নিউজটি শেয়ার করুন

তানজানিয়ার ‘মা সামিয়া’

ছবি: রয়টার্স

সিপ্লাস ডেস্ক: এই তো কয়েকদিন আগে তানজানিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে ঘোষণা করতে হল প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলির মৃত্যু সংবাদ। সংবিধান অনুসারে তার কাঁধেই বর্তেছে সরকারের চলতি মেয়াদের বাকি সময়ের দায়িত্ব।

২০১৫ সালে  ‘চামা চা মাপিনডুজি’ (সিসিএম) পার্টির অনেক নাম টপকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্যে মনোনীত হন সামিয়া সুলুহু হাসান, যা অবাক করেছিল অনেককে।

মাগুফুলির রানিংমেট হিসেবে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তানজানিয়ার ভাইস-প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান এই নারী। এরপর  গতবছর এক  ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় আসে মাগুফুলি-সামিয়া জুটি।

গতবছর দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচিত হওয়া প্রথম নারী ডেপুটি সামিয়া সুলুহু হাসান শুধু তানজানিয়ারই নন, বরং আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে এখন একমাত্র নারী রাষ্ট্রপ্রধান। ভালোবেসে দেশবাসী তাকে নাম দিয়েছে ‘মা সামিয়া’।

 

ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, নারী হয়ে দায়িত্বভার  নেওয়ার জন্যে নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বশীল আচরণের কারণেই সম্বোধনে এই সম্মান মিলেছে সামিয়ার।

ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট সাহলে-ওয়ার্ক জাউদিও একজন নারী হলেও সেটি মূলত অলঙ্কারিক পদ। সরকারি কাঠামোতে বা দেশের নীতি নির্ধারণে তার বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই।

৬১ বছর বয়সীকে সামিয়ার দক্ষ নেতৃত্বের গুণগান গাইলেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সাবেক সহকর্মী ও সাংসদ জানুয়ারি মাকাম্বা।

”আমি খুব কাছে থেকে তার নৈতিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্থিরতা দেখেছি। তিনি একজন দক্ষ নেতা।”

তবে রাজনৈতিক দক্ষতার মাপকাঠিতে তানজানিয়াতে এখনও তার যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি বলে মনে করছেন জানুয়ারি মাকাম্বা।

বিবিসি লিখেছে, সামিয়া প্রেসিডেন্ট পদের ভার নেওয়ার পর সরকারের নীতি কেমন হবে তা এখনও অনেকের কাছে অস্পষ্ট।

 

ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণে মাগুফুলির ভূমিকায় অনেকেই হতাশ ছিলেন। এখন সামিয়া  আগের নেতৃত্বের পদাঙ্ক  অনুসরণ করবেন কি না তা দেখা যাবে সামনে।

এমনিতে সদ্য প্রয়াত মাগুফুলির প্রতি আনুগত্য থাকলেও নিজের মত প্রকাশে কখনই পিছপা হননি সামিয়া।

২০০৫ সালে জানজিবারের মন্ত্রিসভায় থাকাকালে তরুণ মায়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরত আসার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় মাগুফুলি একই ধরনে নিষেধাজ্ঞা  জারি করতে চাইলে সামিয়া এর বিরোধিতা করেছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

২০১৭ সালে ঘাতকের আক্রমণের শিকার হন তানজানিয়ার সেসময়ের বিরোধী দলীয় নেতা টুনডু লিসু। তখন পুরো দেশ সরকারি দলের দিকেই আঙ্গুল তুলেছিল।

ওই সময় কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির এক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া টুনডু লিসুকে দেখতে গিয়ে পুরো দেশে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন সামিয়া।

 

ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

মন্ত্রী ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে অনেকদিন ধরে থাকার পরও সামিয়ার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কমই জানা যায়।

 

১৯৬০ সালে জানজিবারে জন্ম হয় এই নারী নেতার। মুজাম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন জনপ্রশাসন নিয়ে। পরে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

স্বামী হাফিদ আমির একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ। তাদের বিয়ে হয় ১৯৭৮ সালে। তবে সামিয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এই দুজনকে কখনোই একসঙ্গে ক্যামেরার ফ্রেমে পাওয়া যায়নি বলে জানাচ্ছে বিবিসি।

তাদের চার সন্তানের মধ্যে মানু হাফিদ আমির মায়ের পদচিহ্ন অনুসরণ করে এখন জানজিবার হাউজের সদস্য।