নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্প কিংবা বাইডেন নিয়ে ভাবছেন না পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোমেন

ছবি: রয়টার্স

সিপ্লাস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ডনাল্ড ট্রাম্প কিংবা জো বাইডেন যেই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশের জন্য কোনো ‘অসুবিধা নেই’ বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট গণনা চলার মধ্যে বুধবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, “যেই ক্ষমতায় আসুক, হোয়াইট হাউজে যিনিই আসেন আমাদের কোনো অসুবিধা নেই।

“কারণ ব্যক্তি বিশেষের উপর (আমেরিকার) পররাষ্ট্রনীতি নির্ভর করে না।”

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ডেমক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের। দুজনের যে কেউ ভোটে জিততে পারেন।

কূটনীতিক হিসেবে দীর্ঘদিন আমেরিকায় থেকে আসা মোমেন বলেন, “আমেরিকাকে যতটা জানি, সেখানে থেকে, তাদের পররাষ্ট্র নীতি কয়েকটা ভ্যালুজের উপর নির্ভর করে, কিছু নীতি আছে- আর আমেরিকার স্বার্থের সপক্ষে যেগুলো করার সেগুলো তারা করে।”

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অর্থনীতি ভালো করছে, আমরা মোটামুটিভাবে নিজেদের ক্ষমতায়িত করছি, আমরা ভূ-রাজনৈতিকভাবে খুব ভালো অবস্থায় আছি। আমাদের আশেপাশের দেশেও উন্নতি করছে।

”আমরা একটা ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখি, আমাদের সাথে কারও শত্রুতা নেই। সবাই আমাদের বন্ধু, আমরা সবার উন্নয়ন প্রত্যাশা করি। সুতরাং যে সরকারই আসুক, আমরা ওদের সাথে ভালো কাজ করতে পারব।“

২০১৭ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে প্রবাসীদের অসুবিধা হলেও টিপিপি তুলে দেওয়ায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

তিনি বলেন, “ট্রাম্প আসার পরে আমাদের দেশের প্রবাসীদের অনেকের অসুবিধা হয়েছিল।

”কিন্তু আমাদের দেশের বড় উপকার হলো উনি এসে টিপিপিটা বাদ দিয়ে দিলেন, আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো বিনা ট্যারিফে আমেরিকায় জিনিস পাঠাত, এগুলো তিনি বাদ দিয়ে দিলেন। তার ফলে আমাদের একটা ভালো সুবিধা হয়।”

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উনি আসার পর আমাদের সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। আমরা সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছি অনেকটা, আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। আমরা উন্নতিও করেছি। আমরা কারও উপর নির্ভরশীল না।”

তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ব্যস্ত ছিল, অন্যদের ব্যাপারে নাক গলায় নাই। কোভিড-১৯ এর পরে মোটামুটি অনেক দেশ নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। এবং প্রবণতা অনেক দিন ধরে চলবে বলে মনে হয়।

বাইডেন ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের বিষয়ে নীতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে মোমেন বলেন, “ভালো-মন্দ সবকিছুতে আছে। বাইডেন সাহেব জলবায়ু নিয়ে সোচ্চার, অভিবাসী সম্পর্কেও সোচ্চার। সুতরাং প্লাস-মাইনাস আছে।

“ট্রাম্প সাহেব যদিও প্যারিস চুক্তি থেকে উঠে এসেছেন, কিন্তু তার দেশে গ্লোবাল ওয়ার্মিং অনেক কমাচ্ছেন। অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন।”

ট্রাম্প চলতি মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা এবং বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছিল বাংলাদেশে।

বাইডেন এলে এসব ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটবে কি না- এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “আমার মনে হয় না ব্যাঘাত ঘটবে। কারণ এসব নিয়ে তাদের বিশেষ স্বার্থ জড়িত নাই।

”বঙ্গবন্ধুর খুনির ফেরানোর বিষয় অনেকটা নিউট্রাল ইস্যু। আইনের মাধ্যমে ঠিক হবে। সুতরাং এগুলোতে আমাদের কোনো ব্যাঘাত হবে না। ঝামেলা হবে না।”