সিপ্লাস প্রতিবেদক: কোতোয়ালী থানাধীন নিউ মার্কেট মোড় বাটা শো রুমের সামনে থেকে কাঁচা মালের বিক্রয় বাবদ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তা দোকানে জমা না দিয়ে পালানোর সময় আসামী মোঃ আলাউদ্দিন (৫৫) ও মোঃ শেখ ফরিদ পলাশ (২৫) কে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) আত্মসাতকৃত টাকাসহ আটক করা হয়।
মোঃ আলাউদ্দিন (৫৫) পিতা- তোফাজ্জেল হোসেন, সাং- উত্তর দিঘলদী, আমিন উদ্দিন হাজী বাড়ী, পোঃ গজারিয়া, উত্তর দিঘলদী ইউপি,৮নং ওয়ার্ড, থানা-ভোলা সদর, জেলা-ভোলা, কর্মক্ষেত্রের ঠিকানা-কর্মচারী মেসার্স নিউ যমুনা ট্রেডার্স, ২০নং ইলেকট্রিক লেইন, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, থানা-কোতোয়ালী, এবং মোঃ শেখ ফরিদ প্রঃ পলাশ (২৫) পিতা-জাহাঙ্গীর দরবেশ, সাং- উত্তর দিঘলদী দরবেশের বাড়ী, পোঃ গজারিয়া , উত্তর দিঘলদী ইউপি, ৮নং ওয়ার্ড, থানা-ভোলা সদর, জেলা-ভোলা, কর্মক্ষেত্রের ঠিকানা-কর্মচারী মেসার্স নিউ যমুনা ট্রেডার্স, ২০নং ইলেকট্রিক লেইন, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম।
থানা ও মামলা সুত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মোঃ মহিউদ্দিন রিয়াজ উদ্দিন বাজার ২০নং ইলেকট্রিক লেইনস্থ মেসার্স নিউ যমুনা ট্রেডাস নামীয় কাঁচামালের আড়ৎ ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট বাকীতে কাঁচামাল সরবরাহ করে। আসামী মোঃ আলাউদ্দীন (৫৫) তার দোকানে প্রায় ২ বছর যাবত কর্মচারী হিসেবে কাজ করে।
সে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট কাঁচা মালের বিক্রয় বাবদ টাকা উত্তোলন পূর্বক দোকানে এসে টাকা জমা দেয়। কিন্তু গত ৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কর্মচারী মোঃ আলাউদ্দীনকে কক্সবাজার জেলা রামু থানাধীন ফকিরা বাজারস্থ জনৈক মোঃ শুক্কুর সওদাগরের নিকট কাঁচামাল বিক্রয় বাবদ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য পাঠায়।
সে ওই দিন বিকাল আনুমানিক সাড়ে চারটার সময় জনৈক মোঃ শুক্কুর সওদাগরের নিকট থেকে ৮০ হাজার টাকা বুঝিয়ে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করে। অভিযুক্ত কর্মচারী ঐ দিন রাত অনুমান ১০টার সময় দোকানে ফেরত আসার কথা থাকলেও রাত ১২টা পর্যন্ত দোকানে আসেনি।
এসময় কর্মচারী আলাউদ্দীনের মোবাইল নাম্বারে কল করিলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন দিবাগত রাত অনুমান ১টার সময় দোকানের আরেক কর্মচারী মোঃ পলাশ (৪০) তার মোবাইল থেকে মালিক মোঃ মহিউদ্দিনকে ফোন করে জানায় যে, মোঃ আলাউদ্দিন (৪২) দোকানে এসেছে এবং তার অবস্থা ভালো না। তাকে মেডিকেল নিয়ে যেতে হবে। কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে মোঃ পলাশ (৪০) বলে যে, তাকে কিছু লোক আলকরণের মুখ থেকে মারধর করে টাকা নিয়ে গেছে।
ঐ দিন রাত অনুমান ৩টার সময় ফোন করে বলে যে, কর্মচারী আলাউদ্দীনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করে দোকানে নিয়ে এসেছি এবং তার হাতে ১৯টি সেলাই করা হয়েছে। অতঃপর পরেরদিন ৪ অক্টোবর সকাল অনুমান ৯টার সময় দোকানে এসে আলাউদ্দীন ও পলাশ কি হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা উভয়ে অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে।
এ সময় তাদেরকে থানায় অভিযোগ দিতে বললে তারা অনীহা প্রকাশ করে এবং বলে যে, আমরা কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব, আমরা কাউকে চিনি না। এরপর তারা কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যায়।
তারা উভয়ের পরস্পর যোগসাজশে কাঁচামালের বিক্রয় বাবদ উত্তোলনকৃত ৮০ হাজার টাকা গ্রহন পূর্বক দোকানে জমা না দিয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে অসাধুভাবে আত্মসাৎ করে।
এ ঘটনায় মোঃ মহিউদ্দিন বাদী হয়ে দুইজনের নামে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করে।
এ মামলায় কোতোয়ালী থানার পুলিশ নিউ মার্কেট মোড় বাটা শো রুমের সামনে থেকে মোঃ আলাউদ্দিন (৫৫) ও ২নং আসামী মোঃ শেখ ফরিদ প্রঃ পলাশ (২৫) দ্বয়কে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদ্বয় তাদের দোকানের মালিকের উত্তোলনকৃত ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করে।
তাদের দেহ তল্লাশী করে মোঃ আলাউদ্দিন (৫৫) এর পরিহিত লুঙ্গির কোমরে গোজানো অবস্থায় ৪০ হাজার টাকা ও মোঃ শেখ ফরিদ পলাশ (২৫) এর পরিহিত লঙ্গির কোমরে গোজানো অবস্থায় ৪০ হাজার টাকাসহ মোট ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন, পিপিএম বলেন, আসামী মোঃ আলাউদ্দীন কাঁচামালের আড়তে বিগত ২ বছর যাবৎ কাজ করে এবং শেখ ফরিদ পলাশ ৫ বছর যাবত কাজ করে। তারা দীর্ঘদিন চাকুরি করার সুবাদে মালিকের বিশ্বাস অর্জন করায় বাদী মোঃ মহিউদ্দিন তাহাদেরকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য পাঠাত। ইতিপূর্বেও কর্মচারী আলাউদ্দীন বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওনা টাকা উত্তোলন করে জমা দেয়ায় মালিকের বিশ্বাস অর্জন করে। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে আলঅউদ্দীনকে পাওনা ৮০ হাজার টাকা আনার জন্য দিলে সে কক্সবাজার জেলার রামু থানা এলাকা থেকে টাকা নিয়ে চট্টগ্রামে আসে। চট্টগ্রামে এসে তাকে আলকরন মোড়ে ছিনতাইকারী ধরে ছুরিকাঘাত করে তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে একটি ছিনতাইয়ের নাটক করে।
থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তকালে ঘটনার তারিখে আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি মর্মে নিশ্চিত হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামী আলাউদ্দীন নিজে তার হাতে একটি ব্ল্যাড দিয়ে আঘাত করে বেশ কয়েকটি দাগ করে হাতে ব্যান্ডেজ পরে। তারা পরস্পর যোগসাজশে ঘটনাটি সংঘটন করেছে বলে জানায়।








