নিউজটি শেয়ার করুন

দোহাজারী পাইকারী সবজি বাজারে করোনার প্রভাব: বিক্রি হচ্ছে পানির দামের চেয়েও কমদামে

চন্দনাইশ প্রতিনিধি: চন্দনাইশ-সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শঙ্খ নদীর তীরবর্তী চরে সারা বছর জুড়ে সবজি উৎপাদন হয়। এর সাথে জড়িত রয়েছেন দুই উপজেলার ১০ ইউনিয়নের লক্ষাধিক চাষী। উৎপাদিত সবজি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি সবজি বাজার হিসেবে পরিচিত দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন বাজারে বিক্রি করেন চাষীরা।

পাইকার ও চাষীদের আনাগোনায় প্রতিদিন ভোর ৫ টা থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত বাজার থাকে জমজমাট। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা এই বাজার থেকে ট্রাকযোগে সবজি নিয়ে যান। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে এখানেও। পাইকার সংকটে কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেনা চাষীরা। এতে পানির দামের চেয়েও নিন্ম দামে সবজি বিক্রি করেছেন চাষিরা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, আগের মত জমজমাট বেচাকেনা নেই বাজারটিতে। পাইকারদের উপস্থিতিও তেমন একটা চোখে পড়েনি।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে সব কিছুতে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় দোহাজারী সবজির বাজারেও চলছে ব্যাপক দরপতন।
হাটে পর্যাপ্ত সবজি থাকলেও ক্রেতা একেবারেই কম। করোনাভাইরাসের কারণে এখন দেশব্যাপী চলছে হোম কোয়ারেন্টিন। তারই প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে।

দোহাজারী রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন বাজারে সবজি বিক্রি করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ক্রেতার দেখা মিলছে না।

কৃষক হাটে সবজি বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দুরের কথা সবজি আনতে যে পরিবহন ভাড়া খরচ করেছেন তাও তুলতে পারছেন না। সব ধরনের সবজির দামই কম। আর টমেটো কেউ টাকা দিয়ে কিনছেন না। ফলে হাটে টমেটে বিক্রি করতে না পেরে অনেকে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছেন।

কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ৫-৭ টাকা, টমেটো-১-২ টাকা, শিম ৮-১০ টাকা, মরিচ ১০-১২ টাকা, তিতা করলা-১০-১৫ টাকা, মিষ্টি কুমরা প্রতি পিস (আকারভেদে) ১০-১৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস (আকারভেদে) ৬-১০ টাকা, মুলা ১০ টাকা, বরবটি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঙ্খিত দাম না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে তাঁরা বলছেন, “সবজি বিক্রি করে উৎপাদন খরচতো দূরের কথা, বাজারে আনার গাড়ি ভাড়া পর্যন্ত দিতে পারছিনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে।”

পাইকারী ক্রেতা আব্দুল আলীম বলেন, “করোনা সংক্রমন ঠেকাতে চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে ক্রেতা উপস্থিতি কম। তাছাড়া বিকাল ৪টার মধ্যে বাজার বন্ধ হয়ে যায়। সবজি কিনে ট্রাকযোগে চট্টগ্রাম পৌঁঁছানো এবং বিক্রির জন্য প্রক্রিয়াধীন করতে করতে হাতে তেমন একটা সময় থাকেনা। সেজন্যই বিক্রেতাদেরও প্রতিদিন লোকসান গুণতে হয়। তাই চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন পাইকারেরা।”

সবজি পরিবহন কাজে নিয়োজিত গাড়ি চলাচলে কোন প্রতিবন্ধকতা হচ্চে কিনা জানতে চাইলে দোহাজারী হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমরা চেকপোস্ট বসিয়ে গনপরিবহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেও মালবাহী যানহবাহনগুলো আগের মতই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে”

দোহাজারী ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই মতিয়ার বলেন, “মালবাহী যানবাহন চলাচলে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা হচ্ছেনা। সবজি যেহেতু পচনশীল পণ্য, সেহেতু সবজি পরিবহন কাজে নিয়োজিত গাড়িগুলো বাধা দেয়া হচ্ছেনা।”