সিপ্লাস প্রতিবেদক: একদিকে করোনার থাবা অন্যদিকে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহ এরমধ্যে শেষ হল মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ। এ দিনে সকালে হালকা বৃষ্টি হলে স্বস্থি নেমে আসে মানুষ মাঝে। এরই মাঝে ঈদে শুন্য হয় পুরো চট্টগ্রাম নগরী। ধীরে ধীরে কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছে সবুজ এই মহানগরী। ঈদের ছুটি শেষে নাড়ির বাঁধন ছেড়ে গ্রামের বাড়ি থেকে নগরীতে কর্মস্থলে ফিরেছে কর্মব্যস্ত মানুষ। তারই মধ্যে প্রচণ্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরীর জনজীবনে।
প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম ও তাপদাহে পুড়ছে সারাদেশ। সূর্যের প্রচন্ড তাপ ও গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ। সঙ্গে প্রাণীকূলও একটু পানি আর ছায়ার জন্য হাসফাঁস করছে। সকলেরই ত্রাহি অবস্থা। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। এমনিতেই গরম তারপর বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। হিটস্ট্রোকের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
দেশের ৭০ শতাংশ এলাকাজুড়ে দাবদাহ শুরু হয়েছে। ব্যস্ত শহরে গরমের হাত থেকে স্বস্তি পেতে ও তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই বেছে নেন রাস্তার পাশে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকানের শরবত।
মঙ্গলবার ( ১৮ মে) বিকাল ৩টার সময় নগরীর কদমতলী থেকে রিকশায় যাত্রী নিয়ে দেওয়ানহাট মোড়ে আসে মোল্লা কাদের(৬৫) নামে এক বৃদ্ধা। এসময় তার শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরছে। কথা হয় ওনার সাথে। তিনি জানান, গাইবান্ধা জেলায় তার বাড়ি। কোন ছেলে নেই, আছেন একটি মেয়ে। তাকেও বিয়ে দিয়েছেন তিনি। নেই কোন জমিজমা। তাই সংসার জীবন চালাতে নিজের জেলা ছেড়ে দিয়ে পাড়ি জমান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।
এসময় নগরীতে চলাচলরত গণপরিবহনে গাদাগাদি করে যাত্রী উঠানামা করতে দেখা যায়। এতে উপেক্ষিত রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ ও পূর্ভাবাস কর্মকর্তা মেঘনাথ তঞ্চঙ্গা জানান, আজ মঙ্গলবার ( ১৮ মে) সন্ধ্যায় ৬টা থেকে আগামীকাল বুধবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নদী বন্দর ও সমুদ্র বন্দরের আশেপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। সে সাথে কোথায়ও হালকা দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। দিন ও রাতে তাপমাত্র সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। কোন সর্তকতা সংকেত নেই বলেও তিনি জানান।
দিনের সূর্যের তাপ রাতে না থাকলেও সূর্যতাপের রেশ থাকছে মধ্যরাত পর্যন্ত। এই গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। প্রচন্ড গরমের সাথে যোগ হয়েছে লোডশেডিং, পানি সংকট। অধিক তাপমাত্রা আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। গরমে বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের রোগীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সুলতান ও গফুর আলী নামে দুই রিক্সাচালক বলেন, জীবিকার তাগিদে কড়া রোদের মাঝেও রিকশা চালাতে হচ্ছে। গরমে মনে হচ্ছে মাথা ঘুরে পড়ে যাব। বৃষ্টি হলে রিকশা চালিয়ে শান্তি পেতাম। এতো গরমে কাজ কর্ম করা যেন অসম্ভব মনে হচ্ছে। তারপরও অভাবের সংসার। রয়েছে করোনাকালীন লকডাউন। মানুষজনেরও তেমন একটা চলাচল নেই। তাই বাধ্য হয়ে রিক্সা নিয়ে রাস্তায় নেমেছি।

