ওয়াজের নামে ‘ইসলামবিরোধী’ প্রচারের বিষয়ে ধর্ম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে ‘তথাকথিত আলেমদের’ তালিকা করার পরামর্শ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
সম্প্রতি কিছু ওয়াজ মাহফিলে বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে আলোচনার মধ্যে সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনায় তিনি এ পরামর্শ দেন।
মোজাম্মেল বলেন, “ধর্মীয় সভা হওয়া উচিত, কিন্তু ধর্মসভার নামে ইসলামবিরোধী যেসব অপপ্রচার হচ্ছে, সেদিকে ধর্ম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সজাগ থাকতে হবে। তথাকথিত আলেমনামধারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র আওয়ামী লীগই ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী- এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া উচিৎ।”
গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের সমালোচনা করে মোজাম্মেল বলেন, “অনেকে বলেন তিনি সংবিধানের প্রণেতা। বাস্তবতা যাই হোক, তিনি আইনমন্ত্রী থাকাকালীন সংবিধান প্রণীত হয়েছিল। তিনি সে কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। নিঃসন্দেহে সে কৃতিত্বের অধিকারী হতেই পারেন।
“মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবস্থান যে রহস্যজনক ছিল, যাই হোক আমরা সেই কথা বলতে চাই না। তার এক মেয়ের জামাতা আছে বার্গম্যান, তিনিও সবসময় অবিরতভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে বিষোদ্গার করে আসছেন, তা নিশ্চয় জাতি জানে।”
আওয়ামী লীগকে ‘লাথি মেরে’ ক্ষমতা থেকে হটাতে কামালের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “পরশু দিনের কথায় আমার ধারণা নিশ্চিত হয়েছে, আজকে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, কী ছিল সে সময়কার ভূমিকা।
“যে ভাষা তিনি ব্যবহার করেছেন, যে কতগুলো শব্দ ব্যবহার করেছেন সেটা আমরা আশা করি নাই। যেহেতু তার জবাব দেবার এই সংসদে এসে সুযোগ নাই, তাই নিন্দা করা ছাড়া আর বেশি কথা বাড়ালাম না।”
মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী এ বছর নোবেল পুরস্কারের মত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রচলন করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে ইউনেস্কোতেও বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার চালু করতে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেন।
স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মোজাম্মেল সংসদের নকশা বহির্ভূত কবর বা স্থাপনা অপসারণ করার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, বলেন, “লুই কানের নকশায় বলা আছে, সংসদ এলাকায় কী থাকবে, কী থাকবে না। এই এলাকায় কয়েকজনের কবর আছে স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না। একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সংবিধান কাটা ছিঁড়া করেছিলেন, তারও একটি কথিত কবর আছে। হত্যাকারীরা তার লাশ পুড়িয়ে দিয়েছিল। লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কার লাশ এখানে দাফন করা হয়েছে জানা নেই।”








