দীর্ঘ দেড় যুগ পার হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাত-শিবিরের ভয়াবহ ব্রাশ ফায়ারে প্রাণ হারানো বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী মর্তুজার পরিবার আজও হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষায় আছে।
আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদ আলী মর্তুজা চৌধুরীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
রবিবার (২৯ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে তার পরিবার ও স্থানীয় উপজেলা, ওয়া্র্ড ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।কবর জেয়ারত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।
তারপর একে একে হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামীলীগ,যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগসহ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন শহীদ আলী মর্তুজা চৌধুরীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
একে একে হাটহাজারী উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান, উত্তর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশেদুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল, হাটহাজারী উপজেলা আ.লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী নোমান ও চিকনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান জামান বাচ্চু, চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ শহীদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
মর্তুজা হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তার বড় ভাই আলি নাছের চৌধুরী সিপ্লাসকে জানান, মামলাটি চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের মধ্য দিয়ে বিচারাধীন রয়েছে।
দীর্ঘ ১৮ বছরেও মামলার নিষ্পত্তি ও চূড়ান্ত রায় না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি সহকারে আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ক্ষণ গুণছেন নিহত মর্তুজার পরিবার।
সর্বশেষ এ মামলায় মোট ৮ জন আসামী থাকলেও এরইমধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় মারা গেছে ৩ জন। শিবির ক্যাডার হাবিব,ইসমাইল খানসহ ৩ জন পলাতক ও তসলিম উদ্দিন মন্টু,বাইট্ট্যা আলমগীর কারাগারে থাকলেও আরেকজন জামিনে আছেন বলে জানা যায়।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফতেয়াবাদ ছড়ারকুল এলাকায় জামাত শিবিরের এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ারে নির্মমভাবে নিহত হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদ ছাত্রনেতা আলী মর্তুজা চৌধুরী।

