নিউজটি শেয়ার করুন

ধলঘাটা ভোটার মাঠ দখল নিতে মরিয়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, প্রচার-প্রচারনায় সরব জনপদ

এ.এম হোবাইব সজীব, মহেশখালীঃ আগামী বছরের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু এরই মধ্য সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ও গণসংযোগে এখন পুরোদমে নির্বাচনী হাওয়া বইছে মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নে। উক্ত ইউপিতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে অর্ধডজন সম্ভাব্য প্রার্থী এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে তৎপরতা বেশি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিরা।

এছাড়া রয়েছে বিএনপির শক্তিশালী সম্ভাব্য একক প্রার্থীও। এই ইউপিতে নারী-পুরুষ মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি। এবার এ ইউনিয়নের জনগন চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ। যার কারণে এবার চেয়ারম্যান যেই হোক না কেন কঠিন পরীক্ষার সন্মুখীন হতে হবে এ ইউনিয়নে। কারণ এ ইউনিয়নে সরকারের বড় বড় মেগা প্রকল্প হতে যাওয়ায় এটি বর্তমান সরকারের পেষ্টিত ইস্যুর আসন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা। চলছে চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ। প্রার্থীদের প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে উক্ত জনপদ। ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর বুধ ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বিভিন্ন ভোটারের সাথে অালাপ কালে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলা অাওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান অাহসান উল্লাহ বাচ্চুর জনপ্রিয়তা অাগের চেয়ে বেড়ে গেছে।

এমন কি আলাপ কালে কয়েকজন ভোটার জানান, গত নির্বাচনে সাবেক চেয়ারম্যান অাহসান উল্লাহ বাচ্চুর জনপ্রিয়তা থাকলে ও দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়নি। এতে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন ও করেন নি তিনি। দলের দেয়া প্রার্থীকে বিজয় করতে অাপ্রাণ চেষ্টা করেন। বিজয় ও করেন দলীয় প্রার্থী কামরুল হাসান কে। কিন্তু এবার ধলঘাটা বাসী নাছোঁড় বন্দা। অাহসান উল্লাহ বাচ্চুকে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চায় নারী-পুরুষরা।

ভোটাররা জানান, আহসান উল্লাহ বাচ্চুকে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করলে বি এন পি’র প্রার্থী সরোয়ার আলম হবে ২ নম্বর, বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল হাছান কে দলীয় প্রার্থী দিলে ঠাঁই হবে ৩ নম্বরে। এসব মন্তব্য সকলের মুখে মুখে। ভোটাররা মনে করেন নির্বাচনে বাচ্চু নৌকা প্রতীক পেলে মূল লড়াই হবে বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি সরওয়ার আলমের সাথে। অপরদিকে ধলঘাটা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তথা ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মদ সরওয়ার আলম ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে বুধবার বিকেলে তার নিজ নির্বাচনি এলাকা ধলঘাটা বিশাল শোডাউন করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। অনেকটা নির্বাচনি মাঠে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকে আহছান উল্লাহ বাচ্চু, বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসান, সাবেক (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক, বিএনপির একক প্রার্থী বিশিষ্ঠ ঠিকাদার ও সমাজ সেবক সরওয়ার আলম, যুবলীগ নেতা কামাল উদ্দিন, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বখতিয়ার আলম। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক ভোটার মাঠে সরব থাকায় তিনি নৌকার মনোনয়ন পেলে জয় হবেন মনে করছেন অনেকে। তিনি ও নৌকার মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন এমনটি মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। অন্যদিকে অত্র ইউনিয়নের সাবেক (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বিগত ১৯৯৬ সাল থেকে দুই হাজার সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে চার বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন ধলঘাটা দূর্গম ইউনিয়নে।

ভোটাররা জানান, নুরুল হক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালিন চার বছরে সে সময়ে তিনি যা উন্নয়ন করেছিলেন এর বাইরে এখন ডিজিটাল যুগে সিকি পরিমাণ কিছু হয়নি। জীবনের শেষ বয়সে বঙ্গবন্ধু প্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা নৌকার টিকেট পেলে ভোট ব্যাংক সৃষ্টি করে মসনদ নিজের কব্জায় নিয়ে নিতে পারেন এমনটা মনে করছেন ভোটাররা। সর্বোপরি নৌকার টিকেট পেলে ধলঘাটাবাসী নেতৃত্ব হিসাবে বেঁচে নিতে পারেন মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হককে।

এমনকি সাপমারার ডেইলের ৩ জন ব্যক্তির সাথে আলাপ করা হলে তারা জানান, কামরুল হাসানের এর বাড়ী সূতুরিয়ায় হলে ও সাপমারাডেইল কেন্দ্র তাদের ঘাঁটি। তবে এবার সাপমারাডেইল কেন্দ্র হবে কামরুলের জন্য শনির দশা। তারা অারো বলেন বি এন পির প্রার্থী সরোয়ার আলম আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী উক্ত কেন্দ্রে এগিয়ে থাকবে। অপরদিকে উন্নয়নের সেকি পরিমাণ ছোঁয়া না লাগায় এবার কামরুলের অবস্থা কাহিল এমনটি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একটি অংশ।