চন্দনাইশ প্রতিনিধি: চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ডাস্টবিন না থাকায় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মেডিকেল বর্জ্য যেমন, রক্ত-পুঁজ মিশ্রিত তুলা ও গজ ব্যান্ডেজ, ইঞ্জেকশনের খালি শিশি, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুচ, স্যালাইনের ব্যাগ খোলা যায়গায় স্তুপ করে রাখার ফলে বাতাসে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে বর্জ্যগুলো।
এসব চিকিৎসা বর্জ্য থেকে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত দ্রব্য, ক্ষতিকর ধাতু ও রাসায়নিক পদার্থ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।
এই বর্জ্যগুলোর বেশিরভাগই কমবেশি সংক্রামক জীবাণুর বাহক। কখনও পোড়ানো হয়, কখনও বা খোলা আকাশের নিচেই ফেলে রাখা হয় এসব বর্জ্য।
হাসপাতালে রোগীরা যান সুচিকিৎসার আশায়, রোগ মুক্তির প্রত্যাশা নিয়ে। রোগ মুক্ত না হয়ে, বরং সেই হাসপাতাল থেকেই যদি রোগের উৎপত্তি হয়, তাহলে বিষয়টি কেমন দাঁড়ায়?
চিকিৎসা বর্জ্যের কারনে হেপাটাইটিস বি ও সি, নানা ধরনের চর্মরোগ, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহসহ অনেক রোগ ছড়াতে পারে। আর হাসপাতালে ভর্তি অনেক সাধারণ রোগীও এসব রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ডাস্টবিন স্থাপণপূর্বক চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন নাগরিকদের।
এব্যাপারে দোহাজারী ৩১শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আবু তৈয়্যব বলেন, “ফান্ড না থাকায় ডাস্টবিন স্থাপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসা বর্জ্যগুলো সনাতন পদ্ধতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বল্পতার কারনে নিরাপদ দূরত্বে বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, “দোহাজারী হাসপাতালে ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পৌর প্রশাসক বরাবরে পত্র প্রেরণ করার নির্দেশনা দেন। তাঁর সে নির্দেশনার আলোকে ইতিমধ্যে দোহাজারী পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। শীঘ্রই ডাস্টবিন স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন তারা।”
এব্যাপারে দোহাজারী পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম জমির উদ্দিন বলেন, “দোহাজারী হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে প্রশাসক মহোদয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর সে নির্দেশনার আলোকে প্রাক্কলন চুড়ান্ত করা হয়েছে। স্থান নির্বাচন সম্পন্ন হলে শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।”








