সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুরুতরভাবে আহত হওয়া মো: শাহাদাৎ হোসেনের চিকিৎসা খরচের সহায়তা চেয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসা সহায়তার আবেদনের অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ও চট্টগ্রামের নির্বাহী পরিচালক বরাবরও দেয়া হয়।
চিকিৎসা সহায়তার আবেদন প্রেক্ষিতে জানা যায়, সাতকানিয়া উপজেলার ১৬ নং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রুপকানিয়া এলাকার হতদরিদ্র আহমেদ হোসেনের পুত্র মো: শাহাদাৎ হোসেন পরিবারের জীবন জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম নগরীতে ভ্রাম্যমান হকারী করে চলে তাদের সংসার। প্রতিদিনের মত গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় নিউমার্কেটের পাশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমানা দেয়ালের ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাংকের ভেতরে থাকা কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিলে দেয়ালের উপরের কিছু অংশ ভেঙে পথচারীদের উপর পড়লে তখন আমার ভাই গুরুতরভাবে আহত হয়। তখন প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার আইসিইউতে ভর্তি করার জন্য বলে। এ মন অবস্থায় চমেক হাসপাতালে আইসিইউতে কোন বেড না থাকায়, সেখান থেকে গুরুতর আহত শাহাদাৎকে নগরীর ডেল্টা হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে ভর্তি করা হয়।
সেখানে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা বয়্যের বিল এসেছে ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা। যা আমাদের মত অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে পরিশোধ করা মোটেও সম্ভব নয়। তারপরও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন ও সুদের বিনিময়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করি। এ সব বেসরকারি হাসপাতালে আমাদের মত গরীব অসহায় পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা করা মোটেও সম্ভব নয়। তাই কোন মতে ডেল্টা হাসপাতাল থেকে আবারও এমন অবস্থায় ভাইকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে এসে আইসিইউর ১২নং সিটে ভর্তি করানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ধারদেনা করে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের কোন অর্থপ্রাপ্তির উৎস নেই। তাই পরিবারের একমাত্র উপার্জন আমার ভাইকে বাচাঁনোর জন্যে চিকিৎসা খরচ ও আর্থিক সহায়তার প্রার্থনা করেছেন পরিবারের পক্ষ থেকে বোন তাসরিয়া সোলতানা।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কোতোয়ালী থানা এলাকায় চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন চত্বরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় সীমানা প্রাচীর ভেঙে ৭ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মো: শাহাদাৎ হোসেন অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতরা হলেন, সেন্টু মোহাম্মদ (২৮), মো. সেলিম (৩১), দীপক ধর (২৮), বেলাল (৩৫), পলাশ (৫৫), বাকি দুইজন অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। অজ্ঞাত এই পুরুষ একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন। ঘটনার পরপরই সেখানে যান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের ভেতরে একটি কাভার্ডভ্যান ঘোরানোর সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
খবর পেয়ে নন্দনকানন ফায়ার সার্ভিস থেকে একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়। স্টেশনটির সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ১০ মিনিটেই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেখানে ১০০ ফুটের মতো সীমানা প্রাচীরের উপরের অংশ ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হলেও কেউ মারা যাননি। ভাগ্য ভালো যে পুরো দেয়ালটি ধসে পড়েনি।’
বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের জেনারেল ম্যানেজার শামসুল হক বলেন, ‘ব্যাংকের ভেতরে ট্রেজারির চালান পরিবহন করতে আসা একটি বড় কাভার্ডভ্যান এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। চালক সম্ভবত নতুন হওয়ায় তিনি গাড়ি ঘোরানোর সময় দেয়ালে ধাক্কা দেন। এতে আমাদের সীমানা প্রাচীরের দেয়ালের উপরের গ্রিল ভেঙে নীচে ফুটপাতে পড়ে। এ ঘটনায় আমাদের ব্যাংকের কেউ আহত হননি।








