সিপ্লাস ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সত্যকে বিকৃত করে ‘রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা’ নিশ্চয় অপরাধ, তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যাতে ‘অপপ্রয়োগ’ না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
মহামারীর এই সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে রোববার সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর এমন মন্তব্য এল।
ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কাদের বলেন, “রিলিফ কাজে অস্বচ্ছ কিছু হলে প্রকৃত সত্য যে কেউ তুলে ধরতে পারে। কিন্তু সেটিকে টুইস্ট করে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা হিসেবে প্রচার করা নিশ্চই অপরাধের সামিল।”
সরকারের যে কোনো পদক্ষেপের সঙ্গে যে কারও দ্বিমত পোষণ করার ‘সুযোগ রয়েছে’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে সত্যতা যাচাই না করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপকৌশল কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়।”
দুর্যোগের এই সময়ে আওয়ামী লীগ সব সময় ‘সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের’ ওপর জোর দিয়ে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা এ কথাও বলেছি যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির যাতে অপপ্রয়োগ না হয়, সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক থাকবে। যারা অপপ্রয়োগ করবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়েকটি মামলা হয়েছে, যাতে আসামি করা হয়েছে সাংবাদিকদের।
সর্বশেষ মানবাধিকারকর্মী, কার্টুনিস্ট, ব্যবসায়ীসহ চারজনকে আটকের পর মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
এর সমালোচনা করে ঢাকায় নিযুক্ত সাত দেশের কূটনীতিকরা আলাদাভাবে টুইট করে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মহামারীর সময়ে সরকার ‘সত্য লুকাতে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ‘অপব্যবহার’ করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলামের মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক সমাজ ও গণসমাজের নামে বিভ্রান্তি তৈরির অপকৌশল মাত্র। সরকারের সমালোচনার নামে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হীন কৌশল অবলম্বন করেছে বিএনপি।”
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মহামারীর এই সময়ে সরকারের পাশাপাশি তাদের দলের পক্ষ থেকে এক কোটি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এ পর্যন্ত দেশে চার কোটি মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে, এছাড়া দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা প্রায় এক কোটি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা ও নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন।”
এই সঙ্কটে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিপাকে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে, এদের অধিকাংশই কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই ঝুঁকিতে রয়েছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিতে পারে এবং দেশে অসহায় অবস্থায় পড়া প্রবাসীদের পরিবারের তালিকা করে সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাদের সাহায্য করা যায় বলে মত দেন ওবায়দুল কাদের।
সেই সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার পরেও ঢাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করেননি, পাশে দাঁড়াননি। কাজেই, এই দুঃসময়ে পরিবহন শ্রমিকদের তালিকা অনুযায়ী সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।”








