Site icon CPLUSBD.COM

নগরজুড়ে মরণ ফাঁদ

নগরজুড়ে মরণ ফাঁদ

সিপ্লাস প্রতিবেদক: বন্দরনগরী চট্টগ্রাম জুড়ে এখন মরণ ফাঁদ। চলাচল করতে গিয়ে আতঙ্ক আর নানা দুশ্চিন্তা ভর করে গাড়ি চালক, যাত্রী এবং পথচারীদের মাঝে।

সারা বছর সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি, বড় বড় গর্ত, ঝুঁকিপূর্ণ ম্যানহোল, ফুটপাত বেদখল, সড়কের পাশে খাল ও নালায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ নানা কারণে প্রতিদিন ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। হচ্ছে জানমালের ক্ষতি। সামান্য বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে মানুষের জীবনযাত্রা।

ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরবে কিনা এমন অনিশ্চয়তা সবার মাঝে। এমন চিত্র ওঠে আসে সিপ্লাসের পর্যবেক্ষণে।

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর প্রতিটি এলাকায় বিরাজমান নানা ধরণের মরণ ফাঁদ। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় সারা বছর প্রতিটি সড়কে দফায় দফায় খোঁড়াখুঁড়ির চিত্র দীর্ঘদিনের। কোথাও খানাখন্দকে ভরা। আবার কোথাও বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি হলেই পানি আর কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা।

এমন অবস্থায় যানবাহন উল্টে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে যানবাহন হেলে দুলে চলতে গিয়ে যাত্রীদের সইতে হচ্ছে যন্ত্রণা। নষ্ট  হচ্ছে মানুষের শ্রমঘন্টা আর গাড়ির যন্ত্রাংশ। গাড়ি চালক, যাত্রীসহ বিভিন্ন মহলও ব্যক্ত করেছেন এমন অভিমত।

বিভিন্ন সড়কের ম্যানহোল ঢাকনাবিহীন। আবার কোন কোন ম্যানহোলে ঢাকনা থাকলেও যার উপর দিয়ে গাড়ি বা মানুষের যাতায়াত করতে গেলে দুর্ঘটনা অনিবার্য। কোথাও কোন ফুটপাতে নিরাপদে চলার সুযোগ নেই। বেশিরভাগ এলাকায় ফুটপাত বেদখল। আবার অনেক এলাকায় তা বিপদজনক ও  ব্যবহারের অযোগ্য। তাই ফুটপাত ছেড়ে রাস্তা দিয়েই হেঁটে চলেন পথচারীরা।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা এবং ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন উন্নয়নের বড় বড় প্রকল্পের কাজ এখন  চলমান। এসব প্রকল্পে নেই পরিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোথাও একটানা কাজ পরিচালিত না হওয়ায় সব কিছুতে অসম্পূর্ণতা। রাত কিংবা দিনে কোন সময়েই নির্বিঘ্নে চলার সুযোগ কোথাও নেই। সড়কের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পাথর, লোহা, ভারি যন্ত্রপাতি, পাইলিং সরঞ্জামসহ আরও নানা কিছু। সড়কের পাশে বিভিন্ন খাল ও নালার উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হলেও কোথাও কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।

জোয়ার অথবা সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে গেলে সড়ক আর খাল-নালা একাকার হয়ে পড়ে। তখন জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তার অন্যতম দৃষ্টান্ত গত ২৫ আগস্ট সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় আয়োজন রেষ্টুরেন্টের সামনে নালায় পড়ে সালেহ আহমেদ (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীর নিখোঁজের ঘটনা। এখনো পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি। দুর্ঘটনাস্থল ওই নালায় কোনো স্ল্যাব ছিল না।

এছাড়া গত ৩০ জুন নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় সিএনজি অটোরিক্সা নালায় পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়। এমন জানমালের ক্ষতির রয়েছে আরও অনেক দৃষ্টান্ত।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী সিপ্লাসকে বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে নগরী এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা তা প্রমাণ করে। এসব প্রকল্প চসিকের না হলেও আমরা চুপ থাকতে পারি না। বর্তমানে বিভিন্ন কাজ আমরা মনিটরিংয়ে রেখেছি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছি। উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদেরকে ভাবতে হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, অপরিকল্পিত এবং সমন্বয়হীন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মানুষের বসবাস এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জানমালের ক্ষতি তার বাস্তব উদাহরণ। বড় প্রকল্পের কাজে সেইফটি মেজার নেওয়া তো বাধ্যতামূলক। তা না করায় নগর জুড়ে এখন মরণ ফাঁদ।