নিউজটি শেয়ার করুন

দুই বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের শর্ত মানেনি এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি

সিপ্লাস প্রতিবেদক: ছাড়পত্রের শর্তানুযায়ী প্রতি ছয় মাস পর পর প্রতিষ্ঠানের নমুনা বিশ্লেষণ ফলাফল পরিবেশ অধিদপ্তরে দাখিল করতে হয়। একই সাথে প্রতি বছরই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নবায়ন করার বিধান রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের এ সব নির্দেশনার তোয়াক্কা করেনি এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।এভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নবায়ন বিহীন এবং দুই বছরের নমুনা (কারখানা থেকে নির্গত বাযুমান) বিশ্লেষণ ফলাফল দাখিল না করে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি। অর্থাৎ, দুই বছর ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের শর্ত ভঙ্গ করে চলেছে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি। দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি এ সব অনিয়ম করলেও কিছুই জানতো না পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়। অবশেষে পরিবেশের ক্ষতি সাধনের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে শাস্তির আওতায় এনেছে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর।

জানা যায়, পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নের জন্য সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডি এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃপক্ষ। আবেদনপত্রটি পর্যালোনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর জানতে পারে- প্রতিষ্ঠানটিক ২০১৮ সালের ২৬ জুন পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছিল। ছাড়পত্রের চার নম্বর শর্তে প্রতি ছয় মাস অন্তর অর্থাৎ, বছরে দুই বার কারখানার পারিপার্শ্বিক শব্দের গুণগত মান বিশ্লেষণ ফলাফল দাখিলের শর্তারোপ থাকলেও এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার টেস্ট রিপোর্ট দাখিল করেনি।

এ অবস্থায় শুনানীতে হাজির হওয়ার জন্য গত ২ জুলাই এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়। অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন স্বাক্ষরিত ওই কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়েছে, আইনগত নির্দেশ উপেক্ষা পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত ভঙ্গ করে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা বা চালু রাখা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই নোটিশে এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিক কর্তৃপক্ষকে গত ১৫ জুলাই শুনানীতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়।

শুনানীতে এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

শুনানীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নবায়নবিহীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা ও দুই বছর প্রতিষ্ঠানের নমুনা বিশ্লেষণ ফলাফল দাখিল না করে আইন ভঙ্গ করেছে বলে স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিক। শুনানী শেষে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি সাধনের জন্য প্রাথমিকভাবে এনভাইরণমেন্টাল ডেমেজ অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাজিম হোসেন শেখ সিপ্লাসবিডি.নেটকে বলেন, ‘প্রতি বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নবায়ন করার বিধান থাকলেও দুই বছর ধরে তা করেনি এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃপক্ষ। একই সাথে দুই বছর ধরে তারা বায়ুমান (এসপিএম-সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেটেড ম্যাটার) এর পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়নি। তাই এ সব অপরাধে দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপুরণ ধার্য করা হয়।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বার বার যোগাযোগ করা হলেও ফোনকল রিসিভ করেননি এন মোহাম্মদ গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন।