Site icon CPLUSBD.COM

নগরীতে টিসিবির পণ্য কিনতে মধ্যবিত্তের ভিড়

সিপ্লাস প্রতিবেদক: সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি তারপরও ছাতা হাতে দীর্ঘ লাইন ধরে তারা অপেক্ষা করছেন টিসিবির পণ্য কিনতে। চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত জামালখানের চট্টগ্রাম সিনিয়র্স ক্লাবের সামনের চিত্র এটি।

এই এলাকায় সাধারণত মধ্যবিত্ত আর উচ্চ মধ্যবিত্তদের বসবাস। এইরকম অভিজাত এলাকায় টিসিবির পণ্য কিনতে যারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের অনেকেই মধ্যবিত্ত।

কিছুদিন আগেও টিসিবির লাইনে সাধারণত মধ্যবিত্তদের উপস্থিতির দেখা মিলত না। আর করোনাকালীন সময়ে এসব লাইনের অধিকাংশই এখন মধ্যবিত্ত।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় দুপুর বারোটা থেকেই লাইন দিয়ে টিসিবির পণ্যের জন্য বসে আছেন অনেকেই। গাড়ি আসবে বেলা দুইটায়।

তাদের সাথে সিপ্লাস প্রতিবেদক কথা বলে জানতে পারেন, কোনদিন সকালে আসে তো আবার কোনদিন বিকালে আসে টিসিবির গাড়ি। সকালে সাধারনত ১০ টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও অধিকাংশ সময়ই গাড়ি ঠিক সময়ে আসে না। আবার গাড়ি দেরিতে এসেও বেশিক্ষণ থাকে না। বিকালের চিত্রও একই। আবার বেশিরভাগ সময়ই তাদের পণ্যের মজুত খালি হয়ে যায় ফলে অপেক্ষমাণ ক্রেতাদের হতাশ হতে হয়।

সরেজমিনে আরও দেখা যায় ট্রাকে পণ্য বিক্রির তালিকায় রয়েছে চিনি, ডাল, সয়াবিন তৈল। প্রতি কেজি চিনি ও মসুর ডাল ৫৫ টাকা আর সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তবে পণ্য বিক্রি হচ্ছে প্যাকেজ আকারে, প্রতি প্যাকেজ ৩৬৫ টাকা। প্রতি প্যাকেজে থাকছে চিনি ২ কেজি, ডাল ১ কেজি, সয়াবিন তেল ২ লিটার। সবমিলেয়ে প্রতি প্যাকেজের জন্য ক্রেতাদের ৩৬৫ টাকা দিতে হচ্ছে। ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব গাড়ি থেকে প্যাকেজেই পণ্য কিনতে হয়। যদিও প্যাকেজে পণ্য বিক্রির কোন নিয়ম নাই। তবুও তারা নিজ স্বার্থে এভাবেই পণ্য বিক্রি করে যাচ্ছে। এতে ক্রেতাদের নানা অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কোন একটি পণ্যের প্রয়োজন না হলেও বাধ্য হয়ে তা টিসিবির গাড়ি থেকে কিনতে হচ্ছে অন্য পণ্য পাওয়ার সুবিধার্তে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা সিপ্লাসকে বলেন, আমি এসেছিলাম সয়াবিন তেল আর চিনির জন্য কিন্তু বাধ্য হয়ে আমাকে ডালও কিনতে হল। অনেক অনুরোধ করেও কোন কাজ হয়নি। ডিলারের এক কথা, প্যাকেজেই পণ্য কিনতে হবে। আলাদা আলাদা পণ্য বিক্রি করবে না তারা।

আরেকজন ক্রেতা বলেন, ডিলার যদি এসব পণ্য আগে থেকেই প্যাকেট করে আনত তাহলে আমাদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। তারা একে তো ঠিক সময়ে আসে না আবার আসলেও পণ্য বিক্রিতে অনেক সময় নেয়। এতে ক্রেতাদের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই অসুস্থ বোধ করেন। বিশেষ করে টিসিবির পণ্য কিনতে আসা নারীরা নানামুখী অসুবিধার সম্মুখীন হয়।

ক্রেতাদের এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে টিসিবির পণ্য বিক্রেতা মেসার্স জাহাঙ্গীর স্টোরের বিক্রয় কর্মীরা সিপ্লাসকে বলেন, আমরা কাউকে প্যাকেজে পণ্য কিনতে বাধ্য করছি না। ক্রেতাদের চাহিদামতো আমরা পণ্য বিক্রি করছি। কেউ প্যাকেজে পণ্য কিনতে চাইলে তাকে সেভাবে দিচ্ছি আর কেউ খুচরো পণ্য কিনতে চাইলে তাকেও চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করছি আমরা।

ঠিক সময়ে গাড়ী উপস্থিত না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারা বলেন, মাঝেমধ্যে যানজট বা অন্য কোন কারণে আমাদের দেরী হয় কিন্তু এইটা কদাচিত। আমরা ক্রেতাদের সাধ্যমতো পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করি। কাউকে খালি হাতে ফেরত দিই না। পণ্য সরবরাহের সুবিধার্তে পণ্য প্যাকেটজাত করে কেন আনা হয় না জানতে চাইলে মেসার্স জাহাঙ্গীর স্টোরের বিক্রয় কর্মীরা সিপ্লাসকে বলেন, আমরা যদি প্যাকেট করে আনি তাহলে ক্রেতারা তা নিতে চায় না। ক্রেতারা চায় তাদের সামনেই যেন মেপে দেই।

মধ্যবিত্তরা টিসিবির পণ্যের লাইনে ভীড় করছে কখন থেকে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই টিসিবির পণ্য বিক্রি করছি। আগে সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষেরা আমাদের পণ্যের মূল গ্রাহক ছিল। কিন্তু ইদানীং বছরখানেক ধরে দেখছি মধ্যবিত্তরাও আমাদের পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। মাস চারেক ধরে তো আমাদের ক্রেতাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত। অনেকেই লাইনে দাঁড়াতে বিব্রত বোধ করেন। আবার অনেকেই একদম পরে এসে পণ্য কিনে নিয়ে যান। বাজারে সয়াবিন আর চিনির উর্ধ্বমূল্যের কারণে মধ্যবিত্তরা টিসিবির পণ্যের লাইনে ভীড় করছে বলে ধারণা করছেন এসব বিক্রয়কর্মীরা। টিসিবির পণ্য কিনতে প্যাকেজ বিড়ম্বনা দূর করে প্যাকেটজাত করে পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতাদের ভোগান্তি দূর হবে বলে মনে করছেন গ্রাহকেরা।