দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রবেশ করার একমাত্র জেটিঘাটটি এখন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিগত কয়েক বছর পূর্বে থেকে জেটিঘাটটি ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। এভাবে ক্রমান্বয়ে চলতি বছর পর্যন্ত চলে এসেছে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে কোনো ধরণের সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় এবছর জেটিঘাটটি আরও বেশি ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করেছে। যা দেশ বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের নজরে এসেছে। সেই সাথে তারা জানিয়েছেন শঙ্কার কথাও। প্রতিবছর অক্টোবরের শেষের দিকে বা নভেম্বরের শুরু থেকেই মূলত দেশের অন্যতম এই আকর্ষণীয় দ্বীপটি ভ্রমণ শুরু হয়। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি।
গত ১নভেম্বর থেকে পর্যটকদের কক্সবাজার আগমন এবং সেইসাথে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ শুরু হয়। লক্ষণীয় যে এবছরও শুরু থেকেই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের ঢল নেমেছে। পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় হাজার খানেক পর্যটক নিয়ে ৩ টি পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনে যাতায়াত শুরু করেছে। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে দ্বীপটির বিভিন্ন দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। এদিকে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌ রুটে পহেলা নভেম্বর থেকে পর্যটক বাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়ায় দ্বীপ ও দ্বীপের বাহিরের পর্যটক নির্ভর ব্যবসায়ীদের মুখে বাঁকা চাঁদের হাসি দেখা গেলেও নিমিষেই তা কলঙ্কিত হচ্ছে জরাজীর্ণ জেটির কারণে। উক্ত জেটি পার হওয়ার ভয়ঙ্কর অনুভূতিগুলো পর্যটকদের রীতিমত তটস্থ করে তুলেছে। এবিষয়টি পর্যটনসেবী ও পর্যটক উভয়কেই শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।
ঢাকা থেকে আগত চিত্রগ্রাহক পলাশ খান (৩৫) বলেন, প্রতি বছরই কক্সবাজার সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করি। সব জেলায় ঘুরলেও সেন্টমার্টিন না আসলে ভ্রমন অসমাপ্ত থেকে যায়। এজন্য সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ করা। কিন্তু সেন্টমার্টিন জেটি দেখে আমি ভয় পেলাম। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অন্য জনের সাহায্যে জেটিতে উঠানামা করি। পর্যটক এলাকায় ঝুকিপুর্ণ জেটিতে দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না। সেন্টমার্টিন রুটে চলমান জাহাজ সংশ্লিষ্টরা বলছে- জেটিতে ভাঙ্গনে যাত্রী উঠানামায় তারা খুবই শংকিত। জাহাজ ভিড়তে প্রয়োজন নিরাপদ জেটি। জেটিটি নষ্ট এবং বিপদজনক হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে জাহাজটিও। সুতরাং জেটিতে সংস্কার অপরিহার্য্য।
সেন্টমার্টিনের সাবেক একজন জনপ্রতিনিধি জানান- সেন্টমার্টিনে হাজারের বেশি পর্যটকের আগমন হয়েছে। জেটির জরাজীর্ন অবস্থা উপরের মহলকে ইতিপূর্বে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে বলে জানি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনো বাস্তবিক কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। নতুন জেটি নির্মান না হওয়া পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণ ভালো মানের গাছ ও টায়ার বেধে দিয়ে প্রাথমিক ঝুঁকি কিছুটা এড়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো ভাবেই নারিকেলগাছ বা নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা যাবে না। তবে এসব টেকসই সংস্কার নয়।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি উপজেলা পরিষদের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এবং এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তেমন কোনো দায়দায়িত্ব নেই বলে জানান।
কিন্তু পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলমের কাছে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। যার ফলে এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ১নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে দমদমিয়া ঘাট থেকে এমবি ফারহান ক্রুজ ৩ শত ৮০ জন, দ্যা আটলান্টিক ৩ শত৫০ জন, কেয়ারী ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস পরিচলনায় কেয়ারী ক্রুজএন্ড ডাইনে ৩ শত১০ জন সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যায়।








