দিয়াজ ইরফান হত্যাকাণ্ডের আসামি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছুটি নিয়ে বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতির খবরে তা ঠেকাতে উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছেন মামলার বাদী জাহেদা আমিন চৌধুরী।
আনোয়ারের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার তথ্য তুলে ধরে দিয়াজের মা জাহেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য বরাবর বৃহস্পতিবার লিখিত আবেদন করেন।
তবে সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী দাবি করছেন, তার দেশত্যাগের উপর আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
২০১৭ সালে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাসা থেকে ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর প্রথম ময়নাতদন্তে এটি আত্মহত্যা বলা হলেও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া যায়।
দিয়াজের মা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাহেদা খুনের জন্য ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তৎকালীন সহকারী প্রক্টর আনোয়ারকেও আসামি করে মামলা করেন।
ওই মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন আনোয়ার, পরে জামিনে মুক্তি পান।
দিয়াজের বোন আইনজীবী জুবাইদা ছরওয়ার নিপা বলেন, “মামলার দুই নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেনসহ সকল আসামি মামলার তদন্তচলাকালে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।”
কয়েকদিন আগে দিয়াজের পরিবার খবর পান, আনোয়ার ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে যেতে কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটির আবেদন করেছেন।
নিপা বলেন, “তথ্য গোপন করে আনোয়ার হোসেন বিদেশে যাবার জন্য ছুটির আবেদন করেছেন। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারেন, এ শংকায় আমার মা উপাচার্য বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার নুর আহমদ বলেন, “আনোয়ার হোসেন ওমরাহ হজ করার জন্য ছুটি চেয়ে চার-পাঁচদিন আগে আবেদন করেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।”
ওই শিক্ষকের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞার থাকার বিষয়টি জানালে তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।
আনোয়ার বলেন, অসুস্থ মাকে নিয়ে ওমরাহ পালনে যেতে তিনি ছুটি চেয়েছেন।
“আমার দেশত্যাগ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আদালতের নেই।”
আনোয়ার ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর এই মামলায় তাকে রিমান্ডেও নিয়েছিল সিআইডি। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্তও করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।








