স্বরাষ্ট্র উপ-সচিব সনজিদা শরমিন বলেছেন, “নিজের ভাগ্য নিজেকেই গড়তে হবে। নিজেকে নিজে সহযোগিতা না করলে অন্য কেউ আপনাকে সহযোগিতা করবেনা। অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বর্তমান সরকার অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গৃহহীন মানুষদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়ার জন্য দোহাজারী দিয়াকুল এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করে দিয়েছেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে না পারলে অন্য কেউ আপনার ভাগ্য পরিবর্তন করে দেবেনা। যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরের জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এম.এপাশ করলেই হবেনা, কারিগরি শিক্ষাও নিতে হবে। এতে আয়ের পথ উম্মুক্ত হবে। আপনাদের সন্তানকে কারিগরি শিক্ষা দিলে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই অন্যকে চাকরি দেবে। বিদেশে গেলে দক্ষ কর্মী হিসেবে দ্বিগুন বেতন পাবে। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন। কারন, অসুস্থ হলে ডাক্তারের আগে প্রতিবেশী আসে। পরিবেশ রক্ষায় নির্বিচারে পাহাড় ও গাছকাটা প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল এলাকায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন স্বরাষ্ট্র উপ-সচিব সনজিদা শরমিন।
চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিবেদিতা চাকমার সভাপতিত্বে সাবেক ইউ.পি সদস্য মোঃ শাহ্ আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা টিটিসি’র অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ও.সি) কেশব চক্রবর্ত্তী, চন্দনাইশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার হাবিবুল্লাহ, দক্ষিণ জেলা কৃষকলীগ যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলী, সাবেক দোহাজারী ইউ.পি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ্ আল নোমান বেগ, সাবেক ইউ.পি সদস্য এসএম জামাল উদ্দীন, সাংবাদিক যথাক্রমেঃ- এসএম নাসির উদ্দিন বাবলু, এসএম রহমান, সৈয়দ শিবলী সাদিক কফিল, এম.ফয়েজুর রহমান, সৈকত দাশ ইমন, এসএম রাশেদ, মোঃ কামরুল ইসলাম মোস্তফা, ফয়সাল চৌধুরী, জাতীয় কৃষক পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য একেএম বাদশা, সাবেক ইউ.পি সদস্য জামাল উদ্দীন, মোঃ ইয়াছিন, ইস্কান্দার, রাজিয়া সুলতানা রাজু প্রমূখ।
এর আগে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মধ্যে কতজনের জীবনমান উন্নত হয়েছে এবং বর্তমানে কি সমস্যা বিদ্যমান আছে তা সরেজমিন পরিদর্শন করে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে আশ্রয়কেন্দ্রের ঘরগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।
এসময় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাদের নানা সমস্যার কথা শোনেন তিনি এবং বাসিন্দাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে আরসিসি সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, স্যানিটেশন, মসজিদ-মন্দির, মাদ্রাসা ও পুকুর খননসহ সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

