Site icon CPLUSBD.COM

নগরীতে ময়লা-আবর্জনা যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী; করোনা তাদের আজও ছোঁয়নি

জোবাইর রিফাত: পরিচ্ছন্নতাকর্মী কিংবা সেবক।ময়লা-আবর্জনা যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।দিনরাত এরাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে করোনাকালে চট্টগ্রাম নগরীকে আবর্জনামুক্ত রাখছে। করোনাকালে কোনো ধরণের সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া তারা দিনের পর দিন চসিকের ৪১ টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লার গাড়ি লোড করাতে ব্যস্থ সময় পার করছে।অথচ অবাক করা বিষয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৬৪৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কেউই এখনো অবধি করোনা আক্রান্ত হয়নি কিংবা তাদের কেউই কোভিড উপসর্গেও ভোগেনি।

দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাকালীন সময়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ রাতে করলেও করোনা আসার পর থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনের বেলাতে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করে।করোনার কারণে যেখানে পুরো পৃথিবী কিংবা দেশজুড়ে যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়, সেখানে এদের বাস্তবতাটা বেশ অন্যরকম।

করোনাকালে সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া কাজ করছে কেন প্রশ্ন করলে তাদের একজন মানিক সিপ্লাসকে বলেন, ‘আমাদের করোনার শুরুতে সিটি কর্পোরেশন থেকে কেবল একটি ১০ টাকা দামের মাস্ক আর একজোড়া হ্যান্ড গ্লাভস দেয়া হয়েছিলো। এছাড়া আমরা আর কিছুই পাইনি। তবে কিছুই করার নেই পেটের দায়ে দায়িত্বের খাতিরে কাজ করতে হবেই।

নগরীর আলমাস মোড়ে যারা কাজ করে তারা সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া কাজ করছে। তাই আমরা গেলাম চকবাজার। সেখানে গিয়েও দেখি অবস্থা একই। মুখে মাস্ক, খালি হাত বা বুটজুতো এখানেও কারোর কাছে কোনো সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। তবে তাদের এইসবকিছুর পেছনে যথেষ্ঠ যু্ক্তি এবং রাগ-ক্ষোভও আছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী গোবিন্দ বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার অশেষ দোয়ায় আমাদের করোনা হয়না।কেন হয়না সেটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা জানেন। তবে আমরা খুবই অবহেলিত। চারমাসে মিলে একটি মাস্ক ও একজোড়া হ্যান্ড গ্লাভস খুবই অপ্রতুল। মাস্কটি নেয়ার ৩ দিনের মাথায় ছিঁড়ে গিয়েছে।

তাদের কেউ করোনাক্রান্ত হলে কোনো প্রণোদনা কিংবা অর্থায়ন বা সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘না এধরণের কোনো প্রতিশ্রুতি আমরা পাইনি।আমাদের যে কাজ এখানে আমাদের প্রত্যহ সুরক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার। করোনাকালে সাধারণ বর্জ্যের পাশাপাশি আমরা করোনা রোগীর ময়লা আবর্জনাও খালি হাতে পরিষ্কার করছি। এভাবেই আছি। দেখার কেউ নেই।

কর্পোরেশনের এই সেবকদের কেউ করোনাক্রান্ত হলে কর্পোরেশন তাদের কি কি করবে? কেন তারা দেশে করোনা শুরুর পর থেকে কোনো ধরণের সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া কাজ করছে? তাদের দেখভালসহ যাবতীয় বিষয় নিয়ে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল আদনান সিদ্দিকীর জিসুর।

তিনি বলেন, আমাদেরও কিছু বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেহেতু করোনার জন্য চসিকের আলাদা কোনো বাজেট নেই তাই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আর কিছু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। শুরুর দিকে আমরা যা পেরেছি তাই দিয়েছি। এরপর থেকে আমাদের আর কিছুই করার নেই।

আমাদের ৩৬৪৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কারো করোনা হয়নি। তবে কেউ করোনাক্রান্ত হলে কিংবা করোনা নিয়ে মারা গেলে তাদের জন্য মেয়র মহোদয় বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখেছেন বলে জানান তিনি।