নিউজটি শেয়ার করুন

কোরবানির মরিচ মসলার বাজারে আগুন

সিপ্লাস প্রতিবেদক: কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মরিচ মসলার বাজারে এখন আগুন।

সোমবার নগরীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, শুকনা মরিচ, হলুদ, আদাসহ বিভিন্ন মসলার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম হলুদ ও আদার।

খুচরা পর্যায়ে শুকনা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, যা বিধিনিষেধের আগে ছিল ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া হলুদের দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৮০ টাকায়।

দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, যা আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

খুচরা পর্যায়ে জিরার কেজি ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। এখন তা বেড়ে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪০ থেকে ৪৬০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহে শুকনা মরিচের ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, দেশি হলুদের ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আমদানি করা হলুদের ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ, দেশি আদার ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ, আমদানি করা আদার ৪৪ শতাংশ, জিরার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং দারুচিনির ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বেড়েছে।

রিয়াজউদ্দীন বাজারের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ও শিমুল সিপ্লাসকে বলেন, পাইকারি বাজারে মসলা পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের আগে কেনা ছিল সেই মাল এখন বিক্রি করছি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সামনে মসলার দাম আরও বাড়বে। কারণ কোরবানির ঈদ কাছাকাছি চলে এসেছে।

চাক্তাইয়ের কয়েকজন খুচরা বিক্রেতারা সিপ্লাসকে বলেন, সরবরাহ না থাকায় এখন মসলার দাম একটু বেশি। চাহিদার তুলনায় এখন সব ধরনের মসলার সরবরাহ কম। তাছাড়া কোরবানির ঈদ প্রায় ৮ দিন বাকি আছে। স্বাভাবিকভাবেই সামনে মসলার দাম বাড়বে। কোরবানির ঈদের আগে মসলার দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা খুচরা ব্যবসায়ীদের।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বলেন, কোরবানির মাংস রান্নার জন্য যে গরম মসলার প্রয়োজন তার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। এ ধরনের মসলার মধ্যে রয়েছে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, জিরা, গোল মরিচ, জায়ফলসহ কিছু উপকরণ, যা উচ্চমূল্যের। যেমন লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও গোল মরিচ। এ সকল মসলা সীমান্তবর্তী ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল ও শ্রীলঙ্কা থেকে আমদানি হয়ে থাকে। তাই খুচরা পর্যায়ে মসলার দাম একটু বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে কোনো মসলার দাম বাড়েনি। বরং কিছু কিছু মসলার দাম কমেছে। এখন পাইকারি বাজার মসলার দাম বাড়েনি। যদিও বেড়ে থাকে তাহলেই আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।