Site icon CPLUSBD.COM

তীব্র গরমে অস্বস্তিতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রাণীকূল

শেখ মুরশেদুল আলম: দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস নগরজীবন। গরমের তীব্রতায় আবালবৃদ্ধবনিতার প্রায় ন্যাতিয়ে পড়া অবস্থা। রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরমের তীব্রতাও। নেই বাতাস, নেই বৃষ্টি, ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস যেন গরম-হাওয়ায় পরিণত হয়েছে। এই অসহ্য তাপদাহে নাকাল চট্টগ্রামনগরীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবন।

তীব্র গরমে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামে এখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে।

তীব্র তাপদাহ আর অসহ্য গরমের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রাণীকুলের ওপর। প্রচণ্ড গরমে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বাড়তে থাকা খরতাপে অতিষ্ঠ প্রাণীদের মধ্যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়েছে।

গরমের জন্য এখানকার ৬৬ প্রজাতির ৬২০টি প্রাণীর খাদ্য তালিকায় বর্তমানে রাখা হচ্ছে খাবার স্যালাইন, ভিটামিন-সি, মৌসুমী ফল, আম, শসা। আর বিশুদ্ধ শীতল পানি তো থাকছেই।

রবিবার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ সিপ্লাসকে বলেন, এপ্রিল, মে এবং জুন-এই তিন মাস গরমের সময় হিসাবে ধরা হয়। এসময় চিড়িয়াখানার প্রাণীদের শীতল পানি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া স্যালাইন এবং মৌসুমী কিছু ফলও দেয়া হয়। গরমে আমরা একটু বেশি তৎপর থাকি। ক্ষুদ্র এবং পাখি জাতীয় প্রাণীদের ভিটামিন-সিও সরবরাহ করি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রয়েছে ১০ প্রজাতির ৪০টি মাংসাশী প্রাণী। তৃণভোজী প্রাণী আছে ২৩ প্রজাতির ২২১টি। ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ আছে ২৫ প্রজাতির ২৪৭টি। পাখি আছে ৫৬ প্রজাতির ১০৬টি। কিন্তু তীব্র তাপদাহে অস্বস্তিতে আছে চিড়িয়াখানার এই প্রাণীকুল। তাই গরমে এদের জন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।

ডা. শুভ বলেন গরমে আমরা সতর্ক থাকি, যাতে করে প্রাণীদের স্বাস্থ্যের উপর কোন বিরূপ প্রভাব না পড়ে। এ সময় কোন প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় খুব সকালে অথবা পড়ন্ত বিকালে। গরমে খাদ্য তালিকায় মৌসুমভিত্তিক কিছু নতুন খাবার সংযুক্ত হয়। এটা খাবার সরবরাহের দরপত্রে শর্ত হিসাবে উল্লেখ থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায় , রয়েল বেঙ্গল টাইগার বার বার পানিতে নেমে যাচ্ছে এবং ঘন ঘন পানি পান করছে। দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে চিতা, সিংহ, ভল্লুক, ও হায়েনারা। পাখিদের বেড়েছে অস্বস্তি। বিশেষ করে উট পাখি, হাড়গিলা, সাদা বক, টিয়া ও মদনটাকের অস্থিরতা দেখা দেয়। আর অজগর সাপ অতিরিক্ত গরমে অস্তির হয়ে উঠেছে। এ সময় খাবারেও অনিহা দেখা দেয়।

দিনভর চড়তে থাকা গরম থেকে বাঁচতে গাছের ছায়ায় সময় কাটাচ্ছে প্রাণীরা, বাঘ, ভাল্লুখ,বানর ও কুমির স্বস্তি নিচ্ছে পানিতে গা ডুবিয়ে।

করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে ফের বন্ধ থাকায় সুনসান পরিবেশে বেশ ভালোই শান্তিতেই দিন কাটাচ্ছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রাণীরা । গরমের যন্ত্রণায় পড়লেও দর্শনার্থী না আসায় সেখানকার প্রাণীরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। কোনো দর্শনার্থী নাই, উত্ত্যক্ত করার কেউ নাই। আবার খাবারও ভালো পাচ্ছে। শান্তিতেই দিন কাটাচ্ছে তারা। কিন্তু অসহ্য গরমে তাদের বেড়েছে অস্বস্তি।