমাকে। এই যাত্রা যেন শেষযাত্রা না হয়।’
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হালিশহরের পোর্ট কানেকটিং সড়কে একটি কমিউনিটি সেন্টারে গড়ে তোলা ১০০ শয্যার করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর একদল তরুণকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে আইসোলেশন সেন্টারটি গড়ে তোলেন তিনি। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে এই আইসোলেশন সেন্টার শুরু থেকেই সাড়া ফেলে। দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কোভিড রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাজ্জাত। ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে তার নিজের জীবনই এখন সংকটে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েকদিন ধরে অসুস্থ সাজ্জাত নিজের আইসোলেশন সেন্টারেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।








