নিউজটি শেয়ার করুন

নগরজুড়ে ফাঁকা সড়কের সর্বত্রই এখন রাজত্ব রিকশার: গলাকাটা ভাড়া

মো: মহিন উদ্দীন: করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে বার বার লকডাউন। ফলে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নগরজুড়ে ফাঁকা সড়কে সর্বত্রই এখন রাজত্ব রিকশার। করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ থাকলেও অবাধে চলছে রিকশা।

মূলত এখন নগরীর রাস্তা রিকশার দখলে। আর গণপরিবহন না চলায় যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন রিকশা চালকরা এমন অভিযোগ যাত্রীদের।

তাছাড়া নগরীর চার প্রবেশপথ অক্সিজেন, নতুন ব্রিজ, কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও সিটি গেটে কড়া চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া কোনো গণপরিবহনকেই নগরে প্রবেশ ও বের হতে দিচ্ছে না প্রশাসন।

এদিকে লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকলেও সীমিত পরিসরে ব্যাংকসহ বিভিন্ন অফিস খোলা রয়েছে। গণপরিবহন না থাকায় রাস্তায় জরুরি পণ্যের ও ব্যক্তিগত গাড়ির তুলনায় রিকশার রাজত্ব বেশি।

রাব্বী, শিমু, ফারুক, অজয় ও রুপশ্রীসহ অনেক যাত্রী অভিযোগ করে সিপ্লাসকে বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রিকশাচালকরা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া আদায় করছেন। কর্মক্ষেত্রে যেতে আমরা রিকশাচালকদের বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছি। ধরতে গেলে রিকশা চালকদের কাছে আমরা এক প্রকার জিম্মী।

অক্সিজেন থেকে মুরাদপুর যাওয়া রফিক সিপ্লাসকে বলেন, কয়েকটি রিকশা দেখলে ৮০/৯০ টাকার নিচে যেতে রাজি না। আবার দুইজন হলে জন প্রতি ৬০ টাকা হলে যাওয়া যায়। করোনার মধ্যে দুইজন যাওয়াটা তেমন ভাল হবে না। তাই অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পরে ৭০ টাকা দিয়ে আসতে হল রিকশা দিয়ে। কারণ কিছুক্ষণ পর পর থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। তার জন্য বাধ্য হয়ে অনেকেই দরকষাকষি ছাড়াই রিকশা উঠে যায়।

রিকশাচালক সিরাজ, আজাদ, আলী, জাফর, রমজান, জাবেদ, বাচাসহ অনেকেই সিপ্লাসকে বলেন, আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রিকশা চালায়। তেল কিংবা গ্যাসে নয়, পায়ের শক্তি কিংবা শরীরের শক্তি দিয়েই চলে রিকশা। তাই আমাদেরকে বেশি ভাড়া দিলে কোন সমস্যা নেই। করোনার কারণে মানুষ এখন রিকশায় চড়ে, না হয় তারা লোকেল গাড়িতে করে চলাফেরা করে। লকডাউনের আগে রিকশায় তেমন ভাড়া হতো না।

ভোলা থেকে আসা মালেক (৫৫) নামে এক ব্যাটারী চালিত রিকশা চালক সিপ্লাসকে বলেন, বাবা আমার একটি পা নেই। করোনার কারণে ভিক্ষাও করা যায় না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ভিক্ষা করার চেয়ে কর্ম করে খাওয়াটাই ভাল। তার জন্য ব্যাটারী চালিত রিকশা চালাতে লাগলাম। এ লকডাউনে সবার আয় রোজগার কমে গেছে। কিন্তু অনেক রিকশা চালক আছে যার কাছ থেকে যেভাবে পারে ভাড়ার টাকা নিচ্ছে। তবে আমি বেশি নিচ্ছি না কারণ আমিও তো আর ধনী না। আমার মত বলেই সবাই কাজে বের হয়েছে। যেমন অক্সিজেন থেকে ২নং গেইট যেতে অনেকেই ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। কিন্তু আমি ৫০ থেকে ৬০ টাকা হলেই যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম ট্রাফিক উত্তর বিভাগের এডিসি মো: রাশেদুল ইসলাম সিপ্লাসকে বলেন, কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ থাকায় জরুরী প্রয়োজনের জন্য মানুষ রিকশায় চলাফেরা করছে।

তবে নগরীতে কি পরিমাণ রিকশা আছে তা বলা মুশকিল বলে জানান তিনি।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here