সিপ্লাস ডেস্ক: করোনার এ সময়ে কোয়ারান্টাইনে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ করছে দৃষ্টি চট্টগ্রাম।
দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজনিজ বাসায় অবস্থান করছে।ঠিক এই সময়ে সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার জন্য দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজন করেছে “অনলাইন পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতা”।
গত ২৯ এপ্রিল থেকে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে দৃষ্টি চট্টগ্রামের ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নির্ধারিত বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করে।
সারাদেশ থেকে ৭৭জন শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তাদেরকে ৩টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, ক গ্রুপে ছিল ৭ম থেকে ৯মশ্রেণির শিক্ষার্থী, খ গ্রুপে ১০ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা একটি গ্রুপ করা হয়।
প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্ব শেষে মঙ্গলবার ১৯মে রাতে প্রতিযোগিতার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়।ফাইনাল প্রতিযোগিতার বিষয় ছিলো ক গ্রুপের জন্য “আলো আসবেই…”, খ গ্রুপের বিষয় ছিলো “আজ জড়তা ভাঙ্গার বারতা হবে…” এছাড়াও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বিষয় নির্ধারিত ছিলো ।
ফাইনাল প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক বক্তা ২মিনিট বক্তব্য উপস্থাপনা শেষে বিচারকদের প্রশ্ন উত্তরের মুখোমুখি হয়।
ফাইনাল প্রতিযোগিতায় বিচারকার্য সম্পন্ন করেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বিতার্কিক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জুনায়েদ কৌশিক চৌধুরী, দিনা আফসানা, রায়হান শাকিল, কাজী আরফাত, রবিউল হোসেনচৌধুরী।
প্রতিযোগিতায় ক বিভাগে ডা: খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মুমতাহিনা তারানুম সাচী চ্যাম্পিয়ন, চট্টগ্রাম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের জিলান মাহমুদ ১ম রানার আপ ও বাওয়া স্কুলের ফারিহা জামাল বহি ২য় রানার আপ, খ বিভাগে সেন্ট স্কলাষ্টিকা গালর্স হাই স্কুলের শ্রাবন্তি সরকার চ্যাম্পিয়ন, খুলনার এনএন কলেজের আলিফ আল জামান ১ম রানার আপ, ঢাকার নটরডেম কলেজের আহসান হাবিব আবীর ও সিটি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান মিল্কী যৌথভাবে ২য় রানার আপ এবং ইংরেজি বিভাগে সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তাজ ওয়ার হাসনাত ইলমান চ্যাম্পিয়ন, প্রেসিডেন্সী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নওশীন নাওয়ার চৌধুরী ১ম রানারআপ ও সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আইডল আলমগীর ২য় রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকার ও সমাজকর্মী রাশেদুল আমীন রাশেদ, ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক সাইফ চৌধুরী, সিপ্লাস টেলিভিশনের এডিটর ইন চিফ আলমগীর অপু, তরুণ গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রাক্তন বিতার্কিক ড. আদনান মান্নান। সমাপনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাবের শাহ, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না ও প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী দৃষ্টি চট্টগ্রামের মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন সম্পাদক অনির্বাণ বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যাংকার রাশেদুল আমিন রাশেদ বলেন, “প্রত্যেকটা পরিস্থিতির একটা ইতিবাচক দিক থাকে, হয়তো করোনার এই সময়টাকে আমরা এ আঙ্গিকের প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের মাধ্যমে ইতিবাচক করে তুলতে পারব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান তার বক্তব্যে ভিন্ন ব্যঞ্জনার এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করার জন্য দৃষ্টি চট্টগ্রামকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “করোনা মহামারীর এসময়ে অনলাইনভিত্তিক এআয়োজন শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্বিক হতাশা থেকে দূরে রাখতে এবং মুক্তবুদ্ধির বিকাশের জন্য একটি দারুন সময়োপযোগী উদ্যোগ, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে গভীর ভাবে ভাবতে অনুপ্রাণিত হবে এবং সেই ভাবনার দ্বারা তাদের সুযোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।
সিপ্লাসটিভির এডিটর ইন চিফ সাংবাদিক আলমগীর অপু বলেন, অনলাইন প্লাটফর্মে একটি পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করে দৃষ্টি চট্টগ্রাম একটি অভিনবত্বের নজির দিয়েছে, যা সত্যিই একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার, অংশ গ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী এআয়োজন থেকে বেড়ে উঠার মন্ত্রণা পাবে এই আশা করি।
করোনা মধ্যবর্তী কালীন সময়ে ব্যাংকিং খাতে অক্লান্ত সেবা দিয়ে যাওয়া ব্যাংকার ও দৃষ্টির সহসভাপতি সাইফ চৌধুরী বলেন, ” একটি বিপর্যস্ত সময় পার করছি আমরা, অনলাইন ভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা গুলোর মাধ্যমেই শুরু হোক আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়।
সভাপতির বক্তব্য দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুল বলেন, ” নিত্য নতুন চিন্তার আলোয় দৃষ্টির পথচলা অনেকদিনের, এইরকম একটি চিন্তা থেকেই অনলাইন পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিলো, শিক্ষার্থদের আগ্রহ দেখে আমরা অভিভুত। মেধা মনন ও অভিনবত্বকে পুঁজি করে আগামীর দিনগুলোতে এভাবেই আঁধারের প্রাচীরে আলোর প্রজ্জ্বলন হবে আশা করছি। তিনি ঘোষনা করেন আগামীতে অনলাইন জাতীয় কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করার।
প্রতিযোগিতার সহযোগিতায় ছিলেন ওয়াড ফেব্রিক্স ও অনলাইন প্রচার সহযোগী চিটাগাং লাইভ।








