সিপ্লাস ডেস্ক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করা তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের বিদেশি অতিথিদের নিয়ে নতুন বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা নির্দিষ্ট সময়ের পরও কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করছেন। ফলে অন্য একটি মসজিদে অবস্থান করা মাওলানা জোবায়েরপন্থি অতিথিরা সেখানে উঠতে পারছেন না। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
মাওলানা সাদ কান্ধলভীর কিছু বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের মধ্যে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয় এবং ২০১৮ সাল থেকে দুই পক্ষ আলাদাভাবে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমায় অংশ নিচ্ছে।
ভারতে তাবলীগ জামাতের এক সমাবেশ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে প্রচারে আসা ৩২১ জন বিদেশিকে দুটি মসজিদে জড়ো করা হয়েছিল।
এদের মধ্যে ঢাকার কাকরাইল জামে মসজিদে নেওয়া হয় ১৯১ জনকে। এই মসজিদটিই বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। বাকি ১৩০ জনকে জড়ো করা হয় যাত্রাবাড়ীর কলাপট্টির মদিনা জামে মসজিদে।
বিভক্তির পর কাকরাইল মসজিদে দুই পক্ষের অবস্থানের সময় নির্ধারণ করা আছে। সে অনুযায়ী, সাদপন্থিরা দুই সপ্তাহ আর জোবায়েরপন্থিরা চার সপ্তাহ অবস্থান করতে পারেন কাকরাইলে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, মাওলানা সাদের অনুসারী বিদেশি অতিথিরা ১১ মার্চ থেকে কাকরাইল মসজিদে আছেন। তাদের কাকরাইল ছাড়ার কথা ছিল ২৫ মার্চ। তারপরও করোনাভাইরাসের কারণে বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তাদের থাকতে দেওয়া হয়।
“এখন সাদবিরোধীরা কাকরাইলে উঠতে চাচ্ছেন। দুই সপ্তাহ আগে দুই পক্ষ বসে মারকাজ ছেড়ে দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী গত বুধবার (২০ মে) ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রমজানে ‘এতেকাফ’ থাকায় সাদপন্থিরা বলেন, ঈদের পরদিন ছেড়ে দেবেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তাদেরকে আজ কাকরাইল ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদ অনুসারী কাকরাইল মারকাজের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, এই মহামারী সময়ে পালাবদলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকে।
“আমাদের ইন্দোনেশিয়ার প্রায় দেড়শ অতিথি চলে গেছেন। আরও দেড়শ অতিথি রয়েছেন। চল্লিশজনের মত ভারতীয় অতিথি চলে যাওয়ায় অপেক্ষায়।
“ওই পক্ষ (মাওলানা জোবায়ের) মনে করছে, দুই সপ্তাহ অবস্থান করার পর আমাদের চলে যাওয়ার যে রেওয়াজ- আমরা মনে হয় কাকরাইল মারকাজ ছাড়ব না। এই ধরনের ধারণা থেকেই প্রশাসন দিয়ে আমাদেরকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু কথাটা সত্যি না। আমরা এই মহামারীর কারণে এবং বিদেশি মেহমানদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ছাড়ছি না।”
বিদেশি অতিথিদের যাতে বিমানবন্দর মসজিদ অথবা টঙ্গী ময়দানের পাশের একটি ভবনে থাকতে দেওয়া হয়, সেজন্য পুলিশের উপ-কমিশনারের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়া হবে জানান ওয়াসিফুল।
তিনি বলেন, “তা না হলে এতগুলো মেহমান নিয়ে আমরা কোথায় যাব, তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তো দেখতে হবে। এর মধ্যে কোনো একজন যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে।”
অন্যদিকে মাওলানা জোবায়েরের অনুসারী একজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, তাদের দেড় শতাধিক মেহমান যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে অবস্থান করছেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, “যেহেতু দুই পক্ষ বসে পালাবদলের সময় ও তারিখ নির্ধারণ করেছে, তাহলে এখন ছেড়ে (কাকরাইল মসজিদ) দিতে আপত্তি কোথায়?”
সাদপন্থিদের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “তারা বিমানবন্দর মসজিদ কিংবা টঙ্গীর যে স্থানে রাখার জন্য অনুমতি চাইছেন, সেটা আমার আওতার বাইরে।”

