নিউজটি শেয়ার করুন

টিকার নিবন্ধন করেও যারা মেসেজ পাচ্ছেন না, তাদের কী হবে?

টিকার নিবন্ধন করেও যারা মেসেজ পাচ্ছেন না, তাদের কী হবে?
ছবিঃ সংগৃহীত

সিপ্লাস ডেস্কঃ বাংলাদেশে টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধন করার পরে এখন অপেক্ষায় রয়েছেন এক কোটির বেশি মানুষ।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ একমাসের বেশি আগে নিবন্ধন করলেও এখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন বার্তা পাননি বলে অভিযোগ আছে।

যারা টিকা নিয়ে কোন বার্তা পাননি, তাদের কী হবে?

বাংলাদেশে সাতই ফেব্রুয়ারি থেকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু হয়। এখন দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, মডার্না ও সিনোফার্মের টিকা দেয়া হচ্ছে।

ঢাকার একটি টিকাদান কেন্দ্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলছেন, টিকার নিবন্ধনে নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার পছন্দ অনুযায়ী কেন্দ্রে তালিকা পাঠানো হয়।

এরপর তারা প্রতিদিনের জন্য টিকার যে বরাদ্দ রয়েছে, সেই সংখ্যক মানুষকে টিকা নিতে আসার জন্য ক্ষুদে বার্তা পাঠান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাধারণত আগের দিন এসব বার্তা পাঠানো হয়।

এজন্য টিকা নিবন্ধনের যে সিরিয়াল রয়েছে, সেটি অনুসরণ করে বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছে, বলছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিএএইচ টিকা বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোঃ শামসুল হক।

”কিন্তু আমাদের যে পরিমাণ টিকা দেয়ার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়, নিবন্ধনের তালিকা তার চেয়ে অনেক বেশি। এই কারণে হয়তো অনেকে নিবন্ধন করার পরেও তাদের ডেট আসছে না,” ধারণা করছেন এই কর্মকর্তা।

তবে টিকাদান কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, সবসময় এই সিরিয়াল অনুসরণ করা সম্ভব হয় না। কারণ বিভিন্ন সুপারিশে অনেকের টিকা নেয়ার তারিখ এগিয়ে নিয়ে আসা হয়ে থাকে।

হাতেকলমে এসএমএস পাঠানোর এই পদ্ধতিতে যদি কারও নাম একবার বাদ পড়ে যায়, তাহলে সেটি টের পাওয়ার সহজ উপায় নেই।

একটি টিকাদান কেন্দ্র মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ বলছেন, একটি কেন্দ্রের টিকা দেয়ার ক্ষমতা যদি হয় ১২০০, তাহলে তার অর্ধেক চলে যায় দ্বিতীয় ডোজ দিতে গিয়ে। বাকিদের প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হলেও সেখানে অগ্রাধিকার পান আগে এসএমএস পাওয়া ব্যক্তিরা, বয়স্ক, বিদেশযাত্রী, নানাবিধ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।”
তবে পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবেন বলে আশ্বস্ত করছেন এই চিকিৎসক।

বাংলাদেশের মানুষের টিকাদান নিশ্চিত করতে সম্প্রতি গণটিকা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সরকার। তবে বেশিরভাগ মানুষ এখনো সুরক্ষা ওয়েবসাইটে নাম নিবন্ধন করে কেন্দ্রে টিকা নেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরকারের হাতে টিকার মজুদ কম থাকায় সেই তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মর্ডানা আর ফাইজারের টিকা দ্বিতীয় ডোজের জন্য বরাদ্দ রেখে সরকার এখন সিনোফার্মের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিএইচ বিভাগের পরিচালক ডা. মোঃ শামসুল হক জানান, যারা টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, পর্যায়ক্রমে সবাই পাবেন। ম্যাসেজ না আসলে একটু অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলছেন, ”নিবন্ধনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সবাইকে ম্যাসেজ পাঠানো হয়। নিবন্ধন বেশি হওয়ায় একটু দেরি হতে পারে। কিন্তু পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবেন।”

 

ডা. মোঃ শামসুল হক পরামর্শ দিয়েছেন, কারও যদি দুইমাস বা তার বেশি অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তাদের উচিৎ বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখায় যোগাযোগ করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here