আসন্ন চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীর জমাদেয়া নির্বাচনি হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে নগদ টাকা ও মামলার পরিমান বেশী বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের৷ অতীত, বর্তমানে কোন ফৌজদারী মামলার আসামী হয়নি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন৷ মোছলেম উদ্দিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.কম আর আবু সুফিয়ান কামিল হাদিস (এম.এ)।
দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেমের হাতে নগদ ১৮ লাখ টাকা আর নিজ নামে ব্যাংকে জমা আছে ১৬ লাখ টাকা। তার প্রাধন প্রতিদ্বন্দি আবু সুফিয়ানের হাতে নগদ ৫০ লাখ ৯৬ হাজার ৮৩৩ টাকা থাকলেও ব্যাংকে কোন টাকা জমা নেই৷
বিএনপি দলীয় প্রার্থী আবু সুফিয়ানের নামে বর্তমানে ফৌজদারী মামলা আছে ১৯টি। যার মধ্যে ১১টি বিচারাধিন আর ৮টি মামলা তদন্তাধিন রয়েছে। এছাড়া আগে দুটি মামলার একটি থেকে খালাস আর আরেকটি মামলার চার্জসীট থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন৷
প্রয়াত জাসদ নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদের নগদ ও ব্যাংক আমানত এবং ব্যবসার মূলধনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫৮০ টাকা। হলফনামায় তার বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৪ টাকা এবং বার্ষিক ব্যয় ১১ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। মোছলেম উদ্দিনের স্ত্রীর আয় ১০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের দাখিলকৃত হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কাছে নগদ আছে ৫০ লাখ ৯৬ হাজার ৮৩৩ টাকা। স্টেডিয়াম এলাকায় অবস্থিত ক্ল্যাসিক ডোরস নামক প্রতিষ্ঠানে তার ৫০ শতাংশ শেয়ার বাবদ আছে ৫ লাখ টাকা। ক্ল্যাসিক ডোরসের নামে জুবিলি রোড এবি ব্যাংক শাখা থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এরমধ্যে বর্তমানে ঋণের স্থিতির পরিমাণ ২৩ লাখ ৮৫৬ টাকা।
মোছলেম উদ্দিনের হলফনামা অনুযায়ী, তার নামে দামপাড়া ইউসিবিএল ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ৩৪ লাখ ৯০ হাজার ৪২০টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ টাকা আছে ১৮ লাখ। নিজ নামে ব্যাংকে আছে ১৬ লাখ টাকা। মোট টাকার পরিমাণ ৩৪ লাখ। নিজ নামে আছে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নিজের নামে ২টি গাড়ির দাম ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
কধুরখীল ও লালখান বাজারে পৈত্রিক সম্পত্তির পরিমাণ ২ দশমিক ২৩ একর। ২টি বাড়ির মধ্যে লালখান বাজারে ৬ তলা বিশিষ্ট আবাসিক দালানের মূল্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৭২ টাকা। কৃষি জমির পরিমাণ ২ একর, মূল্য ১১ লাখ টাকা।

মোছলেমের ব্যবসার মোট মূলধনের পরিমাণ মেসার্স তিথী এন্টারপ্রাইজের ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, মহানগর প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩০০ টাকা। বাড়ির কৃষি জমি থেকে বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৪ টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় করেন ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। মোছলেমের স্ত্রীর ২০ ভরি স্বর্ণ, দাম ৫ হাজার টাকা রয়েছে। নগদ টাকা ১ লাখ ১৪ হাজার এবং স্ত্রীর নামে ব্যাংকে এফডিআর ৫৬ লাখ টাকা।হলফনামায় বাসার সোফা, আলমিরা, চেয়ার টেবিল, ড্রেসিং টেবিলসহ মোট আসবাবপত্রের দাম উল্লেখ করা হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। মোছলেম উদ্দিনের স্ত্রীর একটি গাড়ীর দাম উল্লেখ আছে ১৮ লাখ টাকা৷বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের দাখিলকৃত হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কাছে নগদ আছে ৫০ লাখ ৯৬ হাজার ৮৩৩ টাকা। ক্ল্যাসিক ডোরস এর ৫০ শতাংশ শেয়ার বাবদ আছে ৫ লাখ টাকা। ক্ল্যাসিক ডোরসের নামে জুবিলি রোড এবি ব্যাংক শাখা থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এরমধ্যে বর্তমানে ঋণের স্থিতির পরিমাণ ২৩ লাখ ৮৫৬ টাকা।
আবু সুফিয়ানের একটি কার ও একটি পিকআপ বাবদ ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৯৬ টাকা এবং নিজ নামে ২০ তোলা স্বর্ণ উল্লেখ আছে যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা। বাসার আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সুফিয়ানের কাছে ৭৩ লাখ ২৮ হাজার ৪০২ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮৭ লাখ ২৬ হাজার ২৬৭ টাকা। এরমধ্যে বিল্ডিংয়ের মূল্য ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ টাকা। অকৃষি জমির মূল্য ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। চা বাগান ও মৎস্য খামার থেকে আয় ৬৯ হাজার ৬৭ টাকা।








