নিউজটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে

ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

সিপ্লাস ডেস্ক: চলতি মাসে গড়ে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।করোনায় বিপর্যস্ত সময়ে গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে এসেছে ডেঙ্গু।চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনেই (১০ আগস্ট পর্যন্ত) রেকর্ড দুই হাজার ৩২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে যেখানে শুধু জুলাই মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হন দুই হাজার ২৮৬ জন।

বাংলাদেশে ডেঙ্গি পরিস্থিত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ওই ৮ বছরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়ায়নি। ২০১৫ সাল থেকে রোগটির প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। ২০১৭ সালে কিছুটা কমে ২০১৮ সালে আবার বেড়ে যায়। তবে এবার ছাড়িয়ে গেছে গত যেকোনো বারের সংক্রমণকে। বাড়ছে তীব্রতা, রোগীর সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে ৩ জন, মে মাসে ৪৩ জন, জুন মাসে ২৭২ জন, জুলাই মাসে ২২৮৬ জন এবং আগস্টের ৬ দিনে ১৪৫৭ জন। অন্যদিকে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ জন, মার্চে ২৭ জন, এপ্রিলে ২৫ জন, মে মাসে ১০ জন, জুন মাসে ২০ জন, জুলাই মাসে ২৩ এবং আগস্ট মাসে ৬৭ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মাত্র ৪১টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল তথ্য ঠিকমতো দেয় না। অন্যদিকে রাজধানীর অনেক হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসা হয়ে থাকে।

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ২১১ জন ঢাকায় ও ১৫ জন ঢাকার বাইরের হাসপাতালে। এ নিয়ে সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৫ জনে। এদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ৮৫২ জন ও ঢাকার বাইরে ৬৩ জন।

বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর এ চৌধুরী বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর এডিস মশা এবং ডেঙ্গু ভাইরাস দুটোর উপস্থিতিই বেশি। ভাইরাসের বাহক এডিস এলবোপিক্টাস এবং ইজিপ্ট দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই আছে। এতেই ধারণা করা যায়, এটা দেশব্যাপী বিরাজমান এবং মৌসুমে ছড়িয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট প্রিন্সিপাল অনুসারে সারা দেশে সার্ভিলেন্স করা দরকার ছিল। সেই অনুসারে এডিস নির্মূল কর্মসূচি গ্রহণ করতে হতো। কিন্তু সেটা করা হয়নি। এখন যেসব জায়গা থেকে রোগী পাওয়া যাচ্ছে, সেসব এলাকায় হিট করতে পারলে ভাইরাস এবং বাহক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য শক্তিশালী ফোগিং মেশিন ও কার্যকর কীটনাশক প্রয়োজন। সেই ব্যবস্থাও করেনি সিটি কর্পোরেশন। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ডেঙ্গু পজিটিভ হলে যদি ওয়ার্নিং সাইন দেখা না দেয় (তীব্র জ্বর, মাধাব্যথা, প্রচণ্ড পেটে ব্যথা, শরীর থেকে রক্ত নির্গত হওয়া) তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসা নিতে হবে। যদি এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে হাসপাতালে যেতে হবে। যেহেতু বৃদ্ধ এবং শিশুরা ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হন তাই বাসা মশামুক্ত রাখতে হবে, প্রয়োজনে মশারির মধ্যে থাকতে হবে।

বাড়ির চারপাশ শুষ্ক রাখতে হবে, বাড়ির ভেতরে ও বাইরে নিয়মিত মশা মারার কার্যক্রম চালাতে হবে। এই সময়ে জ্বর হলেও অবশ্যই ডেঙ্গু এবং কোভিড পরীক্ষা করাতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here