নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় হচ্ছে নতুন থানা, স্থানীয়দের উচ্ছাস, মিষ্টি বিতরণ

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় হচ্ছে নতুন থানা, স্থানীয়দের উচ্ছাস, মিষ্টি বিতরণ
ছবি: সিপ্লাসবিডি.নেট

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ চল্লিশ কিলোমিটারের দূর্গম পাহাড় বেষ্ঠিত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নকে নিয়ে ‘দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা’ নামে আলাদা নতুন থানা হচ্ছে। এনিয়ে কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ পাড়ের চার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের কমতি নেই, কয়েক স্থানে হয়েছে মিষ্টি বিতরণও।

পাহাড় ও কর্ণফুলি নদী বেষ্টিত দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দাদের যেকোন ধরণের পুলিশি সেবা পেতে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয় উপজেলা সদরে। এখন সেই কষ্ট কমবে তাদের। রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়াকে আলাদা থানায় উন্নিত করনের উদ্যোগ নেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সোমবার এসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। স্থানীয়রা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অব্যাহত রেখেছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর সভায় ‘দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া’ থানা সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেন। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুটি পিকআপ ভ্যান ও দুটি মোটর সাইকেল অনুমোদন দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. আবুল ফজল মীর স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ পাড়ের ৮নং সরফভাটা, ৯নং শিলক, ১০নং পদুয়া ও ১২নং কোদালা ইউনিয়ন নিয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতি, দক্ষতার সাথে অপরাধ দমন, এজাহার গ্রহণ ও মামলা তদন্তের কাজে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে এই থানা গঠন করা হয়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামের বোয়ালখালি, পটিয়া, চন্দনাইশ উপজেলা, বান্দরবান সদর উপজেলা এবং রাঙ্গামাটির রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূর্গম পাহাড়ি এলাকার সীমান্ত বেষ্ঠিত দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার চার ইউনিয়ন। যেকোন ধরণের অপরাধ করেই এসব পাহাড়ি এলাকায় ঢুকে পড়েন অপরাধিরা। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার চার ইউনিয়নের প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় অপরাধ ঘটার পর সঠিক সময়ে বর্তমানের থানা থেকে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছা দুস্কর। স্বাধীনতার পর থেকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়াবাসীর আকাঙ্খা ছিল আলাদা থানায় উন্নিত করণের।

চার ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির ভরসা একমাত্র শিলক পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। সেখানেও নেই পর্যাপ্ত জনবল ও যানবাহন। একসময়ে সরফভাটা ও কোদালা ইউনিয়নে দুটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও অনেক আগেই সেগুলো প্রত্যাহার করে নেন পুলিশ বিভাগ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এর উদ্যোগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়াকে আলাদা নতুন থানায় উন্নিত করার খবরে স্থানীয়দের মাঝে উচ্ছাস ও আনন্দ বিরাজ করছে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার কয়েক স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন স্থানীয়রা।

সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এক সময় সন্ত্রাসী ও ডাকাতদের জনপদ ছিল দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া। প্রতিরাতেই কোননা কোন বাড়িতে ডাকাতি হতো। ২০০৯ সালে এই জনপদ থেকে ড. হাছান মাহমুদ এমপি নির্বাচিত হবার পর এসব অপরাধিরা এলাকা ছাড়েন। এরপরও কিছু অপরাধির আস্তানা আছে সরফভাটার দূর্গম পাহাড়ি এলাকায়। নতুন থানার কার্যক্রম পুরোদমে চালু হলে আশাকরি এসব আস্তানা স্বমূলে বিনাশ হবে। কাছাকাছি থানা হওয়ায় এলাকার মানুষের সেবা পেতে সহজ হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছেলের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের কাজে রাঙ্গুনিয়া থানায় এসেছিলেন পদুয়া ইউনিয়নের কমলাছড়ি গ্রামের বৃদ্ধ মোহাম্মদ হোসেন (৬৭)। তিনি বলেন, চন্দনাইশের ধোপাছড়ি এলাকার কাছাকাছি আমাদের বাড়ি। এখান থেকে রাঙ্গুনিয়া থানার দুরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। পাহাড়ি পথ মাড়িয়ে সেখান থেকে রাঙ্গুনিয়া থানায় এসে সেবা গ্রহণ আমাদের জন্য যেমন দুস্কর, একইভাবে থানা থেকে সঠিক সময়ে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি আশাকরাও অসম্ভব। ফলে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সেবা থেকে কমলাছড়ির বাসিন্দারা অনেকটাই বঞ্চিত। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া নতুন থানার খবরে তিনি উচ্ছাস প্রকাশের পাশাপাশি দু’হাত তুলে দোয়া করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এর জন্য।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মাহাবুব মিল্কি বলেন, ১টি থানার জনবল দিয়ে পাহাড় সমতলে বেষ্ঠিত বৃহত্তর রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ৬ লাখ মানুষের নিরাপত্তা প্রদান কঠিন। আবার কর্ণফুলি নদী দ্বিভাগ করেছে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার চার ইউনিয়নকে। সেখানে নতুন থানা স্থাপন আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা গ্রহণে সহায়ক হবে। নতুন থানার জন্য অস্ত্রাগার, হাজতখানা, কর্মকর্তাদের কক্ষ প্রয়োজন হবে। তাই আপাতত ভাড়া ভবনে থানা চালুর জন্য ভবন খোঁজা হচ্ছে। শীঘ্রই নতুন থানার কার্যক্রম চালু হবে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here